বর্তমানে মুসলিমদের করণীয় প্রধান দুটি কাজ

শফিক জামিল: মুসলিম জাতির সামষ্টিকভাবে প্রধানতম দুটি কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করতে হবে এবং এ কাজ মুসলিমদের আলেম সমাজ ও আধুনিক শিক্ষিত সমাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে করতে হবে। অতঃপর অন্য বিষয়ের ত্রুটি-বিচ্যুতির প্রতি দৃষ্টি দেওয়া যাবে। অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে ঠিক করার জন্য চিন্তা-চেতনা, পরিকল্পনা, ভাবনা না থাকলে এবং তা ঠিক করার উদ্যোগ গ্রহণ না করলে আমরা আবার প্রকৃত মুসলিম জাতি হিসেবেই পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা পাব না।
কাজ দুটি হলো :
১) প্রকৃত ইসলামি চেতনা ও দর্শন অনুযায়ী সঠিক বিজ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো পুনর্গঠন করা এবং ২) ইসলামি অর্থব্যবস্থার প্রবর্তন করা। তেমনি একই সাথে ব্যক্তি পর্যায়েও প্রধানতম দুটি বিষয়ে কাজ করতে হবে : ১. শিরক দূর করা ও ২. মোনাফেকি দূর করা।
খ্রিষ্টীয় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার দ্বারা সারা পৃথিবী চালিত হয় এবং সকল মুসলিম দেশও পুরোপুরি তারই আওতাধীন। স্পেনে মুসলিম শাসনের অবসানের পর হতেই মুসলিমরা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়তে থাকে এবং সেখানে খ্রিষ্টীয় ব্যবস্থাপনা স্থান দখল করে নিতে থাকে। এদিকে ১৭৫৭ সালে ব্রিটিশ খ্রিষ্টান কর্তৃক ভারতবর্ষে মুসলিমদের শাসনের অবসান ঘটে এবং সর্বশেষ ১৯২৪ সালে অটোম্যান সাম্রাজ্যের পতনের মাধ্যমে সারা বিশ্বে মুসলিম শাসনের অবসান ঘটে এবং প্রায় সব মুসলিম অঞ্চল খ্রিষ্টীয় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার আওতাধীন হয়ে পড়ে এবং সে ব্যবস্থাপনা মুসলিম দেশগুলোতে গেড়ে বসার জন্য গড়ে ওঠে অনুকূল অবকাঠামো, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও চিন্তা-চেতনার পরিবর্তনে ক্রিয়াশীল থাকে সূক্ষ্ম দর্শন। আর আমরা জানি, খ্রিষ্টান জাতির ঘাড়ে সর্বদাই ইহুদি জাতি সওয়ার ছিল এবং এখনো আছে। তাই এই খ্রিষ্টীয় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার পেছনে ইহুদিদের হাত আছে এবং ইহা প্রকৃত ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় পদে পদে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। তাই এমন সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ ইসলামি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ইহুদি, খ্রিষ্টান বা মুশরেক নাস্তিকদের কোনো কালিমা না লেগে থাকে।
বর্তমান বিশ্ব ইহুদিদের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণাধীন ও ইহুদি-খ্রিষ্টানদের গঠিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার দ্বারা বিশ্বের তাবৎ অর্থনৈতিক লেনদেন পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ হয়।
আর এ ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং এর আওতাধীন সকল পদ্ধতি সুদভিত্তিক দর্শন ও চেতনাকে ধারণ করেই গঠিত। তাই আমি ব্যাংক নামের শব্দটার ভেতরও সুদের গন্ধ পাই।
কিন্তু মুসলিম কিছু আলেম-ওলামা ও কিছু দেশের শাসকের ছত্রচ্ছায়ায় ইহুদি-খ্রিষ্টানদের আদলে, অবয়বে গঠিত ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনার ওপর মুদারাবা পদ্ধতি চাপিয়ে দিয়ে তাকে ইসলামি ব্যাংকিং বলে চালিয়ে দিচ্ছে। মূলত ইহা ইসলামি চেতনা, দর্শন, অর্থব্যবস্থাপনা, ইসলামি অবকাঠামো, সংস্কৃতির সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক; যা পৃথিবীর অধিকাংশ মুসলিমদের বুঝে আসে না-এমনকি আলেম-ওলামাদেরও। তাই মুসলিমরা, নামধারী মুসলিম জাতি হয়ে গেছে কিন্তু মুসলিম বা মুসলিম জাতি হিসেবে আর নেই।
আবার প্রকৃত মুসলিম বা মুসলিম জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে সমগ্র মুসলিম জাতিকে সর্বপ্রথম দুটি প্রধান কাজে মনোনিবেশ করতে হবে ১) প্রকৃত ইসলামি চেতনা ও দর্শন অনুযায়ী সঠিক বিজ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং ২) ইসলামি অর্থব্যবস্থার প্রবর্তন।
আর বিশুদ্ধ ইসলামি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা প্রবর্তনের পর যদি ওই রাষ্ট্রে ইসলামি অর্থনীতির ভিত্তিতে মাত্র পাঁচ বছর চালানো যায়, তবে সে রাষ্ট্রের চেহারার আমূল পরিবর্তন হয়ে যাবে, ইনশা আল্লাহ-এ কথা হলফ করে বলতে পারি।
রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা ও অর্থনীতি বিশুদ্ধ ইসলামীকরণের সাথে সাথেই রাষ্ট্রের মধ্যে বসবাসরত মুসলিমদের প্রত্যেকেই মুসলিম গুণসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, নয়তো যতই বিশুদ্ধ ব্যবস্থাপনা ও সুদবিহীন অর্থনীতি থাক না কেন-সে ইসলামি রাষ্ট্র টিকতে পারে না, যদি সে দেশের মুসলিমদের অনেকের মাঝে প্রধান দুটি ত্রুটি থাকে ১) শিরক ও ২) মুনাফেকি।
তাই মুসলিমদের ব্যক্তি পর্যায়ে এমন পরিশুদ্ধভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তাদের শিরক ও মুনাফেকি গেড়ে না বসতে পারে।
-কবি, প্রাবন্ধিক, নিউইয়র্ক।