বনানীতে মেয়ের কবরে শায়িত তোয়াব খান

ছবি সংগৃহীত

ঠিকানা অনলাইন : ২৫ বছর আগে ছোট মেয়ে এষা খানকে যেখানে শুইয়ে দিয়ে এসেছিলেন, সেখানেই শেষ শয্যা হলো প্রথিতযশা সাংবাদিক তোয়াব খানের। ৩ অক্টোবর সোমবার বাদ আসর রাজধানীর বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয় তাকে। তিনি নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম ও দৈনিক বাংলার সম্পাদক ছিলেন।

১৯৯৭ সালের ১৩ মে হার্ট অ্যাটাকে ছোট মেয়ের মৃত্যুর পর এই কবরেই ঠাঁই হয়েছিল তার। ২৫ বছর পর আবার খোঁড়া হলো কবরটি।

বার্ধক্যজনিত জটিলতায় অসুস্থতার পর তোয়াব খানকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত শনিবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বড় মেয়ে তানিয়া খান দেশে ফেরার পর সোমবার বরেণ্য এই সাংবাদিককে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়।

সোমবার সকালে তেজগাঁওয়ের দৈনিক বাংলা ও নিউজবাংলা কার্যালয় প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা শেষে প্রথিতযশা সাংবাদিককে নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদমিনারে। সেখানে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। এরপর মরদেহ নেওয়া হয় জাতীয় প্রেসক্লাবে। সেখানে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে হয় জানাজা।

প্রতিটি আয়োজনেই একুশে পদকপ্রাপ্ত এই সাংবাদিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানান গণমাধ্যমকর্মীসহ বিশিষ্টজনরা। স্মরণ করেন সাংবাদিকতায় তার অসামান্য অবদানের কথা।

আসরের নামাজের পর গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে হয় তৃতীয় জানাজা। সেখান থেকে মরদেহ নেওয়া হয় বনানী কবরস্থানে।

সমাহিত করার সময় তোয়াব খানের স্ত্রী হাজরা খান, মেয়ে তানিয়া খান, ছোট ভাই ওবায়দুল কবির বাচ্চু, ভাগ্নে সেলিম খান, ফুফাতো ভাই অভিনেতা তারিক আনামসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ছোট ভাই ওবায়দুল কবির জানান, আগামী বুধবার বাদ আসর তোয়াব খানের বনানীর বাসায় মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় তোয়াব খান ছিলেন অনন্য এক নাম। পাকিস্তান আমলে ষাটের দশক থেকেই নাম-যশ ছড়ায়। সাংবাদিকতা ছাড়াও তিনি রাষ্ট্রের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৯৩৪ সালের ২৪ এপ্রিল সাতক্ষীরার রসুলপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোয়াব খান। ছাত্রজীবন থেকেই তোয়াব খান বিভিন্ন পত্রিকায় সমকালীন ইস্যু নিয়ে লেখালেখি করতেন। ১৯৫৩ সালে সাপ্তাহিক জনতার মাধ্যমে তার সাংবাদিকতা জীবনের শুরু। ১৯৫৫ সালে তিনি যোগ দেন দৈনিক সংবাদে। ১৯৬১ সালে দৈনিক সংবাদের বার্তা সম্পাদক হন তোয়াব খান। ১৯৬৪ সালে তিনি যোগ দেন দৈনিক পাকিস্তানে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে শব্দসৈনিকের ভূমিকা পালন করেন তোয়াব খান। সে সময় তার আকর্ষণীয় উপস্থাপনায় নিয়মিত প্রচার হয় ‘পিণ্ডির প্রলাপ’ নামের অনুষ্ঠান।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দৈনিক পাকিস্তান থেকে বদলে যাওয়া দৈনিক বাংলার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তোয়াব খান। ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেস সচিব ছিলেন তোয়াব খান। দেশের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ও প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন যশস্বী এ সাংবাদিক।

পরে রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ এবং প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সাহাবুদ্দীন আহমদের প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

সর্বশেষ নিউজবাংলা ও দৈনিক বাংলার সম্পাদক হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে তিনি দৈনিক জনকণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন।

সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য ২০১৬ সালে একুশে পদক পান তোয়াব খান। একই বছর তাকে সম্মানিত ফেলো নির্বাচন করে বাংলা একাডেমি।

ঠিকানা/এনআই