বলাকা ওয়েলফেয়ারের জমজমাট পুনর্মিলনী

ঠিকানা রিপোর্ট: প্রবাসে বাংলাদেশী ট্যাক্সি ড্রাইভারদের যতগুলো সংগঠন রয়েছে তার মধ্যে বলাকা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েটস নিউইয়র্ক অন্যতম। নিজেদের মধ্যে সৌহার্দ্য- সম্প্রীতি এবং সুখ- দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় এই সংগঠনের। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই সংগঠন তাদের সদস্যদের পাশে রয়েছে। যারাই কোন সমস্যায় পড়েছেন তাদেরই সাহায্যে দুই হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রবাসে সাধারণত এই ধরনের সংগঠনের সংখ্যা খুবই কম। সদস্যদের বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করেছে এই সংগঠন অনন্য। এ ছাড়া তাদের অনুষ্ঠান রূপ নেয় পারিবারিক অনুষ্ঠানে। তাদের অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্যরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। অন্যদিকে গত সাত বছর ধরেই নিজেদের সন্তানদের যারা স্পেশাল স্কুলে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে তাদের উৎসাহিত করার জন্য তাদের হাতে সাটির্ফিকেটসহ তুলে দেয়া হচ্ছে সম্মাননা।
গত ৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় বলাকা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েটস নিউইয়র্কের বার্ষিক পুনর্মিলনী এবং নব নির্বাচিত কমিটির অভিষেক উডসাইডের গুলশান টেরেসে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আজহারুল ইসহাক খোকার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মীর সাঈদুজ্জামানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের কন্সাল জেনারেল শামীম আহসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দকী, এনওয়াই ইন্সুরেন্সের প্রেসিডেন্ট শাহ নেওয়াজ, সাবেক সভাপতি এম রহমান মাহবুব, বাংলাদেশ সোসাইটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ এ মুমিত মাসুদ, সংগঠনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, সালিম মালিক সর্দার, শাহীন হাসনাত, মনির হোসেন, আলি আশরাফ লিটন, এটিএম কে পাশা, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী বাপ্পি, পাবনা সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম নান্নু।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাবেক উপদেষ্টা সেলিম ইকবাল মান্নান।
অনুষ্ঠানে নব নির্বাচিত কমিটি, উপদেষ্টা পরিষদ এবং অনুষ্ঠান উপ কমিটিকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। কার্যকরি কমিটির সদস্যরা হচ্ছেন- সভাপতি মোহাম্মদ আজহারুল ইসহাক খোকা, সাধারণ সম্পাদক মীর সাইদুজ্জামান, সিনিয়র সহ সভাপতি মোহাম্মদ আবুল জোয়ারদার, সহ সভাপতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সহ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ খোরশেদ আহমেদ, অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আর করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক ফেরদৌস আলম এবং কার্যকরি সদস্য মোহাম্মদ এ মুমিত মাসুদ, মালে হাকিম সানি, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আবুল বাশার মিলন, মোহাম্মদ মাহবুবুল হক হানিফ ও মোহাম্মদ এ কাইয়ুম। উপ কমিটির সদস্যরা হচ্ছেন- মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আর করিম, মোহাম্মদ হারুনর রশিদ, মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন, মোহাম্মদ এ হক বাবুল, ফেরদৌস আলম ও আশিক ইলাহী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামীম আহসান নব নির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আমি নিউইয়র্কে কন্সাল জেনারেল হিসাবে আসার পর প্রথম বলাকা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েটসের অনুষ্ঠানে এসেছিলাম। আমি শুরু করেছিলাম বলাকা দিয়ে আর শেষ করছি বলাকা দিয়ে। আমি বলাকার সব অনুষ্ঠানেই ছিলাম। বলাকার সাথে আমার সুন্দর স্মৃতি রয়েছে। শুধু বলাকা নয় প্রবাসে পুরো বাংলাদেশী কম্যুনিটির সাথে আমার সুন্দর স্মৃতি রয়েছে। সেই স্মৃতি আমি বহন করে নিয়ে যাবো। আমি মনে করি এটাই আমার জীবনের বড় পাওয়া। তিনি আরো বলেন, বলাকাকে আমি একটি পরিবার মনে করি। আপনারা নিজেদের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখেছেন। এই বন্ধনকে অটুট রেখে এগিয়ে যাবেন। তা ছাড়া আপনাদের কর্মকা- প্রমাণ করে আপনারা নিজ জন্মভূমি বাংলাদেশকে ভুলে যাননি।
সভাপতি মোহাম্মদ আজহারুল ইসহাক খোকা তাদের সংগঠনের দায়িত্ব দেয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনাদের দেয়া দায়িত্ব আমি সঠিকভাবে পালন করবো এবং আপনাদের সকলের সহযোগিতায় আমাদের প্রাণপ্রিয় সংগঠনকে এগিয়ে নেব ও ঐতিহ্য অব্যাহত রাখবো। তিনি অনুষ্ঠান সফল করার জন্য যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে স্পেশাল স্কুলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার এবং বিশেষ কৃতিত্বের জন্য তাসনিয়া হাকিম এবং লাবিয়া ফাইরাজকে সাটির্ফিকেট প্রদান ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রদান করেন প্রধান অতিথি শামীম আহসান। এ ছাড়াও মনিরুল ইসলাম মনিরের সম্পাদনায় বলাকা নামে ম্যাগাজিনেরও মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধান অতিথি।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দিমানিফার তিথির পরিচালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন শাহ মাহবুব, রোকসানা মির্জা, বাপ্পি সোম, রানো নেওয়াজ ও খুশি। হল ভর্তি অডিটোরিয়ামে উপস্থিত সবাই প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশনা প্রাণভরে উপভোগ করেন। বিশেষ করে শাহ মাহবুবের গানের সাথে প্রবীন এবং নতুন প্রজন্মের শিশু- কিশোররা নেচে গেয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।