বাংলাদেশি আমেরিকানদের অর্জনের বছর ২০১৮

ঠিকানা রিপোর্ট: ২০১৮ সাল বিদায় নিয়েছে। সবাই নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে। ২০১৮ সাল আমেরিকায় বাংলাদেশীদের জন্য যেমন ছিলো কঠিন সেই সাথে সফলতাও ছিলো। প্রথমবারের মত ২০১৮ সালে বাংলাদেশী স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ ডিপার্টমেন্টে প্রথম বাংলাদেশী হিসাবে খন্দকার আব্দুল্লাহ ক্যাপটেন হয়েছেন। আরো তিন বাংলাদেশী পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। বর্তমানে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে বাংলাদেশীরা তাদের অবস্থান তৈরি করছেন। নতুন প্রজন্মের শিশু- কিশোররা স্কুল- কলেজে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করছেন। নিউইয়র্কের স্পেশাল স্কুলগুলোতে বর্তমানে প্রতি ১০ জন শিক্ষার্থীর একজন বাংলাদেশী।
আটটি স্পেশাল স্কুলে এ বছর ভর্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল ২৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী যাদের মধ্যে ভর্তির সুযোগ পায় মাত্র ৫ হাজার ৭৮ জন। এদের মধ্যে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীই বাংলাদেশি। অর্থাৎ ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ১০ শতাংশই বাংলাদেশি।
বাংলাদেশি হিসেবে ‘অনারেবল মেনশন’ খেতাব জয় করে ফাতিহা আয়াত। ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ইন্ডিয়ানাপলিসের সাউথপোর্ট হাইস্কুলে প্রায় ১৫০ প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের পাঁচটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে তিনটিতে জয়ী হয়ে ১১ পয়েন্ট নিয়ে এই খেতাব অর্জন করে ফাতিহা। নিউইয়র্কের গিফটেড ও ট্যালেন্টেড প্রোগ্রামের গ্রেড ওয়ানের শিক্ষার্থী ফাতিহা ‘অনারেবল মেনশন’ ঘোষণার পর বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে মঞ্চে উঠে পুরস্কার গ্রহণ করে।
২০১৮ সালে নাঈমা খান জাতিসংঘের ‘শুভেচ্ছা দূত’ মনোনীত হন। ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অব মিডিয়ার নির্বাহী পরিচালনা পর্ষদের কো-চেয়ার ড. আমিন ক্রুজ ১৫ অক্টোবর এ নিয়োগের আদেশ দেন। ১৯ অক্টোবর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এ নিয়োগের সনদ আনুষ্ঠানিকভাবে নাঈমা খানের হাতে হস্তান্তর করা হয়।
আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডিস্ট্রিক্ট-৫ থেকে ডেমক্রেটিক দলের মনোনয়নে স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হন বাংলাদেশি আমেরিকান শেখ রহমান।
অধ্যাপক ডা. চৌধুরী হাফিজ আহসান আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজির নেভাদা স্টেটের গভর্নর নির্বাচিত হন নভেম্বরেই। এর ফলে ওয়াশিংটন ডিসিতে গভর্নিং বোর্ডের সদস্য হিসেবে তিনি কাজ করবেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক সময়ের তুখোড় ছাত্র হাফিজ আহসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেডিসিন এ স্বর্ণপদক লাভ করেন। ইংল্যান্ড ও আমেরিকায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। পরে ডিরেক্টর অব কার্ডিয়াক ক্যাথ ল্যাব হিসেবে কাজ শুরু করেন হাফিজ। পরে লাস ভেগাসে ইউনিভার্সিটি অব নেভাদাতে হাফিজ আহসান অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যান। প্রতিষ্ঠা করেন উত্তর আমেরিকা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের নেভাদা চ্যাপটার। চৌধুরী হাফিজ আহসান বাংলাদেশি আমেরিকান হিসেবে মূলধারার রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত।
বছরের শেষ মাসে পরপর দুটি সুখবর নিয়ে আসেন দুই বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা। এর একজন খন্দকার আবদুল্লাহ, যিনি আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশ আমেরিকান হিসেবে পুলিশের উচ্চপদে পদোন্নতি পান। ২১ ডিসেম্বর খন্দকার আবদুল্লাহকে নিউইয়র্ক পুলিশের ক্যাপ্টেন পদে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেয়া হয়। একই মাসে নিউইয়র্ক পুলিশের সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পাওয়ার সুখবর দিয়েছেন ফজিলাতুন্নেছা। তিনিই নিউইয়র্ক পুলিশে প্রথম বাংলাদেশি নারী সার্জেন্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।