বছরে ৮ হাজার ৩ শ কম বয়সী গুলিবিদ্ধ আমেরিকান হাসপাতালে ভর্তি হয়

ঠিকানা রিপোর্ট: সভ্যতার উজ্জ্বল নিদর্শনই বটে! আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতার সুবাদে প্রতিবছর ১৮ থেকে কম বয়সী এবং গড়ে ১৫ বছর বয়সী ৮,৩০০ আমেরিকান গুলিবিদ্ধ কিংবা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং তাদের ৬% নিতান্ত অপরিণত বয়সে চিরতরে ঝরে যায়। ২ নভেম্বর প্রকাশিত এক জরিপ প্রতিবেদন থেকে জানা যায় ২০০৬ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে অ্যাসল্টসসহ আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিবিদ্ধ হয়ে ৭৫ হাজার আমেরিকান শিশু-কিশোর-কিশোরী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়েছিল এবং তন্মধ্যে প্রায় ৬% এই নশ্বর পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় নিয়েছিল।
গুলিবিদ্ধ বা গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হওয়া গড়ে ১৫ বছর বয়সী আমেরিকানদের উপর পরিচালিত জরিপ প্রতিবেদনটিকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্বকারী প্রথম জরিপ প্রতিবেদন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
গবেষকগণ আরও বলেন, এ সকল আহত-নিহত কিডদের চিকিৎসা বাবত রাষ্ট্রকে ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ খরচ করতে হয়েছে। পর্যবেক্ষকগণ আরও দেখতে পান যে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা গুলিবিদ্ধ বা আহত ছেলে-মেয়েদের ৩৩% বা তারও বেশি হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছিল এবং তাদের ৬% মারাও গিয়েছিল। পর্যবেক্ষকগণ আরও বলেন, উল্লেখিত সময়ে প্রতি লাখ আমেরিকান ছেলে-মেয়ে ও টীনের মধ্যে ১১ জন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করেছিল এবং সবগুলোই ছিল আগ্নেয়াস্ত্র সংশ্লিষ্ট আঘাতপ্রাপ্তি। সাদামাটা ভাষায় বলা যায়: আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর ৮,৩০০ চিলড্রেন ও টীন আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিবিদ্ধ বা আহত হয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়।
গবেষকগণ বলেন, প্রকৃত গুলিবিদ্ধ কম বয়সী আমেরিকানের সংখ্যা আরও বেশি। কারণ গুলিতে যে সকল কম বয়সী আমেরিকান মারা গেছে কিংবা গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর কখনো হাসপাতালে ভর্তি হয়নি কিংবা হাসপাতাল যে সকল গুলিবিদ্ধ কম বয়ীসী আমেরিকানের চিকিৎসা ব্যয় বহুন করেনি তাদের উক্ত পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রধান গবেষক এবং জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল স্কুলের চিকিৎসক ফাইজ গানি বলেন, এই ভয়াবহ সমস্যার মোকাবেলায় বিশ্ববাসীকে কিভাবে একই সূতোর গ্রন্থিতে আবদ্ধ করতে হবে তা আমাদের জানা নেই। তবে অল্পবয়সী বিশ্ববাসীকে আগ্নেয়াস্ত্রের নিষ্ঠুর থাবার কবল থেকে বাঁচাতে হলে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আগত গুলিবিদ্ধদের ইউএস গভর্নমেন্টের তৈরি এজেন্সী অন হেলথকেয়ার রিসার্চ অ্যান্ড কোয়ালিটির ন্যাশনাল ডাটাবেইস বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। গবেষকগণ ১৮ থেকে কম বয়সী এবং গড়ে ১৫ বছর বয়সী গুলিবিদ্ধদের অধিকতর গুরুত্বারোপ করেছেন। গান ইঞ্জুরি বা আগ্নেয়াস্ত্রজনিত আঘাতের অধিকাংশ ছিল অ্যাসল্ট, ৪০% ছিল অভিপ্রায় বহির্ভূত এবং ২% ছিল আত্মহত্যা। আর বালিকাদের তুলনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আগত বালকদের সংখ্যা ৫ গুণ বেশি ছিল।
এদিকে গান ইঞ্জুরি থেকে পেডিয়াট্রিক ইমার্জেন্সী রুম ( শিশুচিকিৎসা সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে জরুরি কক্ষে )আগমনের ঘটনা প্রতি লাখে ২০০৬ সালে ছিল ১৫টি। আর ২০১৩ সালে তা হ্রাস পেয়ে প্রতি লাখে ৭টি হয়েছে। আবার ২০১৪ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি লাখে ১০ হয়েছে। জ্যামা পেডিয়াট্রিকসে প্রকাশিত প্রতিবেদনটির গবেষণার অর্থ যোগান দিয়েছে বিশ্ব বিদ্যালয়। আমেরিকান একাডেমী অব পেডিয়াট্রিকস গান ইঞ্জুরি নীতিমালার সহকারি গ্রন্থকার গবেষক ডঃ রবার্ট সিগে বলেন, মাস শ্যুটিং জাতির বিবেককে যেভাবে নাড়া দেয় বাচ্চাদের গান ভায়োলেন্স তার চেয়ে জাতিকে বেশি তাড়িত করে।