বন্দিরা যেখানে এসকর্ট পান

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : জেলখানা মানেই অন্য রকম এক কঠিন শাস্তিময় স্থান। সেখানে মাদক ব্যবসায়ী, অস্ত্রধারী অপরাধী, ভয়াবহ সব সিরিয়াল খুনিসহ দুর্ধর্ষ অপরাধীদের আশ্রয়। পানামার একটি সরকারি জেলখানায়ও একই রকম অপরাধীতে গাদাগাদি। কিন্তু এর বাইরে আবার সেখানে ভিন্নচিত্র। বন্দীরা সেখানে ভোগ করে নানা রকম সুবিধা। তারা পিজা দিয়ে উৎসব করতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ দিয়ে চ্যার্টি করতে পারে। ৩১০ পাউন্ড দিয়েই কিনে নিতে পারে অস্ত্র।

আরো যে সুবিধা তারা ভোগ করে তা হলো নারী সঙ্গ। চাইলেই তারা অর্থের বিনিময়ে নারীদের সঙ্গে রাত্রীযাপন করতে পারে। অর্থের বিনিময়ে এমন দেহদানকারী নারীদের বলা হয় এসকর্ট বা পতিতা।

ব্রিটেনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে ওই জেলখানার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সঙ্গে যোগ করা হয়েছে বেশকিছু ছবি ও ভিডিও। এর একটি ক্লিপে দেখা যায়, অপরিচ্ছন্ন একটি মেঝেতে খালি গায়ে শুয়ে আছে এক বন্দী। এটি একটি ৫ বেডের সেল। সেখানে অবস্থান করে আরো ছয়জন। আরেকটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, ভগ্ন স্বাস্থ্যের কয়েকজন কয়েদি খুবই নিম্নমানের খাবার খাচ্ছেন। তৃতীয় আরেকটি ক্লিপে ফুটে উঠেছে, জেলখানার ভেতরে কয়েদিদের আঁকা ছবি। তারা দেয়ালে বাচ্চাদের মতো এঁকেছে এসব। আর একটি ক্লিপে একজন কয়েদিকে দেখা যায় কাগজে মোড়ানো কিছু একটা সংগ্রহ করছে। আসলে এটা কয়েদিদের মল। তারা যখন বাথরুমে যাওয়ার লম্বা লাইনে পড়ে তখন মেঝেতে কাগজ বিছিয়ে তার ওপর সারে প্রাকৃতিক কাজ। এরপর তা মুড়িয়ে জানালা দিয়ে ফেলে দেয় বাইরে। এমন অনেক আবর্জনা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে সেখানে। সেই মোড়ানো কাগজ সংগ্রহ করছিল ওই কয়েদি। এসব ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করেছে সিরিয়াল খুনি ইউলিয়াম ‘ওয়াইল্ড বিল’ হোলবার্ট। সে অবৈধ উপায়ে সংগৃহীত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ধারণ করেছে এসব ভিডিও ও ছবি। হোলবার্ট বলেছে, বন্দীরা প্রাকৃতিক কর্ম সারতে এই উপায় অবলম্বন করতে বাধ্য হয়। কারণ, সেলের যেসব টয়লেট আছে তা শুধু নির্দিষ্ট সময়ে ফ্লাশ করা হয়। তাই বন্দীরা এই উপায় অবলম্বন করতে বাধ্য হয়।

ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে একটি টিনেজ বালকসহ ৫ মার্কিন নাগরিককে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত হোলবার্ট। অর্থের প্রয়োজনে সে বোকাস ডেল টরোতে হত্যা করেছিল ওইসব মানুষকে। তারপর সে নিজে পরিচালনা করে এমন একটি হোস্ট্রেলের মাটির নিচে পুঁতে রেখেছিল মৃতদেহ। তার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেছেন ব্রিটিশ ওই পত্রিকাটির সাংবাদিক। এ সময় সেলের ভেতরে বসেই প্রশ্নের উত্তর দেয় হোলবার্ট। সে জানায়, সে এবং অন্য অভিযুক্তরা যা ইচ্ছা চাইলেই করতে পারে জেলের ভেতরে। শুধু প্রয়োজন অল্প কিছু অর্থ। তার ভাষায়Ñ এখানে সব কিছুই হয় অর্থে। আমরা প্রকৃতপক্ষেই ভালো আছি। আমি যে সেলে আছি এখানে আমার সঙ্গে আছে একটি শিশু। তার বিরুদ্ধে আছে অস্ত্র রাখার অভিযোগ। অন্যরা রাস্তায় মাদকদ্রব্য ব্যবহার বা বিক্রির দায়ে অভিযুক্ত। তবে এই জেলে আপনি একটি কাজই করতে পারবেন না। তা হলো সীমা লঙ্ঘন করতে পারবেন না এবং জেল থেকে বেরুতে পারবেন না।

এই জেলে ১০০ ডলার হলে একজন বন্দী পেতে পারে ২৪টি শক্তিশালী বিয়ারের একটি কেস। হোলবার্ট বলেছে, শুধু তাই নয়। তারা নারীদের সঙ্গে রাত্রীযাপন করতে পারে। চাইলে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে। এর জন্য ওই যে অর্থ, সেটা প্রয়োজন। তার ভাষায়, আপনি যা চাইবেন তার সবই পাবেন। আপনি যদি চান যে, আপনার স্ত্রী আপনার কাছে আসবেন এবং তিন দিন আপনার সঙ্গে থাকবেন, তাও করতে পারবেন আপনি। এর জন্য প্রয়োজন শুধু অর্থ। হোলবার্ট বলেছে, যখন আমি সিঙ্গেল ছিলাম তখন আমার কাছে মেয়েরা আসত। আবার ভোর ৪টায় তারা চলে যেতো। জেলখানার প্রহরীদের দিকে ইঙ্গিত করে হোলবার্ট বলেছে, তারা ওইসব মেয়েকে আপনার সেলে রাত ৮টায় দিয়ে যাবে। ভোরে যখন কয়েদি গণনা করা হয় তার আগেই ভোর ৪টায় ওই যুবতীকে সেল থেকে বেরিয়ে যেতে হয়। তার ভাষায়, এটা এখানে খুবই স্বাভাবিক বিষয়।