বদলে যেতে পারে আমেরিকার রাজনীতি

ঠিকানা রিপোর্ট : আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন (আগামী ৬ নভেম্বর, মঙ্গলবার) দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। ৪৩৫ প্রতিনিধি পরিষদের আসন ও ৩৫টি সিনেট আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৪৭০টি আসনে নির্বাচন নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমক্রেটরা মাঠে। এ নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনীতি নতুন করে টেস্টের সম্মুখীন হবে। উভয় দলের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভ ডেমক্রেটদের হাতে চলে যাবে বলে অনেকেই মনে করছেন। আর তাতেই হবে ট্রাম্পের এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা। তবে তেমন সমস্যা সৃষ্টি হবে বলে ট্রাম্প মনে করেন না।
প্রেসিডেন্টের এজেন্ডা বাস্তবায়নে আইন প্রণয়ন হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভ বা সিনেট উভয় কক্ষে তার দলের সংখ্যাধিক্যের উপর অনেকটা নির্ভর করে। সিনেট ও হাউজ মিলে আমেরিকার আইন সংস্থা। উভয় চেম্বারই সিদ্ধান্ত নেয়Ñ কোন বিল পাস হয়ে আইনে পরিণত হচ্ছে।
এ বছর ১০০ সিনেটের মধ্যে ৩৫টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে, তার মধ্যে আবার ২৫টি ডেমক্রেট ও ১০টি রিপাবলিকান আসন। ডেমক্রেটদের সংখ্যাধিক্য পেতে হলে নিজেদের ২৫ আসন রেখে আরও ২টি আসন পেতে হবে। ৫১জন সিনেট না হলে, এমন কি ৫০-৫০ আসন রিপাবলিকান ও ডেমক্রেট ভাগ করলেও রিপাবলিকান সংখ্যাধিক্য হবে। কারণ ভাইস-প্রেসিডেন্ট সিনেটের চেয়ারম্যান হিসেবে কাস্টিং ভোট দিতে পারেন। এবার ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইকেল পেন্স একজন রিপাবলিকান।
জরিপের সর্বশেষ ফলাফলে দেখা যায়- রিপাবলিকানদের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ রাখার সম্ভাবনা ৮২.৬০ ভাগ, আর ডেমক্রেটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ১৭.৪০ শতাংশ।
তবে জরিপকারীরা মনে করছেন, এ জরিপে ব্যবধান অনেক বেশি হলেও রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার সম্ভাবনা কম। কারণ তাদের আসন বাড়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশেরও কম। অর্থাৎ ডেমক্রেটরা কোন আসন হারাবে না।
৫৩৮ অনলাইন মিডিয়ার পক্ষ থেকে জরিপে দেখা যায়, হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভে ডেমক্রেট নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ৪৮.৯০ শতাংশ। বলা হচ্ছে, ডেমক্রেটরা অন্তত ২৭টি আসন বেশি পাবে। আর সম্ভাবনা রয়েছে ৩৯টি আসন বেশি পাওয়ার। টেক্সাস, টেনেসি ও আরিজোনায় রিপাবলিকান ও ডেমক্রেট সিনেট প্রতিনিধিদের মধ্যে কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশা করা যায়। তিন জায়গার রিপাবলিকান সিনেটরকেই তাদের আসন ধরে রাখার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে। টেড ক্রুজ ক্রমান্বয়ে স্বতন্ত্র ভোটারদের সমর্থন হারাচ্ছে বলে সর্বশেষ জরিপে দেখা যাচ্ছে। সাধারণত টেক্সাসে স্বতন্ত্র ভোটাররা রিপাবলিকানদের পক্ষে থাকে। কিন্তু এবার তারা ডেমক্রেট প্রতিদ্বন্দ্বী বেটো ও’ রোরকের পক্ষে সরে আসছে। তবে বেটো জরিপে পিছিয়ে আছে এখনও। এক জরিপে অবশ্য তাকে ২ শতাংশ ভোটে এগিয়ে আছে দেখানো হলেও অন্যান্য জরিপে তাকে ৭ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। বেটো ৩৮ মিলিয়ন ডলার কেম্পেইন অর্থ তুলেছে। তার এই অর্থ সমগ্র আমেরিকায় ডেমক্রেট জাগরণের ব্যারোমিটার বলে মনে করে অনেকে।
এখন সমগ্র আমেরিকা জুড়ে তৃণমূল পর্যায়ে ইয়ং ভোটাররা সংগঠিত হচ্ছে। তারা ভোটার হচ্ছে এবং তৈরি হচ্ছে ভোট দেয়ার জন্য। ডেমক্রেটদের পক্ষে অনেক বেশি ওয়েভ। নর্থ ক্যারোলিনা ডিস্ট্রিক্ট-৯, ফ্লোরিডা, টেনেসি, টেক্সাস ও অনেক রিপাবলিকান স্টেট ও ব্যাটেল গ্রাউন্ডে চলছে ভোটার রেজিস্ট্রেশন।
নেক্সট জেনারেশন নামে একটি সংগঠন সারাদেশে ৪০০ জন স্টুডেন্ট ফেলো জোগাড় করেছে অন্যদেরকে নির্বাচনের দিন ভোট দিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তাদের নেক্সট জেনারেশন সপ্তাহে ২৫০ ডলার করে দিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী তৈরি ও ভোটার রেজিস্টারের জন্য। তারা বলছে, তাদের সাড়ে ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবী সারাদেশে ২ লাখ ৫০ হাজার ভোটার বানিয়েছে। তার মধ্যে ৫০ হাজারই ফ্লোরিডায়। নেক্সট জেনারেশনের টার্গেট সারাদেশে সাড়ে ৮ মিলিয়ন আমেরিকান ভোটার তৈরি করা। যারা গত নির্বাচনের পর ১৮ বছর অতিক্রম করেছে। যুবকদের এ সংগঠনের এ ধরনের তৎপরতা চলছে। এরপর নিউ জর্জিয়া প্রজেক্ট, যেখানে ডেমক্রেট দলের গভর্নর প্রতিদ্বন্দ্বী সারা দেশে ঝড় তুলেছে প্রথম কৃষ্ণ বর্ণের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে। সেখানে ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২ লাখ ৯৯ হাজার জনকে ভোটার তালিকাভুক্ত করেছে। এরা সবাই ডেমক্রেট দলের পক্ষে মোটিভেটেড।