বদলে যাবে ২০ জেলার অর্থনীতি

নড়াইল : পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-নড়াইল-যশোর রেললাইনে নড়াইল অংশের কাজ শুরু হয়েছে। জেলার প্রায় ২২ কিলোমিটার বিভিন্ন এলাকায় বালু ভরাট করে রোলার দিয়ে সমান এবং চারটি রেলসেতু নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে ৯টি জেলার ওপর দিয়ে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ (ব্রডগেজ ও মিটার গেজ) আধুনিক এ রেললাইনের নির্মাণকাজ করছে চীনের চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ লিমিটেড। এ রেললাইনটির ঢাকা-মাওয়া-কালনা-নড়াইল হয়ে যশোরের রূপদিয়া ও সিঙ্গিয়া রেললাইনের সঙ্গে সংযোগ ঘটবে। এ সংযোগস্থল থেকে একটি লাইন রূপদিয়া হয়ে বেনাপোল বন্দরে এবং অপরটি সিঙ্গিয়া বাণিজ্যিক শহর নওয়াপাড়া হয়ে শিল্পাঞ্চল খুলনায় শেষ হবে। নড়াইল অংশে ২২ কিলোমিটারের মধ্যে লোহাগড়া পৌরসভার নারানদিয়া ও নড়াইল পৌরসভার দুর্গাপুর-ভওয়াখালী এলাকায় দুটি রেলস্টেশন হবে। ঢাকা থেকে লোহাগড়া রেলস্টেশনের দূরত্ব ১২৩ ও দুর্গাপুর-ভওয়াখালী রেলস্টেশনের দূরত্ব ১৩৮ কিলোমিটার। ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের এ উপ-রুটটির কাজ ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হওয়ার কথা।

সরেজমিন দেখা গেছে, সদরের দুর্গাপুর, রামচন্দ্রপুর, কই বিল ও নলা বিল, লোহাগড়ার নারানদিয়া, মোচড়া, বসুপটিসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রাথমিকভাবে রেললাইনে বালু ভরাট ও রোলার দিয়ে সমান করা এবং রেল সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। নড়াইল অংশে মোট চারটি নদীর ওপর চারটি রেল সেতু নির্মিত হবে। কালনা সেতু থেকে ৮০০ মিটার উত্তরে মধুমতি নদীর ওপর এক হাজার ২১২ মিটার, লোহাগড়ার বসুপট্টি এলাকায় নবগঙ্গা নদীর ওপর ১০০ মিটার, সদরের বরাশোলা এলাকায় চিত্রা নদীর ওপর ১০০ মিটার এবং সদরের তুলারামপুর এলাকায় আফরা নদীর ওপর ১০০ মিটার রেল সেতু নির্মাণের প্রাথমিক কাজও শুরু হয়েছে। এদিকে নড়াইলে বাস্তুচ্যুত জমির মালিকদের পুনর্বাসনের জন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কাজ করবে। তাদের নিয়োগদানের প্রক্রিয়া চলছে।

সড়ক ও রেল সেতু বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির সাবেক আহ্বায়ক শরীফ মুনির হোসেন পদ্মা সেতু চালুর সঙ্গে সঙ্গেই এ রেললাইনের কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, এর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২০টি জেলার যাতায়াত সহজ এবং সময় বাঁচবে। এক কথায় বৃদ্ধি পাবে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা- এবং পাল্টে যাবে মানুষের জীবনযাত্রার মান।

সেনাবাহিনীর নড়াইল ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু রেললাইন প্রজেক্টের নড়াইল ও যশোর অংশের কাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নড়াইল ক্যাম্পের মাধ্যমে তত্ত্বাবধান করা হচ্ছে। রেললাইনের কাজে নড়াইলবাসীর যথেষ্ট আগ্রহ এবং সহযোগিতা রয়েছে।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের উপপরিচালক (রিসেটেলমেন্ট) মহাব্বতজান চৌধুরী জানান, পদ্মা সেতু চালুর দিন থেকেই ঢাকা-নড়াইল-যশোরে ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেভাবেই কাজ চলছে।