বাংলাদেশের পদক জয়ের স্বপ্ন শুধু শুটিংয়েই

স্পোর্টস রিপোর্ট : আগামী ৪ থেকে ১৫ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ার গোল্ডকোস্ট শহরে অনুষ্ঠিত হবে ২১তম কমনওয়েলথ গেমস। এই গেমসে পদকের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বাংলাদেশসহ কমনওয়েলথভুক্ত ৭১টি দেশের এ্যাথলেটরা।

এবারের গেমসে বাংলাদেশ ছয়টি ডিসিপ্লিনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এগুলো হলো- শূটিং, সুইমিং, বক্সিং, ভারোত্তোলন, রেসলিং ও এ্যাথলেটিক্স। এই ছয় ইভেন্টে মোট প্রতিযোগীর সংখ্যা ২৬ জন। এর মধ্যে ১৩ জন ছেলে, ১৩ জন মেয়ে। আছেন ১১ জন প্রশিক্ষক। বাকি পাঁচজন সেফ দ্য মিশন, টিম ম্যানেজার, টিম ডাক্তার, টিম এ্যাটাচি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা। সবমিলিয়ে ৪২ জনের বাাংলাদেশ দল যাচ্ছে গোল্ডকোস্টে।

ইতোমধ্যে শূটিং দল গোল্ডকোস্ট পৌঁছেছে। এই ডিসিপ্লিন থেকে অংশ নিচ্ছে সর্বোচ্চ ১৮ জন প্রতিযোগী। বাংলাদেশ দলের অন্য ডিসিপ্লিনের সদস্যরা দেশ ছাড়তে শুরু করবে ৩১ মার্চ থেকে।

এবারের গেমসে শুধু শূটিং থেকেই স্বপ্ন বুনছে বাংলাদেশ। গেমস উপলক্ষে গত ২৫ মার্চ অলিম্পিক ভবনে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বাংলাদেশ অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) সেখানে সংস্থারটির মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা জানান, শূটিং থেকেই শুধু পদক জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গেমসে বাংলাদেশ দলের সেফ দ্য মিশন বিওএ’র সহসভাপতি নাজিমউদ্দীন চৌধুরী, উপ-মহাসচিব আসাদুজ্জামান কোহিনুর ও কোষাধ্যক্ষ কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল। সংবাদ সম্মেলনে গেমসে অংশগ্রহণ ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন কর্মকর্তারা। তবে প্রত্যাশা যা সবই শূটিংকে ঘিরে। এ ডিসিপ্লিন থেকেই বাংলাদেশ পদক পেলে পেতে পারে বলে জানান কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের সবচেয়ে বড় দল শূটিংয়ের। ১৩ শূটারের সঙ্গে আছেন ৩ কোচ ও ২ অফিসিয়াল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬ সদস্যের দল যাবে ভারোত্তোলনে। দলে ৫ ভারোত্তোলকের সঙ্গে যাচ্ছেন এক কোচ। সম্ভাবনা আছে বলেই বড় একটা দলই পাঠানো হয়েছে শূটিংয়ের। ১৩ জন শূটার অংশ নেবেন ৮ ইভেন্টে। কন্টিনজেন্টের সেফ দ্য মিশন নাজিমউদ্দীন চৌধুরী বাংলাদেশ শূটিং স্পোর্টস ফেডারেশনেরও সভাপতি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শূটিং দল যাওয়ার সময় বলেছি, স্বর্ণ জিতলে ১০ লাখ, রৌপ্য জিতলে ৭ লাখ ও ব্রোঞ্জ জিতলে ৩ লাখ টাকা করে দেয়া হবে শূটারদের। অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশনের ঘোষণা দেয়া আছে আগেরই। আন্তর্জাতিক গেমসে স্বর্ণ জিতলে ১০ লাখ, রৌপ্য জিতলে ৫ লাখ ও ব্রোঞ্জ জিতলে ৩ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়া হয়। আরেকবার সেটা মনে করিয়ে দিয়েছেন বিওএ’র মহাসচিব।

মহাসচিব শাহেদ রেজা বলেন, শূটিংয়ে আমাদের সম্ভাবনা ভালো। এ কারণে তারা যা চেয়েছি সব দিয়েছি। আশা করছি ভালো কিছু হবে। গেমসে বাংলাদেশের খেলা শুরু হবে ৫ এপ্রিল। ওইদিন সুইমিং, বক্সিং ও ভারোত্তোলনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বাংলাদেশ।

গেমসে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট : অ্যাথলেটিক্স মেজবাহ আহমেদ, শিরিন আক্তার, খুরশিদা খাতুন
বক্সিং মো. রবিন মিয়া, আল-আমিন, কাজী আব্দুল মান্নান।

ভারোত্তোলন বিদ্যুৎ কুমার রায়, শিমুল কান্তি সিংহ, ফুলপতি চাকমা, মাবিয়া আক্তার সীমান্ত, জহুরা খাতুন নিশা, ফাহিমা আক্তার ময়না।
সুইমিং রেজাউল হোসেন বাদশা, আরিফুল ইসলাম, মোহাম্মদ মাহমুদুন নবী নাহিদ, নাজমা খাতুন।

শূটিং আবদুল্লাহ হেল বাকী, শোভন চৌধুরী, রিসালাতুল ইসলাম, রাব্বি হাসান মুন্না, শাকিল আহমেদ, আনোয়ার হোসেন, আরমিন আশা, আরদিনা ফেরদৌস, আমিরা হামিদ, সৈয়দা আতকিয়া হাসান, জাকিয়া সুলতানা, সুরাইয়া আক্তার, শারমীন শিল্পা, ক্ল্যাবসজন ক্রিস্টেনসেন, মারকো সকিফ, হোসনে আরা বেগম, গোলাম সফিউদ্দিন খান, ইন্তেখাবুল হামিদ অপু।

কুস্তি আল আমজাদ, শিরিন সুলতানা ও তাবিউর রহমান পালোয়ান। সেফ দ্য মিশন নাজিমউদ্দীন চৌধুরী। জেনারেল টিম ম্যানেজার ফখরুদ্দীন হায়দার।
টিম ডাক্তার ডা. মো. শফিকুর রহমান। প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান।