বাজেট কমাতে বাধ্য হলো জাতিসংঘ

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ আগামী দুই বছরের জন্য বিশ্ব সংস্থাটির জন্য ৫৪০ কোটি ডলার বাজেট অনুমোদন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ায় জাতিসংঘের বাজেট কমে গেছে প্রায় ৫ শতাংশ। গত ২৬ ডিসেম্বর ইউএন নিউজ সেন্টারের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। এ দিকে আগামী ২০২০ সাল থেকে জাতিসংঘ বাজেট পরিকল্পনা দুই বছর মেয়াদের পরিবর্তে এক বছরের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘ পরিষদ, যা ১৯৭০ সালের পর জাতিসংঘে এক বিরাট পরিবর্তন। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের।
গত ৩১ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনের চূড়ান্ত পর্বের আলোচনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৫৪০ কোটি ডলারের বাজেট অনুমোদন করা হয়। এ পরিমাণ অর্থ বিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় ২৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার কম। এটি বিগত বাজেটের ৫ শতাংশ কম। এসব অর্থ কর্তন হবে জাতিসংঘের ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন সহযোগী কর্মকা-ে।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি ওই আলোচনায় বলেন, তার দেশ জাতিসংঘের জন্য বরাদ্দ ২৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার কমিয়ে দেওয়ার একটি রফায় পৌঁছেছে। আগামীতে এই বরাদ্দে আরও কাটছাঁট হবে।
জাতিসংঘের অদক্ষতা এবং অপচয়ের বিষয়টি এখন সবাই জানে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমেরিকার জনগণের দানের অর্থ এমন ব্যবহার আমরা চলতে দিতে পারি না।
দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা লিখেছে, জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী, এ বিশ্ব সংস্থার বার্ষিক খরচ মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে হয় মোট বাজেটের ২২ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ১২০ কোটি ডলার। এ ছাড়া জাতিসংঘ শান্তি মিশনের খরচের ২৮ দশমিক ৫ শতাংশও যুক্তরাষ্ট্র দিচ্ছে, যার পরিমাণ ৬৪০ কোটি ডলারের মতো।
মূলত জেরুজালেম ইস্যুতে জাতিসংঘে হেরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশোধমূলক এ ব্যবস্থা নিয়েছে। ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে একতরফাভাবে ইসরাইলি রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে আরব ও মুসলিম বিশ্বে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ট্রাম্পের সমালোচনা ও নিন্দা জানায় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানিসহ পশ্চিমা বিশ্ব। অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে ফিলিস্তিন। ট্রাম্পের স্বীকৃতির বিরুদ্ধের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভোট হয়। তাতে ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করা হয়। এই ভোটের আগে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছিল ট্রাম্পের পক্ষ থেকে। সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটিতে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির বিরোধিতা করলে সদস্য দেশগুলোকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। বলা হয়েছিল, জাতিসংঘের যেসব সদস্য রাষ্ট্র ট্রাম্পের ঘোষণার বিরুদ্ধে ভোট দেবে, তাদের সহায়তা কর্তন করবে প্রশাসন। এ জন্য জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি সদস্য দেশগুলোকে চিঠি দিয়ে হুমকি পর্যন্ত দেন। ট্রাম্প নিজে হুমকি দেন তার টুইটার বার্তায়। কিন্তু তারা থামাতে পারেননি জাতিসংঘকে। ট্রাম্পের স্বীকৃতি অকার্যকর ও বাতিল করার জন্য ২১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটিতে ১২৮ দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে রায় দেয়। ভোটদানে বিরত থাকে ৩৫টি দেশ। এর পরই জাতিসংঘে বরাদ্দ কমানোর ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।