বাংলাদেশ সোসাইটির বিরুদ্ধে আরো ২ মামলা

শুনানি ৪ ও ১৫ অক্টোবর

ঠিকানা রিপোর্ট: বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন আগামী ২০ অক্টোবর। নির্বাচনে প্রতিদ্ব›দ্বী দুটো প্যানেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনও নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন হবার কথা ছিলো ২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর। কিন্তু নির্বাচনের দুই দিন অগে নয়ন- আলী প্যানেলের দুই জন সদস্য নির্বাচনে অনিয়ম এবং তাদের প্রার্থীতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। যদিও এর আগে মামলা করেছিলেন বাংলাদেশ সাসাইটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওসমান চৌধুরী। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মাননীয় আদালত দীর্ঘ শুনানী শেষে নয়ন- আলী প্যানেলের ২ জন প্রার্থীও মামলাটি খারিজ করে দেয়। এরপর তারা বেশ কয়েকবার মোশন দাখিল করে। মামলাটি খারিজ হয়ে যাবার পর সোসাইটির নির্বাচন কমিশন আবারো নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করে। এরই মধ্যে নীরু এস নীরা এবং ওসমান চৌধুরী গত ১৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রীম কোর্ট অব দি স্টেট অব নিউইয়র্ক কাউন্টি অব কুইন্সে আরো দুটো মামলা করে। এই মামলা দুটোর ইনডেক্স নম্বর- ৭১৬০৫২/ ২০১৯। ৭১৬০৫৪/ ২০১৯। এই দুটো মামলায় বাংলাদেশ সোসাইটির সকল কর্মকর্তা, ট্রাস্টি বোর্ডের সকল সদস্য, বাংলাদেশ সোসাইটির বাড়ির বিক্রিতা এবং নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্যকে বিবাদী করা হয়। মামলায় যাদের বিবাদী করা হয় তারা হলেন- আহসান হাবিব, এসডি আজাদ, কামাল আহমেদ, আব্দুর রহিম হাওলাদার, ফারহানা চৌধুরী, আব্দুল খালেক খায়ের, এমডি রুহুল আমিন সিদ্দিকী, সৈয়দ এম কে জামান, মোহাম্মদ আলী, আবুল কালাম ভ‚ইয়া, মনিকা রয়, রিজু মোহাম্মদ, নাদিও এ আইয়ুব, নাসির উদ্দিন আহমেদ, এমডি নওশাদ হোসেন, মাইনুল উদ্দিন, মোহাম্মদ সাদী মিন্টু, অবুল কাশেম চৌধুরী, সরওয়ার খান বাবু, জোসেফ সাবেট, মোহাম্মদ এ হাকিম মিয়া, আজিজুর রহমান, এমদাদুল হক কামাল, আব্দুল হাসিম হাসনু, কামাল আহমেদ, ওয়াসি চৌধুরী, কাজী আজহারুল হক মিলন, মোহাম্মদ আজিজ, এস এম জামাল ইউ আহমেদ, দেলোয়ার হোসাইন, আলি ইমাম শিকদার, মফিজুর রহমান, মোস্তফা কামাল পাশা, সরাফ সরকার, জোসেফ সাবেট, মোহাম্মদ আলী।
এই মামলার শুনানী অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৫ অক্টোবর, আগের মোশনের শুনানী ৪ অক্টোবর। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ জানান, আমাদের জবাব দেয়ার জন্য ২০ দিন সময় দেয়া হয়েছে। আমরা আইনজীবী নিয়োগ করবো এবং ২০ দিনের মধ্যে কাগজপত্র জমা দিবো। তাতে করে নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবার কথা নয়। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এডভোকেট জামাল আহমেদ জনি বলেন, এই মামলায় নির্বাচনে বাধা হবে বলে মনে হচ্ছে না। যে কারণে আমরা নির্বাচনের পুরোপুরি প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।
মামলা দায়ের করার পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর নীরু এস নীরা ও ওসমান চৌধুরী জ্যাকসন হাইটসে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে মামলার কারণ তারা উপস্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নীরু এস নীরা বলেন, ১৯৭৬ সালে কিছু মানুষের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ সোসাইটি নামের একটি সংগঠন। সংগঠনটির মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রবাসে বাংলাদেশী কালচারের প্রসার ঘটিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মনে দেশপ্রেম জাগিয়ে রাখা, তাদের সুখ দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং দেশের অস্তিত্ব ও উন্নয়নের প্রশ্নে ভূমিকা রাখা। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলেও সত্যি এই যে প্রতিষ্ঠানটির শুরু থেকেই কিছু অযোগ্য মানুষ সংগঠনটিকে নিজেদের ব্যক্তিগত আকাঙ্খা পরিপূরণে যাচ্ছেতাই ভাবে ব্যবহার করেছে। তার অভিযোগগুলো হচ্ছে- ১. সোসাইটির সংবিধান থাকলেও এর কোনো প্রকার প্রয়োগ না থাকায় গত চারদশক যাবৎ যারাই সংগঠনটিকে পরিচালনা করেছে তারাই ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সোসাইটিকে নিজের সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছে। ২. বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন পদ্ধতি সোসাইটির সংবিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ৩. নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটি প্রতিষ্ঠার পর সোসাইটির নামে বাড়ি ক্রয় ছিল সোসাইটির একমাত্র অর্জন। কিন্তু বাড়ি ক্রয়ের দিন থেকে আজ পর্যন্ত প্রপার্টি ট্যাক্স, মর্টগেজ, মেইনটেনেন্স এবং সিটি ও স্টেট এর বিল্ডিং কোড অনুযায়ী রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে সোসাইটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা সকল প্রকার দায়িত্ব পালনে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।