বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ইয়ূথ ও উইমেন’স ফোরামের বার্ষিক ডিনার

ঠিকানা রিপোর্ট: নিউ আমেরিকান ইয়ূথ ফোরাম অব নিউইয়র্ক, নিউ আমেরিকান ডেমোক্রেটিক ক্লাব ইন্ক, নিউ আমেরিকান উইমেন’স ফোরাম অব নিউইয়র্ক- এর উদ্যোগে জাকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলো অষ্টম অ্যানুয়েল ডিনার ও নিউ ইয়ার সেলিব্রেশন ২০১৯। ৬ জানুয়ারি রোববার সাড়ে ছয়টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সাটফিনে তাজমহল রেস্টুরেন্ট এ্যান্ড পার্টি হলে এই অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ছিল তিনটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের পরিচয় পর্ব, বক্তৃতাপর্ব , অ্যাওয়ার্ড প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠান শুরু হয় আমেরিকান ন্যাশনাল অ্যানথম এর মধ্য দিয়ে। পরিবেশন করেন রাহমি খান, এরপর বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এর পরপরই বিশ্বে যেসব ট্রেজেডীর ঘটনা ঘটেছে সেই ঘটনাকে স্মরণ করে ৩০ সেকেন্ড নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শুরু হয় শ্রীচিন্ময় সেন্টারের পরিবেশনা। শ্রী চিন্ময় সেন্টারের শিল্পীরা বাংলা ভাষায় বিভিন্ন গান পরিবেশন করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নিউ আমেরিকান ইয়ূথ ফোরাম অব নিউইয়র্ক এর আহনাফ আলম, শেখ আল আমিন, নিউ আমেরিকান উইমেন’স ফোরাম অব ইন্ক এর সভাপতি রুবাইয়া রহমান, নিউ আমেরিকান ডেমোক্রেটিক ক্লাব ইন্ক এর ফাউন্ডার মোরশেদ আলম। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন কাউন্সিল ওমেন গ্রেস মেং, নিউ ইয়র্ক স্টেটের স্টেট সিনেটর জন ল্যু, কুইন্স বরোর প্রেসিডেন্ট মিলিন্ডা ক্যাটস, এ্যাসেম্লীম্যান ক্যাটনিলা ক্রুজ, কাউন্সিল ম্যানদের বেশ কয়েকজন, নিউইয়র্ক গভর্নর এন্ডু কোমরের প্রতিনিধি, নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল অফিসের আয়েশা হক প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বক্তাগণ বাংলাদেশী আমেরিকানদের কমিউনিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার বিষয়টি তুলে ধরে তাদের ভূমিকার জন্য ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়। আগামী দিনে আরও বেশি করে এগিয়ে আসার ও সহযোগিাত অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজনকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য বর্ষসেরা পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এন্টারপ্রেনিউর অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন উৎসবের সিইও রায়হান জামান, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট অব দ্য ইয়ার কমিউনিটির নেতা কাজী এ হোসেন নয়ন, ওমেন লিডার অব দ্য ইয়ার জেনিফার রাজকুমার, আউটস্ট্যান্ডিং এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন নিউইয়র্ক পুলিশের ক্যাপ্টেন খন্দকার আব্দুল্লাহ, আইটি কনসালন্টিং এ্যান্ড ট্রেনিং কোম্পানী অব দ্য ইয়ার হয়েছে টেকফয়েস, ফিজিশিয়ান অব দ্য ইয়ার হয়েছেন ডা: নুরুন নাহার ইউসুফ, পপ স্টার অব দ্য ইয়ার রাহমি খান, ইয়ূথ লিডার অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন ডা: কাইফু কোয়াকু। তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন কাউন্সিল ওমেন গ্রেস মেং। ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়ার পাশাপাশি দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয় তাদের কর্মকান্ডের সাফল্যগাথা ।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্য ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেশ কিছু সংখ্যক অতিথি। এরমধ্যে ছিলেন এটর্নী মঈন চৌধুরী, মোহম্মদ এন মজুমদার মাস্টার্স অব ল, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, বেদারুল ইসলাম বাবলা, ফখরুল আলম, আনোয়ার হোসেন, হাসানুজ্জামান হাসান, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ, বর্তমান কোষাধ্যক্ষ মোহম্মদ আলী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনিকা রায়, শাহনেওয়াজ, ফাহাদ সোলায়মান, মাজেদা উদ্দিনসহ কমিউনিটির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও তিনটি সংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে এছাড়াও ছিল গান, নাচ ও ডিজে পার্টি। গ্রুপ পারফরমেন্সে ছিলেন স্মরলিপির ডালিয়া চৌধুরী, উদীপ্ত চৌধুরী, বর্ষা দেবনাথ, ভূমিকা দে। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন রোমানা জেসমিন। অনুষ্ঠানের স্পন্সর ছিল বোম্মে ট্রাভেল এ্যান্ড গ্রাফিক্স, রিয়েল স্টেট ইনভেস্টর আনোয়ার হোসেন, বিআইবিএএসি এর মোহম্মদ কে বাসার সিপিএ, এমএস, এ্যালাইড মটগ্রেজ গ্রুপের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মোহম্মদ জন ফাহিম, ফোমা ইনোভেটিভ ইন্ক এর ফাহাদ সোলায়মান, এটর্নী মঈন চৌধুরী, এ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার (আসাল), মেগা হোম রিয়েলটির মইনুল ইসলাম, নিউ ইয়র্ক ইন্সুরেন্স ও বেঙ্গল হোম কেয়ারের শাহ নেওয়াজ, আইটি জব ট্রেনিং এ্যান্ড প্লেসমেন্ট সার্ভিস টেকফয়েস, তাজমহল রেস্টুরেন্ট ও পার্টি হল ও উৎসব কুরিয়ার। নৈশ্যভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।