বাংলাঘর : গ্রন্থ আলোচনা

শামসুল আলম জুয়েল : আজ এই অধুনা সময়ে ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকার মাঝে যেন প্রিন্টমিডিয়ার অনেকটা ভাটা পড়ে গেছে। তবুও নির্দ্বিধায় বলা যায় সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতিবিষয়ক পত্রিকা ‘বাংলাঘর’ ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হয়ে সে ক্ষত অনেকটা পূরণ করতে চলেছে। সচেতন পাঠকমহল এই পত্রিকাটা নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী বলে মত দিয়েছেন। বাংলাঘর সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতিবিষয়ক পত্রিকায় বাংলাদেশের অমর ব্যক্তিত্ব ও অপরাজেয় বাংলার মানুষের অন্তরের লালিত স্বপ্ন পুরুষ বঙ্গপিতা যিনি বঙ্গবন্ধু নামে খ্যাত সেই বিখ্যাত ব্যক্তি শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে উৎসর্গ করে প্রথম পাতায় প্রচ্ছদ এঁকে ‘নিউ ইংল্যান্ড বাংলাদেশি আমেরিকান ফউন্ডেশন (নিবাফ) ইনক’ সম্মান প্রদর্শন করেছেন।
এ কথা সত্য যে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির জন্য যে অবদান রেখেছেন বাংলাদেশ যতকাল বেঁচে থাকবেন ততকাল তাঁকে মাথার মুকুট করে রাখবেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের এক অজপাড়া এলাকায় জন্মগ্রহণ করেও নিজেকে যে বিশে^র কাছে মেলে ধরা যায় তারই এক উজ্জ্বল চেতনার নক্ষত্র হয়ে সারাবিশে^র মানুষের কাছে তিনি জ¦লন্ত উদহারণ হয়ে রইলেন। এই উদীয়মান তরুণ নেতা দেশের উৎপীড়িত, নিপীড়িত মানুষের কল্যাণে সেদিন এগিয়ে না এলে হয়তো এই স্বাধীন বাংলাদেশ নামক দেশটার জন্ম নেওয়া অনেকটা কঠিন ও লম্বা সময়ের হয়ে যেতো। শেখ মুজিবুর রহমান জীবনের সকল ভয় ও মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে স্বাধীন নামক এই বাংলাদেশকে ছিনিয়ে এনেছিলেন। তিনি ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মার্চ বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা শেখ লুৎফর রহমান ছিলেন আদালতের এক বিশিষ্ট কর্মচারী এবং তাঁর মায়ের নাম সায়েরা বেগম। চাচাতো বোন রেণুর সাথে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। শেখ মুজিবুর রহমানের ডাক নাম খোকন। পরিবারের তৃতীয় সন্তান হলেও তিনি ছিলেন বেশ স্পষ্টভাষী, ন্যায়পরায়ণ ও নির্ভীক। তিনি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। নিজ এলাকার শিক্ষাব্যবস্থায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে এবং সেখানে তিনি আইন বিভাগে ভর্তি হন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি মুসলিম লীগের সাথে জড়িত ছিলেন সুতরাং রাজনীতি তাঁর জীবনের সাথে জড়িয়ে যায়। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে তিনি দ্বিতীয় বিভাগে এন্ট্রাস পাস করলে ওই বছরেই তাঁর কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ হয়। এখানে অল্পসময়ে তাঁর সুযোগ্য নেতার হওয়ার পেছনের মূলমন্ত্র ছিল রাজনীতির শক্তিশালী ভিত্তি নির্মাণের অপরিহার্যতা। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম লীগ প্রধান আলি জিন্নাহর সিরাজগঞ্জ মহাকুমায় প্রাদেশিক মুসলিম লীগ সম্মেলনে আগে থেকেই পরিচিত শহীদ সোহরাওয়ার্দী যোগদান করলে শেখ মুজিবও এই সভায় বিশাল দল নিয়ে যোগদান করেন। ১৯৪৩’র নজিরবিহীন দুর্ভিক্ষের সময় সোহরাওয়ার্দী ছিলেন সরকারের সিভিল সাপ্লাই মন্ত্রী। এই সময়ে তাঁর নির্দেশে কলকাতায় কিছু লঙ্গরখানা খোলা হলে সে সময়ে প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সদ্য কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়া শেখ মুজিব দলের নিবেদিত প্রাণকর্মী হিসেবে দুর্ভিক্ষকবলিত হতাশাগ্রস্ত মানুষের মধ্যে রিলিফের কাজ করেন। একই বছরে ৭ নভেম্বর মুসলিম লীগের দু’ধারার মধ্যে প্রগতীশীল ধারায় যোগদান করেন। এই ধারার সাথে সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিম জড়িত ছিলেন। যেহেতু ইসলামি কলেজ সে সময়ে রাজনীতি চর্চা কেন্দ্র ছিল তাই ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শেখ মুজিব সেখানকার জনপ্রিয় ছাত্রনেতা ছিলেন। এরপর ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের নেতৃত্বে ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগের পরে সৃষ্টি হলো ভারত ও পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র। সাম্পপ্রদায়িকতার ফলে দেশভাগের পরে দাঙ্গা ও প্রচুর মানুষের নিষ্ঠুর বর্বরোচিত নিধন ও মানবিক বিপর্যয়ে তিনি দারুণভাবে মানসিক দিক দিয়ে পর্যদুস্ত হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে পূর্ব পাকিস্তানে এসে রাজনীতির নতুন কৌশলসহ নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করেন। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে ৪ জানুয়ারি ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলের ‘অ্যাসেম্বলি হলে’ এক সভায় পূর্ব পাকিস্তানের মুসলিম ছাত্রলীগ নামকরণ করা হয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার অল্প কয়েক মাস পর থেকে দুঃসহ জুলুম ও অমানসিক নির্যাতন বাংলার মানুষের উপর শুরু হলে সকলে হতবিহ্বল ও বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ল। সীমাহীন অপশাসনের হাত থেকে প্রতিটা মানুষ মুক্তি পেতে চাইল। অবশেষে এই স্বৈরশাসনের হাত থেকে রেহায় পেতে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ ২৩ জুন মওলানা হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি ও শামসুল হককে সহসভাপতি করে পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী-মুসলিম লীগ গঠন করা হয়। এই সময়ে শেখ মুজিব জেলে রাজবন্দী থাকায় তাঁকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এরপর ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ভাষা আন্দোলনসহ নানা ঘাত-প্রতিঘাতে তাঁর রাজনৈতিক জীবন অতিবাহিত হলেও চূড়ান্তরূপ ধারণ করে ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দের স্বায়ত্তশাসনের অগ্নিগর্ভ ছয় দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। এরই ফলে তিনি ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে ৭ মার্চের ভাষণদান ও স্বাধীনতার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানি হায়েনাদের হাতে গ্রেফতার এবং জীবননাশের হুমকি থেকে ফিরে আসেন। তৎকালীন সময়ের রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খানসহ পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে শেখ মুজিবের আলোচনা বিফলে গেলে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকা শহরে এক বর্বরোচিত গণহত্যা চালানোর ফলে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। একই রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হলে ব্রিগেডিয়ার রহিমুদ্দিন খানের সামরিক আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলেও তা আর বাস্তবে কার্যকর করা হয়নি। দীর্ঘ ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তির জন্য যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করার ভেতর দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে ‘বাংলাদেশ’ নামক এক স্বাধীন ও সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
’৭২-এর ১০ জানুয়ারি সোহারাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের বক্তৃতায় বলেন, ‘ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময় আমি বলবোÑ আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা। জয় বাংলা।’ এরপর বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করেন। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ১২ জানুয়ারি তিনি সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেন। আদর্শ ও মতগতভাবে তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী ছিলেন যেটা সম্মিলিতভাবে (১০-এর পাতার পর)
মুজিববাদ নামে পরিচিত। এই আদর্শের উপর ভিত্তি করে সংবিধান প্রণয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা সত্ত্বেও তীব্র দারিদ্র্য, বেকারত্ব, সর্বত্র অরাজকতাসহ ব্যাপকহারে দুর্নীতি মোকাবেলায় তিনি কঠিন সময় অতিবাহিত করেন। ক্রমবর্ধমানহারে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা দারুণভাবে বৃদ্ধি পেল তখন ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করতে বাধ্য হন। এরপর একই বছরের ১৫ অগাস্ট তিনি একদল সামরিক কর্মকর্তার হাতে নির্মমভাবে নিহত হন। ২০০৪ খ্রিস্টাব্দের বিবিসির জরিপে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বলে নির্বাচিত হন। এই রকম নানাভূত জায়গা থেকে এখন পর্যন্ত তিনি পর্যায়ক্রমে স্বীকৃতি পেয়ে চলেছেন।
‘শেখ মুজিবুর রহমানÑ ফাদার অব দা নেশন’ শিরোনামে সম্পাদকীয় বার্তা দিয়ে বাংলাঘর পত্রিকাটার সূচনাপর্বে স্বাক্ষর রেখেছেন ফেরদৌস জেসমীন। এর পরপরই বাংলাদেশের সুযোগ্য প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার মূল্যবান বাণী দিয়ে ‘বাণীপর্ব’ শুরু করা হয়েছে। আরও বাণী দিয়েছেন, ‘জাহিদ মালেক- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালায়, মমতাজ বেগম এমপি। ‘গ্রেটিংস, ইনডিপেনডেন্স এন্ড ডেমোক্র্যাসি ডে ফর বাঙালি পিপল’ শিরোনামে ড. হাই ভ্যান হা; যিনি চিফ এডভাইজর, নিবাক, ইনক এবং বাণী দিয়েছেন মো. রমজান আলী যিনি শ্রেষ্ঠ শিক্ষানুরাগী এশিয়া মহাদেশ ও সভাপতি- বঙ্গবন্ধু চার নেতা স্মৃতি পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি।’ এরপরে বাংলা ১৪২৭ সালের অভিবাদন জ্ঞাপন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নিবাফের চেয়ারপার্সন ফাহমিদা মালিক। সবকথা বলা হলেও কিছু কথা থেকে যায় আর সে কথাগুলো বলেছেন পত্রিকাটার সম্পাদক ফেরদৌস জেসমীন ‘প্রবাসে স্বদেশ বাংলাঘর শিরোনামে। এরপর আয়োজক কমিটি ২০২০-এর ছবিসহ নাম প্রকাশ করা হয়েছে যথক্রমে ফাহমিদা মল্লিক, ফারহানা খুরশিদ, নাহিম সেতারা, তাহেরা আহমেদ মিতু, মারুফ আহমেদ, ফেরদৌস জেসমীন, মোহাম্মদ মিয়াজি, রাজু বড়ুয়া, মোস্তফা মোহাম্মদ, কামরুন নাহার কান্তা, নিগার সুলতানাসহ তোফাতুল ইসলাম মিল্টনের।
নিবাফ সম্পূর্ণ কমিউনিটি সেবাদানকারী অলাভজনক, স্বেচ্ছাসেবী, নির্দলীয় একটা অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। এটা দ্বারা পরিচালিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে দারুল কাবাব, রাওয়ান রমজান বাংলা স্কুল, রাওয়ান ইসলামিক স্কুল, রুহানী সঙ্গীত নিকেতনসহ বাংলাঘর বাৎসরিক পত্রিকা উল্লেখযোগ্য। মূল উদ্দেশ্য হলো সামাজিক, সাংস্কৃতিক, দাতব্য শিক্ষাবিষয়ক বিষয়াবলী পর্যবেক্ষণসহ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রিলংকাসহ ভুটান এই সংগঠনের তালিকাভুক্ত দেশ। এই সংগঠন অসহায় মানুষকে বিভিন্নদিক দিয়ে সহায়তা, সৎপরামর্শ, বেকারত্ব নিধন, আবাসন সমস্যা এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন সুবিধাসহ অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান ও বিভিন্ন প্রকার সুবিধা দিয়ে থাকেন। বাংলাঘর পত্রিকাতে রাওয়ান রমজান স্কুল, ইসলামিক সঙ্গীতসহ ড্যান্স স্কুলের কিছু মেধাবী ছাত্রছাত্রীর ছবি ছাপা হয়েছে চলতি সংখ্যায়। একাবিংশ শতকের দক্ষতা এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশ কেমন করছে’ শিরোনামে প্রফেসর ইমারেটাস, ব্র্যাক বিশ^বিদ্যালয়ের মঞ্জুর আহমেদ বাংলাদেশকে প্রশংসা করে একটা সুন্দর মনকাড়া প্রবন্ধ লিখেছেন। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা ইউনিসেফে কর্মরত মানসি মেহতার ‘সিচুয়েশন ওভারভিউ বা পরিস্থিতি কাটিয়ে’ ওঠা শিরোনামে একটা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। ‘১৯২০-১৯৭৫ বঙ্গবন্ধু জাতিরপিতাড়Ñ বিশ^নেতা’ নামক সংক্ষিপ্ত জীবনী নিয়ে ‘রাতুলকান্তি বড়ুয়া’ যত্নসহকারে অপর একটা প্রবন্ধ রচনা করেছেন। জুলিয়ানা রোজ ‘ছোটবেলার বন্ধু’ শিরোনামে একটা অনুগল্প লিখেছেন যেটা পড়লে সবার ভালো লাগবে। স্মৃতিচারণ একটা লেখা রচনা করেছেন মো. শাহজান বাবুল আমেরিকা থেকে ‘কেন আমি আমেরিকায় এলাম’ এখানে লেখকের বঙ্গবন্ধুবিষয়ক কিছু জীবনচারিত কথা উঠে এসেছে, যা পড়লে যেকোনো পাঠক বিমোহিত হবেন। সম্পাদকের লেখা থেকে উঠে এসেছে একটা নিবন্ধ ‘দোয়া মাহফিল ফর লেট সাঈদউদ্দিন আহমেদ’ নামক একটা নিবন্ধ। ‘প্রকৃত ও মানুষ নিয়ে একটা প্রার্থনামূলক কিছু কথা লিখেছেন লেখক, সাংবাদিক ও সমাজ সংগঠক ‘নাহিদ নজরুল’। ‘শোনাও প্রাণে প্রাণে’ শিরোনামে ছোটগল্প রচনা করেছেন কোয়েল তালুকদার। ‘অভাজন মানুষ’ শিরোনামে একটা গদ্যকবিতা রচনা করেছেন মীর ফজলুল হক। এ ছাড়া ‘অদম্য সাহসী, শিরোনামে কিছু বিশে^র বীর সন্তানের জীবনকাহিনী নিয়ে সংক্ষেপে উঠে এসেছে তাদের জীবনের সফলতার কথা। জেব উন নেসা জামালের রচিত দু’টো দেশের গান প্রকাশ করা হয়েছে এখানে। এরপর একগুচ্ছ কবিতার সমাহারে লেখার কাজ সমাপ্ত হয়েছে। যাঁরা লিখেছেন এখানে ড. সাজেদ কামাল, ফেরদৌস জেসমীন, নিগার সুলতানা, মাসুদ করিম, বেলাল মোহাম্মদ জীবন, মিসেস রাজু বড়ুয়া, সৃষ্টি নিজামী, সাবিনা চৌধুরী, ফারজানা আহমেদ, আতিয়া সুলতানা, মনজু আলম, এম ইব্রাহিম খান, ফরিদা খানম, রোকেয়া এলিজা কামাল, শামীমা সুমি, ফেরদৌস খান, নাসরিন চৌধুরীসহ জেসমীন আনামের কবিতাগুলো উল্লেখযোগ্য। তা ছাড়া বস্টনের রাওয়ার রমজান স্কুলে বিজয় দিবস উদযাপন এবং বস্টনে ঈদুল ফিতরের বিশাল জামাত, ওপেনিং শিরোমনিতে বৈশাখী মেলার নানারূপের সঙ সাজের ছবিসহ কালচারাল প্রোগ্রাম এবং ট্রাস্টেড ভয়েস ফর ২০২০ সেনসাস’ শিরোনামে কর্মকর্তাদের ছবির এলবাম সাজানোসহ নেবায় ইউনিটি গালা লেডারশিপ টিমের ছবিতে পত্রিকাটা সুন্দর ও আকর্ষণীয় হয়েছে।
পরিশেষে এ কথা বলা যায় যে প্রবাস জীবনের এই উদ্যোগ নিজ দেশের মানুষের জন্য অশেষ কল্যাণ বয়ে আনবে নিঃসন্দেহে তবে এটাকে ধরে রাখতে গেলে সবার মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। বাংলাঘর পত্রিকা সবদিক থেকে সেরা হলেও পাঠকের চোখে কিছু বিষয়ের উপর দুর্বল লাগতে পারে। এমনটা মনে হলে, আমার বিশ^াস পত্রিকার সম্মানিত সম্পাদকমণ্ডলী তা অচিরেই কাটিয়ে উঠবেন বলে আমি আশাবাদী।
-লেখক, সমালোচক, প্রবন্ধকার, কবি ও গবেষক
ফেরদৌস জেসমীন
সম্পাদক (বাংলাঘর)
নাহিদ নজরুল সিতারা
সম্পাদকমণ্ডলীর প্রধান উপদেষ্টা