ফ্রাইড চিকেন ও মৃত্যুঝুঁকি

ঠিকানা রিপোর্ট: নারী শিক্ষা ও নারী আন্দোলনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া শতাধিক বছর পূর্বে বলেছিলেন: ভোজন বিলাসী বাংলার তথাকথিত মুসলিম কুলিণ সম্প্রদায় মুখরোচক খাবার গোগ্রাসে গিলে নিজেদের অকাল মৃত্যুকে ডেকে আনেন। রোকেয়া আরও বলেছিলেন, রসনা পূজারী মুসলমানরা নিজেদের হজম যন্ত্রের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ তৈল মশলাযুক্ত খাবার মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে ভক্ষণ করে বলতে গেলে সারা বছরই অসুস্থ থাকে। তাদের নিকট অসুস্থ থাকা কৌলিণ্যের পরিচায়ক হয়ে পড়েছে।
একবিংশ শতাব্দীর জ্ঞান-বিজ্ঞানের পরম মাহেন্দ্রক্ষণেও বেগম রোকেয়ার বক্তব্য আক্ষরিক সত্য হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে। আজকাল সমগ্র বিশ্বে ফাস্ট ফুড বা চটজলদি খাবারের জনপ্রিয়তা উত্তরোত্তর তুঙ্গে উঠছে। অথচ ফাস্ট ফুড মানুষকে দ্রুত গতিতে মৃত্যুর মুখে ধাবিত করছে। ফাস্ট ফুড শুধুমাত্র দেহের জন্য বরং
মস্তিষ্কের জন্যও ভয়ানক বিপদ ডেকে আনে। অতিমাত্রায় ফাস্ট ফুড ভক্ষণ বিষন্নতা ও উদ্বেগ জন্মায় এবং ধীরে ধীরে চিন্তা করার ক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি এবং জ্ঞানার্জনের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া করে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে- প্রত্যহ অন্তত একবার ফ্রাইড চিকেন খেলেই মৃত্যুঝুঁকি ১৩ শতাংশ বেড়ে যায়। গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়: স্বাভাবিক খাবার গ্রহণকারী মহিলাদের তুলনায় যে সকল নারী দিনে অন্তত একবার ফ্রাইড চিকেন কিংবা ফ্রাইড ফিস খান তাদের মৃত্যুঝুঁকি ১৩% বেশি। গবেষণা দলের প্রধান ইউনিভার্সিটি অব আইওয়ার রোগবিস্তার-সংক্রান্ত বিভাগের অধ্যাপক ওয়েই বোয়া বলেন, অবশ্য পরিমিত মাত্রায় ফ্রাইড চিকেন বা ফ্রাইড ফিস খাওয়া হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য তেমন ক্ষতিকর নয়, বরং কিছুটা উপকারী। বোয়া আরও বলেন, ফাস্ট ফুডের ক্ষতিকারক দিকগুলো সম্পর্কে বিশ্ববাসীর ধারণা নেই বলে আমেরিকাসহ সারা বিশ্বে এর চাহিদা ও জনপ্রিয়তা উত্তরোত্তর বাড়ছে।
গবেষণা কাজে ১৯৯৩ সাল থেকে ১৯৯৮ সালের মধ্যে ৫০ থেকে ৭৯ বয়সী এক লাখ ৭ হাজার নারীর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। অন্তত ১৮ বছর ধরে একই ধরনের খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাদের তথ্য-উপাত্তকে গুরুত্ব দেয়া হয়। গবেষণায় দেখা গেছে হৃদরোগীদের চেয়ে যে সকল নারী দিনে অন্তত একবার ফ্রাইড চিকেন খায় তাদের মৃত্যুঝুঁকি ৮ শতাংশ বেশি । আবার নিয়মিত ফ্রাইড চিকেন খেতে অভ্যস্তদের মৃত্যুঝুঁকি অন্যদের থেকে ১৩% এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ১২% বেশি থাকে। তবে ফ্রাইড ফুড খাওয়ার সঙ্গে ক্যান্সারের ঝুঁকি সম্পর্কে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।