বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধে আরও ৬ মাস সময় পেলো শ্রীলঙ্কা

ঠিকানা অনলাইন : বৈদেশিক ঋণের চাপে জর্জরিত শ্রীলঙ্কাকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধের মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২১ সালে নেয়া এ ঋণ এ বছরের মার্চের মধ্যে পরিশোধ শুরুর কথা ছিল। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশটি এই ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়। এমন অবস্থার প্রেক্ষিতে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়িয়ে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত করেছে বাংলাদেশ।

বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ অফিসে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. আব্দুর রউফ তালুকদার। তিনি বলেন, আজকে শ্রীলঙ্কার সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দেশটির গভর্নর গত অক্টোবর আমার সঙ্গে দেখা করেছিল এবং তারা বলেছিল, ফেব্রুয়ারি মার্চের মধ্যে তাদের থেকে পাওনা টাকা তারা পরিশোধ করবে। কিন্তু তারা সেটি করতে পারেনি। তারা নতুন করে আমাদের কাছে সময় চেয়েছে এবং আমরা তাদের আগামী আগস্ট ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছি। আমাকে তারা কনফার্ম করেছে এই সময়ের মধ্যেই তারা আমাদের টাকা পরিশোধ করবে। আমরা তাদের সময় বাড়িয়ে দিয়েছি এবং এই অর্থের ইন্টারেস্টও পাব।

যদিও গত বছরের অক্টোবরে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর চলতি বছরের মার্চের মধ্যে বাংলাদেশের কাছ থেকে ধার নেয়া ২০০ মিলিয়ন বা ২০ কোটি ডলারের পুরোটা পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

রাজাপাকসে পরিবারের সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট আর দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা না করেই বড় বড় অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের কারণে মুখ থুবরে পড়েছে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি। সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল কোভিডের ধাক্কা। তখন ২০২১ সালে চরম সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কার পাশে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে তিন দফায় ২০ কোটি ডলার ঋণ দেয়া হয় শ্রীলঙ্কাকে। মুদ্রা বিনিময় নীতি মেনে ঋণ পরিশোধের সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু দেউলিয়া ঘোষণার পর শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে ঋণের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। তবে গত অক্টোবরে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় যোগ দিতে এসে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর আশ্বাস মেলে ঋণের টাকা ফেরত পাওয়ার।
গত মাসে শ্রীলঙ্কা আইএমএফ থেকে ২.৯ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ঋণ পেয়েছে। ফলে দেশটি এখন তার অন্য ঋণের বোঝা মুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশটিকে ৭.১ বিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এরমধ্যে শুধু চীনই পাবে ৩ বিলিয়ন ডলার, ২.৪ বিলিয়ন ডলার পাবে প্যারিস ক্লাব এবং ১.৬ বিলিয়ন ডলার পাবে ভারত।

ঠিকানা/এসআর