বাংলাদেশ চেয়েছে ২ টাকা ভারত দিতে চায় ২৫ পয়সা!

নিজস্ব প্রতিনিধি : পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক ও লরি যাতে অবাধে চলাচল করতে পারে, সে জন্য ট্রানজিট ফি নির্ধারণ করে রাখতে চায় বাংলাদেশ। ফির হার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন করতে চায় ভারত। ভারত কোনো ট্রানজিট ফি দিতেই রাজি নয়। বাংলাদেশ ট্রাক/লরিতে প্রতি টনে কিলোমিটারপ্রতি দুই টাকা ফি নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে। ভারত তা দিতে মোটেই আগ্রহী নয়। সর্বশেষ তারা দুই টাকার স্থলে ২৫ পয়সা ফি নির্ধারণের পক্ষে।
সড়ক ও জনপথ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আটটি সড়ক, মহাসড়ক দিয়ে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক ও লরি চলাচল করবে। চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তমুখী সড়ক, মহাসড়ক দিয়ে চলাচলে ভারত কোনো ফিই দেওয়ার পক্ষে নয়। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা অনুযায়ী কোনো ট্রানজিট ফি দেওয়া হয় না। এক দেশের যানবাহন প্রতিবেশী অন্য দেশের ওপর দিয়ে চলাচলে কোনো ফি আরোপের বাধ্যবাধকতা নেই। কোনো ফি, শুল্ক ছাড়াই নির্বিঘ্নে দুই দেশের যানবাহন একে অপরের দেশে চলাচল করে। বাংলাদেশের পণ্যবাহী ট্রাক বিনা ফিতে ভারতের সড়ক, মহাসড়কে চলাচল করছে। ভারতও চায় তার দেশের পণ্যবাহী ট্রাক/লরিও চলাচল করবে বাংলাদেশের সড়ক-মহাসড়কের ওপর দিয়ে কোনো ফি ছাড়াই।
বাংলাদেশ এতে সম্মত নয়। গত মাসে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন থেকে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় বাংলাদেশ ভারতীয় সর্বশেষ প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়ে বিষয়টির বাস্তবভিত্তিক গ্রহণযোগ্য সমাধান চেয়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে দুই দেশের সচিব পর্যায়ে বৈঠকের পর গত বছরের ডিসেম্বরে সচিব পর্যায়ে বৈঠকে বিষয়টির সুরাহা করার কথা ছিল। করোনা পরিস্থিতির কারণে বৈঠক হয়নি। পদ্মা সেতু উন্মুক্ত করা বিলম্বিত হবে বলে ফি নির্ধারণী সভা আরো পরে অনুষ্ঠানে উভয় পক্ষ একমত হয়। তবে ভারতীয় কর্মকর্তা পর্যায়ে বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয় ও তাদের মনোভাব ঢাকাকে জানানো হয়।
জানা যায়, ভারতীয় পক্ষ প্রতি কিলোমিটারে টনপ্রতি দুই টাকা করে ফি দিতে অসম্মতি প্রকাশ করে। বাংলাদেশ থেকে জানানো হয়, ১৫ থেকে ৩০ মেট্রিক টন পণ্যবাহী ট্রাক/লরি চলবে বাংলাদেশে সড়ক, মহাসড়কের ওপর দিয়ে। এতে সড়ক, মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রতিবছরই সড়ক, মহাসড়ক সংস্কার, পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এতে বছরে দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। এ ছাড়া কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত হবে। কালো ধোঁয়া ও শব্দে পরিবেশ দূষিত হয় বলে ভুটানে পণ্যবাহী দেশি-বিদেশি ট্রাক চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়।
বাংলাদেশের বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা ভারতীয় পক্ষ অস্বীকার করেনি। তবে বাংলাদেশের দাবিকৃত হারে ফি দিতে হলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে এসবের দামও বেড়ে যাবে। দেড় থেকে দুই হাজার মাইল ঘুরে আসতে না হওয়ায় বিশাল অঙ্কের জ্বালানি খরচ বেঁচে যাওয়া এবং পরিবহন খরচ কমে যাওয়ার বিষয়টি ভারতীয় পক্ষকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। জানা যায়, তারা প্রতি কিলোমিটারে টনপ্রতি ২৫ পয়সা ফি দিতে সম্মতির কথা জানায়। বাংলাদেশ এতে একমত হয়নি। আগামী কয়েক মাস পর সচিব পর্যায়ে বৈঠকে ফি নির্ধারণের বিষয়টি নির্ধারিত হবে।