বদলে গেছে হাজারীবাগের চেহারা

রাজধানী ডেস্ক : বদলে গেছে রাজধানীর হাজারীবাগ। এক সময় ট্যানারির বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্যে দূষিত হতো এখানকার পরিবেশ। যত্রতত্র ট্যানারি বর্জ্যরে উৎকট দুর্গন্ধে এ এলাকায় বসবাস করাই ছিল দায়। ট্যানারিগুলো সাভারের হেমায়েতপুরে স্থানান্তরের পর এখন আগের মতো দুর্গন্ধ নেই। ট্যানারির জায়গায় গড়ে উঠেছে চামড়া পণ্যের মার্কেট।
হাজারীবাগের শেরেবাংলা রোডের দু’পাশে এক সময় চামড়ার কারখানা থাকলেও এখন নানা রকম চামড়া পণ্যের পসরা নিয়ে শোরুম খোলা হয়েছে। এখানে বিভিন্ন ডিজাইনের পাকা চামড়া দিয়ে তৈরি জুতা থেকে শুরু করে জ্যাকেট, অফিস ব্যাগ, মানিব্যাগ, পার্স, বেল্ট, স্কুলের ব্যাগ ছাড়াও রয়েছে মেয়েদের হাতব্যাগ। তবে এখনও জমে ওঠেনি এই মার্কেট। ক্রেতাদের আনাগোনাও তেমন নেই। আস্তে আস্তে এটি পাইকারি ও খুচরা কেনাবেচার জন্য দেশের সবচেয়ে বড় চামড়ার মার্কেট হবে বলে আশা ব্যবসায়ীদের।
ঈদ সামনে রেখে সবগুলো দোকানে ছিল চামড়া পণ্যের সম্ভার। ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাও বেড়েছিল। দূর থেকেও অনেকে এসে চামড়াজাত পণ্য কিনছেন। সাভার থেকে আসা আমিনুল ইসলাম বলেন, এখানে ভালো চামড়ার পণ্য পাওয়া যায় বলে শুনেছেন। তিনি একটি অফিস ব্যাগ কিনেছেন খুব কম মূল্যে।
দেশে বেড়াতে এসেছেন কাতার প্রবাসী তৌহিদুল ইসলাম। তিনি এই মার্কেটে এসেছেন পাইকারি দরে কিছু পণ্য কিনে বিদেশে নিয়ে যেতে। তিনি জানান, নানা ডিজাইনের একটি করে পণ্য নিয়েছেন। কাতারে এগুলোর ভালো অর্ডার পেলে নিয়মিত দেশীয় চামড়ার পণ্য এখান থেকে নেবেন।
বিভিন্ন শোরুম ঘুরে দেখা গেছে, চামড়ার পণ্যে আধুনিকতার ছাপ আনা হয়েছে, রয়েছে বৈচিত্র্য। জুতা আর জ্যাকেটের চিরন্তন ধারণাকে ছাপিয়ে নিত্যনতুন সব ফ্যাশনেবল পণ্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে। সুনিপুণ হাতের ছোঁয়ায় চামড়ার ওপর সুতার কারুকার্য। শুধু ঢঙে নয়, চলতি ফ্যাশনের কথা বিবেচনায় রেখে রঙেও রয়েছে নানা বৈচিত্র্য। শতভাগ দেশীয় কাঁচামালের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন ফুটওয়্যারে তৈরি হওয়া নিত্যনতুন চামড়ার তৈরি পণ্য এই মার্কেটে শোভা পাচ্ছে। দামও তুলনামূলক কম।
চামড়ার প্রক্রিয়াজাত এসব পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি রফতানিও করছেন উদ্যোক্তারা। তেমনি এক উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান এনেক্স লেদার। হ্যান্ডব্যাগ, সাইডব্যাগ, মানিব্যাগ আর বেল্টের পাশাপাশি এনেক্স লেদারের কারখানায় তৈরি হচ্ছে চামড়ার মোবাইল-ট্যাব-ল্যাপটপ কভার। ঘর সাজানোর উপকরণও বাদ যাচ্ছে না এই তালিকা থেকে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী টিস্যু বক্স, গিফট বক্স, ফুলদানি, পাসপোর্ট হোল্ডার, ফটোফ্রেম এমনকি সোফার কুশন কভারও তৈরি হচ্ছে চামড়া দিয়ে।