বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের লিফটে আটকা পড়ে কিশোরীর মৃত্যু

ছবি সংগৃহীত

ঠিকানা অনলাইন : বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের লিফটে আটকা পড়ে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। ওই সময় ভবনের দারোয়ানও আটকা পড়ে আহত হয়েছেন। পরে তাকে উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই কিশোরী দারোয়ানেরই মেয়ে।

১৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা শহরে বেসরকারি বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের লিফটে এ ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের ওপরের অংশ আবাসিক। উদ্ধার হওয়া কিশোরী বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের পাঁচ তলার বাসিন্দা মো. সোহেলের বাসায় কাজ করত বলে পুলিশ ও ভবনের কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, ভবনটিতে দুটি লিফট রয়েছে। এই লিফটি খুব একটা ব্যবহার হয় না। সে সোহেলের বাসাতেই থাকত।

লিফট থেকে মৃত উদ্ধার ওই কিশোরীর নাম সাবেকুন্নাহার (১৩)। সে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুসের ছেলে মো. সোহেলের বাসায় কাজ করত। তার বাড়ি বান্দরবান সদর উপজেলার গোয়ালিয়াখোলায়। ভবনটির দারোয়ান নুরুল আমিনের মেয়ে।

দারোয়ান নুরুল আমিনের বরাত দিয়ে বান্দরবান সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মির্জা জহির উদ্দিন জানান, গত বুধবার রাত থেকে মো. সোহেলের বাসার কাজের মেয়ে সাবেকুন্নাহারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভবনের দারোয়ান ওপরে যাওয়ার জন্য লিফটের ভেতরে ঢুকলে ওপর থেকে রক্ত পড়তে দেখেন। হঠাৎ তিন তলায় লিফটি আটকে গিয়ে আলো নিভে যায়। এ সময় লিফটের দরজা খুলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওপর থেকে মেয়েটির মরদেহ ভেতরে পড়ে। দারোয়ান নুরুল আমিন লিফটের ভেতরে আটকা পড়ে যাওয়ার পর ওপর থেকে মরদেহ পড়তে দেখে ভয় পান ও চিৎকার করতে থাকেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয়রা মিলে প্রথমে দারোয়ানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দারোয়ানকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে দারোয়ান নুরুল আমিন বলেন, ‘দুপুরে লিফটের ভেতরে ঢুকে ওপর থেকে রক্ত পড়তে দেখি। কিছুক্ষণ পর তিন তলায় লিফট থেমে যায়। দরজা খুলতেই লাশ আমার সামনে লিফটের ভেতরে পড়ে। আমি ভয়ে চিৎকার করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। অন্ধকারের কারণে মেয়ের লাশ চিনতে পারিনি।’

লিফটে কিশোরী আটকা পড়েছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসনের পক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. লুৎফর রহমান, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। প্রায় ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় লিফট ভেঙে বিকেল ৫টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বান্দরবান সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মির্জা জহির উদ্দিন জানান, লিফটের ভেতর থেকে প্রথমে দারোয়ানকে আহত অবস্থায় ও কয়েক ঘণ্টা পর কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক অংশের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, ভাড়াটিয়া মো. সোহেল অল্প কিছুদিন আগে এ ভবনে উঠেছেন। ফলে তাদের সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। কাজের মেয়েটি লিফটে কীভাবে মারা গেল, এ বিষয়টি তিনিও বুঝে উঠতে পারছেন না।

ঠিকানা/এনআই