ফ্রান্সে বিতর্কিত কঠোর অভিবাসন আইন পাস

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : অনেক বাদ-প্রতিবাদ, মিছিল-সমাবেশ ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সে নতুন ও কঠোর অভিবাসন আইন পাস করেছে পার্লামেন্ট। এ আইন পাস করাকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর মধ্যপন্থী দলে প্রথমবারের মতো বিভাজন তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, আইনটি অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যাপারে বিধি-বিধানগুলোকে আরো কঠিন করে তুলবে। বিশেষ করে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী এবং অর্থনৈতিক অভিবাসীরা বিপদে পড়বে।
দীর্ঘ ৬১ ঘণ্টা বিতর্ক শেষে গত ২২ এপ্রিল ফ্রান্সের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল এ্যাসেম্বলিতে ২২৮-১৩৯ ভোটে আইনটি পাস হয়। ভোটদানে বিরত থাকেন ২৪ জন এমপি। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর দল ‘লা রিপালিক এনমার্চের (এলআরইএম) ১৪ এমপিও ভোটদানে বিরত থাকেন। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে পার্লামেন্টের বাইরে ও রাজপথে এই আইনটি পাসের বিরুদ্ধে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিবৃতি দিয়ে আইন পাস না করার আহ্বান জানায় মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
এলআরইএম পার্টির ডেপুটি প্রধান জ্যঁ-মিশেল ক্লেমেন্ত তো আইনটি পাস হওয়ায় বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। তিনি ঘোষণা দিয়ে বলেন, পাস হওয়া আইনটির ওপর ‘অনাস্থা ভোটের’ পর তিনি প্রেসিডেন্টের দল ত্যাগ করবেন।
বিতর্কিত আইনটি পাসের আগে পার্লামেন্টে সহ¯্রাধিক সংশোধনী প্রস্তাব জমা পড়েছিল। সেখান থেকে বেছে এলআরইএমের সদস্যরা ২০০ সংশোধনী সংসদে উত্থাপন করেন। বিরোধীদের চাপের মুখে এলআরইএমের সদস্যরা দাবি করেছেন, এ আইন ফ্রান্সের আশ্রয় আবেদনপ্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল করবে।
কী আছে আইনটিতে : নতুন অভিবাসন আইনে আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) আবেদনের সময়সীমা কমিয়ে আনা হয়েছে। এতে অবৈধ অভিবাসীদের আটক রাখার সম্ভাব্য সময় দ্বিগুণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্রান্সে অনুপ্রবেশের দায়ে নতুন করে এক বছরের কারাদ-ের শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা ১২০ থেকে কমিয়ে ৯০ দিন করা হয়েছে। আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে আপিল করার জন্য তাদের মাত্র দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, আশ্রয় প্রার্থনার পক্ষে কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য এই সময়সীমা যথেষ্ট নয়।
ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরারড কলোম্ব বলেন, এই আইনের লক্ষ্য হচ্ছে, অভিবাসনের অধিকতর নিয়ন্ত্রণ। এর ফলে আশ্রয় আবেদনের সময়সীমা ছয় মাস থেকে অর্ধেক কমিয়ে আনা যাবে, যাতে ‘অর্থনৈতিক’ অভিবাসাীদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা ও তাদের বিতাড়ন অধিকতর সহজ হবে। তবে বিরোধীদলীয় নেতা এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, নতুন আইন একটু বেশি কড়া হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশাল বিল পাসের কয়েক মিনিট পরই এক বিবৃতিতে বলেছে, এই আইনটি অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ‘বিপজ্জনক’। এ আইনে ফ্রান্সে অভিবাসন ও আশ্রয়প্রার্থীদের জটিলতার মধ্যে পড়তে হবে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।