বইটি আমার সন্তান

‘তুমি আমার বন্ধু যীশু তুমি মম সাথি, অন্ধকারে তুমি যে মোর পথ দেখানো বাতি।’ ধন্যবাদ প্রশংসা গৌড়ব সব কিছু যেন তোমারই প্রাপ্য। গল্প বাড়ি নিউইয়র্ক বইটিকে এতটা গৌড়বান্বিত করে দোর গোড়ায় পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছ। আমার নিঃশ্বাসে বিশ্বাসে সর্বদাই তোমাকে ধন্যবাদ জানাই।
সত্যি অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে বইটি নিজের সীমানায় জায়গা করে নিয়েছে। যেন এক জীবন যুদ্ধে পতিত হবার পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছিল। নাভিশ্বাস এর মতো একটি বিশ্বয়কর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম। অর্থের দণ্ডি। সম্পর্কের ভরাডুবি। সময়ের টানাপোড়েন। যেন বিশাল একটি পাহাড় ডিঁঙিয়ে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে বই মেলাতে প্রতিবেশী প্রকাশনী স্টলে স্থান করে নিয়েছিল। ভাবতে যেন এখনো বুকের ভেতরে তরতর করে কেঁপে ওঠে। আর এখন শুধু সেই কম্পন থেকে একটি সাহস সাক্ষ্য দিচ্ছে। “সৃষ্টি কর্তা যদি তার সন্তানকে স্বীকৃতি দেন কারো সাধ্য নেই তাকে পা ধরে টেনে তলায় ফেলতে পারে?” বলাবহুল্য বইটি এডিটিং করেছেন মি: ভিনসেন্ট খোকন কোড়াইয়া। এবং আমার প্রিয় বান্ধবী আগ্নেস ম্যাকফিল্ডের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা ও প্রার্থনা ছিল আজকের এই সফলতার পেঁছনে। শ্রদ্ধেয় ফাদার স্ট্যানলি গোমেজ তার মূল্যবান মতামত পোষণ করে বইটির বিশ্বাস যোগ্যতা বৃদ্ধিতে আরো বেশী সহায়ক করে তুলেছিলেন। শ্রদ্ধেয় ফাদার বুলবুল আগস্টিন রিবেরু লেখিকার আত্ম সমালোচক বক্তব্যে বইটির আয়ু যেন অনেকাংশে বৃদ্ধি করে দিয়েছিলেন। সত্যি আমি কৃতজ্ঞ তাঁদের নিকটে। আমার রক্তের তথা অতি নিকটাত্মীয় স্বজন বন্ধু পরিজন সকলের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার ফসল আজকের এই গল্প বাড়ি নিউইয়র্ক বইটি। যা বলছিলাম আমার আত্মার আত্মীয় ভাগীনা বাংলাভিশন টেলিভিশন এর উর্ধতন কর্মকর্তা। মাসিমনিকে ভালো বাসার বহিঃপ্রকাশ তথা তার বইটি উত্তরণের প্রচেষ্টায় বিনা পারিশ্রমিকে বাংলা একাডেমী এর মঞ্চে গল্প বাড়ি নিউইয়র্ক বইটির ইন্টারভিউটি সম্প্রচারের মাধ্যমে সমস্ত বিশ্বে বইটিকে সুপরিচয় লাভের সুযোগ করে দিয়েছে। এবং সংবাদটি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশের মাধ্যমে বইটি জনগণকে অবহিত করতে আরো বেশী সাহায্য করেছে।
তার পরের ধাপে ছিল বইটির মোড়ক উন্মোচন। বাংলাদেশ খ্রীস্টিয়ান লেখক ফোরাম, প্রতিবেশী পত্রিকার মাধ্যমে নিমন্ত্রণ পত্র বিতরণ করে গল্প বাড়ি নিউইয়র্ক বইটি এবং সঙ্গে লেখক রত্না বাড়ৈ এর ছবি সহ ভীষণ সুন্দর একটি ব্যানার তৈরি করে, সেখানে আমন্ত্রিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ প্রধান অতিথি ফাদার কমল রড্রিখ। বিশেষ অতিথিগন এবং লেখকত্রয়, তথা উপস্থিত আত্মীয় স্বজন বন্ধু পরিজনদের মিলনে, লেখিকার সম্মানে অনুপ্রেরণা দানে এত সুন্দর একটি সৃজনশীল অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। যা ভাষায় ব্যক্ত করা সম্ভব নয়। এবং তার মধ্যে দিয়ে গল্প বাড়ি নিউইয়র্ক বইটির মোড়ক উম্মোচন করে বইটিকে স্বীকৃতি প্রদানে বাধিত করেছিলেন। আসলে অনেক সময় কিছু ব্যাপার থাকে যা কিনা অন্তরের চোখ দিয়ে দেখতে হয়। আরেকটি কথা আমাকে বলতেই হবে। ঢাকা তথা গৌরনদী বরিশালে আমার পাঠকদের বইটি পাওয়ার এতোটা বেশী আগ্রহের প্রকাশ ছিল যে আমি ভাবতে অবাক হয়ে যাই। ভাষা প্রকাশে আবেগ আমাকে জড়িয়ে ফেলছে যাদের কারণে! ওরা হলো টিন এইজের মেয়েগুলো। এক রাত্রের মধ্যে বইটি পড়ে শেষ করে পরের দিন আমাকে ফিডব্যাক দিয়েছে। কোন্ লেখাটি কার কতখানি ভালো লেগেছে। আর ছোট বাচ্চা গুলো ওরা তো সিরিয়াল ধরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল একটি অটোগ্রাফের আশায়। তাঁদের বইটিতে অটোগ্রাফ দেওয়া হয়েছিল ‘‘লেখা পড়া করে যে গাড়ি ঘোড়ায় চড়ে সে’’। অটোগ্রাফ সহ বইটি পেয়ে সেকি আনন্দ। একদম লাফাতে- লাফাতে বাড়ি ফিরে গেল। শুনেছি বইটি খুলে বানান করে অনেক চেষ্টা করছিল পড়বে বলে। সত্যি হৃদয়টা যেন আনন্দে ভরে গিয়েছিল। তখন শুধু ভাবতে লাগলাম বইটি লেখা বুঝি সার্থক হলো।
আরেকটি রোমহর্ষক ব্যাপার ছিল আমার অনুভূতির অনুজপটে চোখের কোণে যেন জল এসে ভর করেছিল। বই মেলায় অটোগ্রাফের মাধ্যমটি। সত্যি ভাষায় ব্যক্ত করা কোনো ভাবেই সম্ভব নয়। স্টলে উপস্থিত থেকে পাঠকদেরকে অটোগ্রাফ প্রদান করা এ যেন একটি বিস্ময়কর সময় ছিল আমার জীবদ্দশায়। একটি অন্য রকম অনুভূতি।
এরপরে প্লেন টিকেটের মেয়াদ শেষ হতে ফিরে আসার পালা। কাজেই চলে আসতে হলো নিজের বাসস্থান নিউইয়র্কে। কিন্ত বইটি কে রেখে কেমন করে ফিরে আসব? কারণ বইটি যে একান্তই আমার সন্তানের মতো। তাই তো বইগুলো কে ওজনের চড়া মূল্য দিয়ে সঙ্গে করে নিয়ে আসতে বাধ্য হলাম। প্লেনে পা ফেলতেই সৃষ্টি কর্তাকে অনুরোধ করলাম। প্রার্থনা রাখলাম। নিউইয়র্কে পৌঁছে আমার সন্তান অর্থাৎ আমার বইটি যেন সবার গ্রহণ যোগ্যতা পায়। সত্যি শ্রবণকারী আমার প্রার্থনা শ্রবণ করেছেন এবং উত্তর দানে বাধিত করেছেন। তিনি কথা বলেছেন দুইজন ব্যক্তির হৃদয়ে। একজন হলেন গ্লোবাল বাংলা মিশন নিউইয়র্ক রেভারেন্ড যোসেফ ডি বিশ্বাস। শান্ত সুলভ এই শান্তি প্রিয় মানুষটি। যার প্রচেষ্টা সর্বদা কীভাবে সমাজের ইয়াং জেনারেশন তথা মেধাবীদের মেধা বিকাশে পদোন্নতি লাভে সাহায্য করবেন। সর্বদা সমাজের প্রতি ভাবনায় কিছু একটা করবে বলে ব্যতিব্যস্ত থাকেন। তাছাড়া চার্চের পালকীও সেই বিশাল দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাকে। এতো ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে তিনি গল্প বাড়ি নিউইয়র্ক বইটির প্রচার তথা লেখিকা রত্না বাড়ৈ কে একটু খানি অনুপ্রেরণা দানে কতটাই না উদগ্রীব ছিলেন। অন্য জন ক্যাটরিনা লাভ ফর বাংলাদেশ নিউইয়র্ক কেলভিন ম-ল। এতো অল্প বয়সে সৃষ্টি কর্তা তাকে বড় একটি হৃদয় দান করেছেন। তার চিন্তা চেতনা সর্বদা কিভাবে মানুষকে একটু উপকার করবে। সত্যি একটি বিশাল অন্তকরণের অধিকারী। বাংলাদেশেও সে অনেক গরীব স্টুডেন্টদের সাহায্য করে থাকে। তাঁদের লেখা পড়ার খরচ চালিয়ে। তাছাড়া সমাজে সে বিভিন্ন ভাবে অনেক সাহায্য সহযোগিতা করে আসছে যেটা অনেকেই অবগত নয়। সে প্রচারে অনিচ্ছুক। কারণ “পবিত্র বাইবেল বলে তোমার ডান হাত কি করছে, তা তোমার বাম হাত না জানুক।” এই অসাধারণ দুটি মানুষ যারা কিনা নিঃস্বার্থ ভাবে নিজেদের সময় ব্যয় করে স্বেচ্ছায় আমার অনুষ্ঠানের জন্য এতো বড় একটি উদার হৃদয়ের পরিচয় দিয়েছেন। যেটা সমাজ পরিম-লে বিরল। সে কি সংবর্ধনা আকর্ষণীয় একটি কার্ড ছিল। বইটি তথা লেখকের ছবি সহ অত্যন্ত সুন্দর স্বচ্ছ একটি কার্ড বিতরণ তথা জ্যাকসন হাইটসের ৩৭-১১/ ৭৩ স্ট্রিটস্থ হাট বাজার পার্টি হলে ৪মে শনিবার একটি অতুলনীয় মনোরম অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে মহামান্য অতিথি গণের উপস্থিতি এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক এর ঠিকানা এর প্রধান সম্পাদক মুহম্মদ ফজলুর রহমান। বিশেষ অতিথি লেখিকা ও পাক্ষিক “নারী” পত্রিকার সম্পাদক পপি চৌধুরী। ওমেন্স ফোরাম এর প্রেসিডেন্ট অধ্যাপিকা হুসনে আরা, ফাদার স্ট্যানলি গোমেজ, নিউইয়র্ক ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সম্মানিত পালকবৃন্দ। প্রবাসী সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্যদয়। এবং আমাদের আত্মার আত্মীয় গণ। এত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের অনুপ্রেরণা দায়ী বক্তব্য আমাকে এতটা অনুপ্রাণিত করেছে। লেখকের ছবি সহ একটি সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান চির অম্লান হয়ে থাকবে বংশানুক্রমে আমার অস্তিত্বকে ঘিরে। আমি কি কখনো ভুলতে পারব এতো বড় মনের অধিকারী মানুষ নামি মহান তিলোত্তমা ভ্রাতা দিগকে?
তবে মোটা মাথা কিছু ইনোসেন্ট সন্তানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি বলতে চাইছি। সৃষ্টি কর্তা যাকিছু করেন তাঁর সন্তানের মঙ্গলের জন্য করেন। তিনি যাকে মঙ্গল দেখাবেন কার সাধ্য আছে সেখানে অমঙ্গল কে বয়ে আনে?
অনুষ্ঠানের শেষের অংশে ছিল। নিউইয়র্কের আরেকটি প্রদীপ সকলের প্রিয় রেডিও টেলিভিশন শিল্পী গায়ক জুয়েল বৈদ্য। তাকে মিউজিক এ সহযোগিতা করেছেন মি: পিন্টু এবং মি: রবি মধু। অন্য দিকে আমাদের মিষ্টি মেয়ে ফটো গ্রাফার জসেফিন মিষ্টি গাইনের সুনিপুণ ফটো সকলের হৃদয়কে কেড়ে নিয়েছে। আমার একমাত্র ছেলে তার মামনির এই বিশাল কৃতিত্বে সুধীজনের সম্মুখে বক্তব্য পেশ করে অনেক প্রশংসা অর্জন করে।
গল্প বাড়ি নিউইয়র্ক বইটির ভাবধারা তথা চিন্তার বহিঃপ্রকাশ কিছুটা স্পষ্ট ভাবনায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। হয়তো কখনো কারো পক্ষে থাকবে অথবা বিপক্ষে। সুতরাং বোঝার ব্যাপারটা একান্ত ব্যক্তিগত, একেবারে বিবেকের দংশন।
গল্প এবং কবিতার সমন্বয়ে গল্প বাড়ি নিউইয়র্ক বইটি উপস্থাপন করা হয়েছে। তেইশটি গল্প কিছুটা প্রবন্ধের টাচ্ রয়েছে এবং বারোটি কবিতার সমারোহে দাঁড়িয়ে আছে বাস্তব জীবনকে ঘিরে। স্থান পেয়েছে অতীতের বিস্মৃত স্মৃতির পাতা থেকে আনন্দ ঘন মূহুর্ত আবার কিছুটা ক্ষতবিক্ষত হৃদয় নিংড়ানো ব্যথার শব্দকে যুগলবন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছে। আসলে কখন যে কার ডাক পড়বে সে কথা কেউ বলতে পারে না। কোন্ বৎসরের ক্যালেন্ডারে কার নাম কোন্ তারিখটিতে হাইলাইটস করা আছে। কারো বোধগম্য নয় বা কেউ অবগত নয়। শুধু সৃষ্টি কর্তাই জানেন মাত্র। আবার যখন একটি চার বছরের শিশুর জন্মদাত্রীনি পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিয়ে চলে যান। তার সন্তানটি কিনা স্পষ্ট ভাবে কথা বলতে পারে না। সেই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিকে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে হৃদয়ের অনুভূতির মধ্যে দিয়ে। আবার বার্ধক্যের মানুষিকতা পরিণতি, পরিস্থিতির স্বীকার। মৃত্যুর হাতছানি। বেশিরভাগই অবজ্ঞা অশ্রদ্ধা পিতা মাতাত্রয়ীর হৃদয় বিদারক ক্ষণ গুলোকে লিপি বদ্ধ করা হয়েছে সত্যের জাল বুনে। নিঃশ্বাসের নেই বিশ্বাস সেখানে সমাজ সংসারের বিভিন্নতাকে সংযোজনের মাধ্যম কে ঘিরে হিসেব মেলানো মাত্র। মোট কথা বাস্তবতাকে সঙ্গে করে পাড় করা সমাজ বিবর্তন মূলক কিছু আলোচনা সমালোচনা সমীকরণে বেঁধে দেয়া হয়েছে বৈকি। আবার স্বপ্নর দেশ আমেরিকা কে ঘিরে অজানা কিছু তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে অলীক কল্পনার কিছু অসহায় মানুষের সাহায্যার্থে। আমি কথা দিতে পারি ক্রিয়েটিভ এই লেখা গুলো পড়ে কিছু টা হলেও আমার পাঠকরা উপকৃত হবে। তাছাড়া আমার ফেইজ বুক পাঠকদের অনুরোধেই কিন্তু আজ গল্প বাড়ি নিউইয়র্ক বইটির জম্ম হয়েছে। সেই অধিকারে অনুরোধ থাকবে গল্প বাড়ি নিউইয়র্ক বইটি পড়ুন। আপনাদের সাপোর্ট যে আমার একান্ত কাম্য। পরবর্তীতে আপনাদের উৎসাহ উদ্দীপনা আরেকটি বইয়ের জন্ম দিতে, লেখক রত্না বাড়ৈকে উৎসাহে অনুপ্রাণিত করবে।