ফের বিক্ষোভে অচল ঢাকা

জীবন আহমেদ : মাত্র আট মাসের মাথায় ফের নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে শিক্ষার্থীরা। জাবালে নূর বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুও প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ওই আন্দোলন নাড়া দিয়েছিলো দেশজুড়ে। এ আন্দোলন থামাতে সরকারের তরফ থেকে তখন দেয়া হয়েছিলো নানা প্রতিশ্শ্ররুতি । নেয়া হয়েছিলো নানা উদ্যোগও। কিন্তু এতে যে কাজের কাজ কিছুই হয়নি, তা আট মাস পরের আরেক ঘটনা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো। গত ১৯ মার্চ, মঙ্গরবার, দুই বাসের রেষারেষির মাঝে পড়ে ফের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনাল্‌স- বিইউপি’র শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীর। চোখের সামনে সহপাঠীর এমন করুণ মৃত্যু মেনে নিতে পারেনি তার সতীর্থরা। প্রতিবাদে ঘটনার পর থেকেই সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামে তারা।
দিনভর চলা বিক্ষোভে রাজধানী ঢাকার প্রায় অর্ধেক এলাকা অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ যানজটে পড়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে লাখো মানুষকে।

আন্দোলনকারীরা আগেরবারের আন্দোলনের মতোই শ্লোাগান দিয়েছে নিরাপদ সড়কের দাবিতে। তাদের মুখে মুখে ছিলো- ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ শ্লোগান। দিনভর অবস্থান কর্মসূচির পরও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

গত ১৯ মার্চ, মঙ্গলবার, সকাল সোয়া ৭টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ফটকের সামনের জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পারাপারের সময় ‘সুপ্রভাত কোম্পানির’ দুই বাস প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে পিষে ফেলে বিইউপি’র ওই শিক্ষার্থীকে। ঘটনাস্থলেই আবরার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সহপাঠীরা। সঙ্গে সঙ্গেই সড়কে অবস্থান নেয় তারা। কুড়িল থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত কয়েক স্তরে অবরোধ করে বিইউপি’র শিক্ষার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরো জোরালো হয় তাদের আন্দোলন। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। সকাল দশটার পর থেকে কুড়িল চৌরাস্তা থেকে নর্দ্দা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে তাদের অবস্থান।

এ সময় শিক্ষার্থীরা আট দফা দাবি উত্থাপন করে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে- পরিবহন সেক্টরকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা এবং বাসচালকদেও প্রতি মাসে লাইসেন্স চেক করা; আটককৃত চালক ও জড়িত সবাইকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা; ফিটনেসবিহীন বাস ও লাইসেন্সবিহীন চালককে দ্রুত অপসারণ; দায়িত্ব অবহেলাকারী প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশকে স্থায়ী অপসারণ কওে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া; চলমান আইনের পরিবর্তন করে সড়ক হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা; প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চলাচল বন্ধ করে নির্দিষ্ট স্থানে বাসস্টপ এবং যাত্রীছাউনি করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা ও ছাত্রদের হাফ পাস (অর্ধেক ভাড়া) অথবা আলাদা বাস সার্ভিস চালু করা।

এসব দাবি ছাড়াও শিক্ষার্থীরা মৌখিক কিছু দাবিও তুলে ধরে আন্দোলনে। এগুলো হলো- আবরারকে চাপা দেয়া বাসের চালককে ১০ দিনের মধ্যে ফাঁসি দিতে হবে; সুপ্রভাত বাসের রুট পারমিট বাতিল; সিটিং সার্ভিস বন্ধ; স্টপেজের ব্যবস্থা করা; চালকদের ছবি ও লাইসেন্স গাড়িতে ঝোলানোর ব্যবস্থা করা; প্রতিটি জেব্রা ক্রসিংয়ে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক পুলিশের ‘দুর্নীতি’ বন্ধ করা।