ফয়জুরকে ইসলামের শত্রু চিনিয়ে দেয় সোহাগ

সিলেট : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শিক্ষক ও লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী ফয়জুর ওরফে ফয়জুল হাসান ওরফে শফিকুরকে ইসলামের শত্রুদের চিনিয়ে দেয় বন্ধু সোহাগ মিয়া। সে নিয়মিত ওয়াজ মাহফিলের পাশাপাশি ইসলামের শত্রুদের ভিডিও সরবরাহ করত, যা দেখেই জঙ্গিবাদে প্রভাবিত ফয়জুর ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালায়।

একই এলাকার বাসিন্দা হিসেবে কাপড়ের ফেরিওয়ালা সোহাগের সঙ্গে প্রথমে বন্ধুত্ব গড়ে উঠলেও একপর্যায়ে ফয়জুর তার সঙ্গে বোনের বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও করে। গত ২৫ মার্চ বিকেলে সিলেট মহানগর হাকিম (১ম) মামুনুর রশিদ সিদ্দিকীর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে সোহাগ মিয়া এসব কথা বলে।

মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী বলেন, সোহাগ আদালতকে জানিয়েছে, বিভিন্ন ধরনের ওয়াজ ও উগ্রবাদী ভিডিও সে মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে ফয়জুরকে সরবরাহ করত।

ইসলামের শত্রু কারা, তাদের ব্যাপারে তথ্য সংবলিত ভিডিও প্রদান করত। ফয়জুর সেগুলো কপি করে নিজের কাছে রেখে সোহাগের মেমোরি কার্ড ফিরিয়ে দিত। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী গ্রহণের পর হাকিম সোহাগকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানান অমূল্য কুমার চৌধুরী। গত ৩ মার্চ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে একটি অনুষ্ঠানে ড. জাফর ইকবালকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে ফয়জুর।

এরপর ফয়জুরকে প্রধান আসামি করে আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে জালালাবাদ থানায় মামলা হয়। এই মামলায় এরই মধ্যে ফয়জুরের বাবা আতিকুর রহমান, মা মিনারা বেগম, ভাই এনামুল হাসান, মামা ফয়জুর রহমান ও বন্ধু সোহাগ মিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্ত চলছে।