ফ্রান্সে কাউন্সিলর নির্বাচিত বাংলাদেশি মেয়ে শারমিন আবদুল্লাহ

বাংলাদেশের মেয়ে শারমিন হক আবদুল্লাহ। তিনি ফ্রান্সের ইতিহাসের প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে প্যারিসের উপকণ্ঠের গুরুত্বপূর্ণ একটি পৌরসভার (ফরাসি ভাষায় মেরি) পিয়ারফিতের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। ফরাসি রাজনৈতিক কাঠামোতে এই ধাপটি প্রথম হলেও যেকোনো বাংলাদেশির জন্য এই মুহূর্তে অসম্ভবীয় একটি অর্জন।
আগামীতে শারমিনসহ আরো অনেকেই ফরাসি সংসদ সদস্যসহ মেয়র-মন্ত্রী হবেন কিন্তু শারমিনের এ অর্জন ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সবার প্রিয় ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আল বাকীর সন্তান শারমিন আবদুল্লাহ উত্তরোত্তর আরো এগিয়ে যাবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
শারমীন ১৯৯৩ সালে ফ্রান্সে আসেন। ফ্রান্সেই তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। ফরাসি শিক্ষা ব্যবস্থায় উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর মার্কেটিং বিষয়ে ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১২ সালের বাংলাদেশের আরিফুল হকের সাথে ঘর বাধেন শারমীন। তার স্বামীও ফ্রান্সে বাস করেন। শারমিন বলেন, তার নিজ অবস্থান থেকে বাংলাদেশের জন্য রয়েছে কাজের সুযোগ। মাত্র সাত বছর ফ্রান্সের মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে তিনি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ২০১৪ সালের ২৩ মার্চ প্রথম দফা ও ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় কাউন্সিলর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তার দল সোশ্যালিস্ট পার্টির হয়ে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং ষাট শতাংশ ভোট তাদের পক্ষে পড়ে। মেয়র মিশেল ফরকেদের প্যানেলে ২৭ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পরে সেই ২৭ জন থেকে একজনের মৃত্যু হলেশূন্য পদে নির্বাচিত হন বাংলাদেশি শারমিন হক।
নিয়ম অনুযায়ী তিনি আরো প্রায় তিন বছর কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করবেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদসহ বড় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। বাংলাদেশি নতুন প্রজন্মকে ফ্রান্সের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।