বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনী দরজায় তালা

একের পর এক মামলা: লাভের গুড় পিঁপড়ায় খায়

ঠিকানা রিপোর্ট: প্রবাসের অন্যতম মাদার সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির পুন:তফসিল অনুযায়ী বহু কাঙ্খিত নির্বাচন হবার কথা ছিলো আগামী ২০ অক্টোবর। কিন্তু একের পর এক মামলার কারণে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনী দরজায় তালা। যদিও নির্বাচন কমিশন থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে অবিনার্য্য কারণবশত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এই নির্বাচন কবে হবে তা জানানো হয়নি। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন হবার আর কোন সম্ভাবনা নেই। কারণ বাংলাদেশ সোসাইটির বিরুদ্ধে এখনো তিনটি মামলা সচল। এর মধ্যে নতুন করে আরো দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই মামলার শুনানী আগামী ১৫ অক্টোবর। মামলার শুনানীতে কী হবে তা এখনো অনিশ্চিত। মাত্র ৫ দিন সময় নিয়ে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করতে যাচ্ছে না। তা ছাড়া ১৫ অক্টোবর কোন পক্ষ সময় নিলে ২০ অক্টোবর নির্বাচন করা সম্ভব নয়। মূলত: বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন হবার কথা ছিলো ২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর। নির্বাচনে দুটো প্যানেল এবং ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার কথা ছিলো। একটি ছিলো রব- রুহুল প্যানেল, আরেকটি ছিলো নয়ন- আলী প্যানেল। স্বতন্ত্র সভাপতি প্রার্থী ছিলেন জয়নাল আবেদীন এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন সোহেল। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন সমস্ত কর্মকান্ড সমাপ্ত করে। নির্বাচনের জন্য হল ভাড়া, মেশিন ভাড়া থেকে শুরু করে সব কিছুই চ‚ড়ান্ত ছিলো। নির্বাচনের ঠিক দুই দিন আগে নয়ন- আলী প্যানেলের দুই জন সদস্য জেড চৌধুরী, আকবর আলী এবং একজন সাধারণ সদস্য মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মাননীয় আদালত নির্বাচন স্থগিত করে। জেড চৌধুরী এবং আকবর আলী তাদের মনোনয়ন পত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করেছিলেন। যদিও তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে অসম্পূর্ণ মনোনয়ন পত্র দাখিল করে। মনোনয়ন পত্র বাছাই’র সময় নির্বাচন কমিশন সেই অসম্পূর্ণ মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করে। এর আগে মামলা করেছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক ওসমান চৌধুরী। মাননীয় আদালত দীর্ঘ শুনানী শেষে সেই মামলা খারিজ করে দেন। এর পর বার বার মোশন করা হয়। সেই মামলা খারিজ হবার পর নির্বাচন কমিশন প্রায় এক বছর পর আবারো নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নতুন তারিখ ছিলো ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর।
নির্বাচনের ঠিক দুই দিন আগে মামলার কারণে বাংলাদেশ সোসাইটিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্চা দিতে হয়েছে। সেই সাথে প্যানেল এবং প্রার্থীরাও বিপুল অর্থ ক্ষতির সম্মুখীন হন। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ডলারের মত। নয়ন- আলী প্যানেলের প্রার্থীদের ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে বাংলাদেশ সোসাইটি এবং সোসাইটির নির্বাচন কমিশনকে। নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্যে বাংলাদেশ সোসাইটির ফান্ডে যে অর্থ এসেছিলো, সেই অর্থের শ্রাদ্ধ হচ্ছে। যেভাবে অর্থ এসেছে সেইভাবেই অর্থ অপচয় হচ্ছে। বলা যায়, লাভের গুড় পিঁপড়ায় খাচ্ছে। ব্যাপক ক্ষতির কারণে নির্বাচন কমিশন দ্বিতীয় দফায় ব্যালটে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কারণ আবার মেশিনে ভোট করতে গেলে নতুন করে লাগবে প্রায় ৮০ হাজার ডলারের মত। এই অবস্থায় নির্বাচন কমিশন এবং সোসাইটির কার্যকরি কমিটি ব্যালটে নির্বাচন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়।
এ দিকে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত নতুন তারিখ ২০ অক্টোবরেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। কারণ ওসমান চৌধুরী এবং নীরা রাব্বানী আবারো দুটো মামলা দায়ের করেছিলেন। এই মামলার শুনানীর তারিখ দেয়া হয়েছে আগামী ১৫ অক্টোবর। ৪ অক্টোবরও একটি মামলার শুনানী ছিলো। সেই শুনানীর দিন দুই পক্ষের আইনজীবীরা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলেন। নতুন করে মামলার কারণে গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সোসাইটির অফিসে সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, সোসাইটির কার্যকরি কমিটি এবং নির্বাচন কমিশনের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। যৌথ সভায় নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সোসাইটির নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এডভোকেট জামাল আহমেদ জনি ঠিকানাকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নতুন তারিখেও আমরা নির্বাচনের জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু মামলার কারণে নির্বাচন স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছি। তিনি বলেন, নতুন মামলায় কয়েক দফা শুনানী অনুষ্ঠিত হলে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। আবার এই মামলা কত দিন চলে তাও আমরা জানি না। এই অনিশ্চিত অবস্থায় নির্বাচন স্থগিত করা ছাড়া আমাদের আর কোন পথ খোলা ছিলো না। কবে নির্বাচন হতে পারে- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলার নিষ্পত্তি হাওয়ার পরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার কারণে নতুন করে সংকটে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ সোসাইটি। মামলার কারণে এখনো বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান কমিটি দায়িত্ব পালন করছে। ইতিমধ্যেই তারা ১ বছর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। আরো দুটো মামলার কারণে বিনা নির্বাচনেই তারা আরো দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেন। যদিও একটি অংশ চাচ্ছিলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির দায়িত্ব ট্রাস্টি বোর্ডের হাতে দেয়া হোক। কিন্তু কার্যকরি কমিটির পক্ষে জানানো হয়, আমরাতো দায়িত্বে থাকবো না বলেই নির্বাচন দিয়েছিলাম। কিন্তু মামলার নিষ্পত্তি না হলে দায়িত্ব কাকে দিবো? গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় এই প্রশ্নটি উত্থাপন করা হলে বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ বলেন, এই মামলা কত দিন চলবে তা কেউ জানে না। বাংলাদেশ ট্রাস্টি বোর্ডের দায়িত্ব শেষ হয়ে যাচ্ছে আগামী ৩১ ডিসেম্বর। মামলা যদি ডিসেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি না হয় তাহলে বাংলাদেশ সোসাইটি আরো বেশি সংকটের মধ্যে পড়বে। যে কারণে বর্তমান কার্যকরি কমিটির দায়িত্ব পালনই শ্রেয় হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটিকে আমরা নতুন করে সংকটে ফেলতে চাই না।