বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ নিয়ে জটিলতা

ঠিকানা রিপোর্ট: দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ নিয়ে জটিলতায় পড়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসি। গত সেপ্টেম্বরে স্যাটেলাইটের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলেও উৎক্ষেপণের সঠিক দিনক্ষণ এখনো কেউ বলতে পারছেন না। যদিও শুরু থেকে ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বরে উৎক্ষেপণের ঘোষণা দেওয়া হয়।

কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে ফ্লোরিডায় হারিকেন ‘আরমার’ আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ পিছিয়ে যায় বলে সে সময় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এরপর জানানো হলো চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে উৎক্ষেপণ করা হবে। এরপর প্রতিমাসেই ঘোষণা আসছে। কিন্তু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হচ্ছে না।

সর্বশেষ বিআরটিসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ নিউইয়র্কে সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘোষণা দিয়েছিলেন এপ্রিলে প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে উৎক্ষেপণ করা হবে। কিন্তু এপ্রিল মাস চলে আসলেও বিআরটিসি এখনো বলতে পারছে না, কবে উৎক্ষেপন করা হয়। ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার শামীম আহমেদ ২৭ মার্চ ঠিকানাকে জানান, তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইতিমধ্যেই স্যাটেলাইটটি আনা হয়েছে। আনার সময় কিছুটা সমস্যা হয়েছে, এখন তা মেরামত করা হচ্ছে।

অন্য একটি সূত্র জানায়, গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে স্যাটেলাইটের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। তবে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য লঞ্চিং প্যাডের নির্মাণ কাজ এ সময় শেষ করতে পারেনি স্পেস এক্স। বিটিআরসির চাহিদা অনুযায়ী স্পেস এক্স নতুন লঞ্চিং প্যাড তৈরি করা হয়েছে।

এটি ফ্লোরিডার ক্যাপ ক্যানাভেরালের স্পেস এক্স থেকে উৎক্ষেপণ করা হবে। এ উপলক্ষে দেশজুড়ে উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। দেশের সব কটি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আতশবাজি চলবে। ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুইচ টিপে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের উদ্বোধন করবেন। জমকালো আয়োজন হবে ফ্লোরিডায়ও। সেখানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

সূত্র জানায়, লঞ্চিং প্যাড এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। কীভাবে এই দিনক্ষণ ঠিক করা হলো তা অনেকেই বুঝতে পারছেন না। আগের স্পেস এক্সের পাঠানো শিডিউল অনুযায়ী গত ৫ মার্চ ফ্রান্স থেকে স্যাটেলাইটটি ফ্লোরিডাতে পাঠানোর কথা ছিল।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা। আর ঋণ হিসেবে বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি দিচ্ছে বাকি ১ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে যে টাকা খরচ হয়েছে তা দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে ৭ বছরে তুলতে পারবে বিটিআরসি।

স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কাজটি বিদেশে হলেও এটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে বাংলাদেশ থেকেই। এজন্য গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন (ভূমি থেকে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা) তৈরির কাজ চলছে। এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি।