বিউটি বোর্ডিং: স্মৃতি রোমন্থনে ফিরে এলো ষাটের দশক

রাজধানী ডেস্ক : ষাট দশকের ঢাকা নগরের সংগ্রামী সতীর্থদের নিয়ে মিলন মেলা করলেন পুলিশের সাবেক ডিআইজি ফিরোজ কবির মুকুল ও ডা. আবদুল কাইয়ুম। গত ২৫ জানুয়ারি তাদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে হারানো দিন ফিরে পেয়েছিল পুরান ঢাকার বিউটি বোর্ডিং। দূর-দূরান্ত থেকে সবাই একত্রিত হন এখানে। ফিরে যান মুক্তিযুদ্ধের আগের সংগ্রামমুখর উত্তাল দিনগুলোয়।

গত ২৫ জানুয়ারি সকাল থেকেই বিউটি বোর্ডিংয়ে আড্ডায় মেতে ওঠেন ষাট দশকের ছাত্রনেতারা। আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ছয় দফা থেকে গণ-অভ্যুত্থান, আর গণ-অভ্যুত্থান থেকে মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রাখাÑ এসব নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন সবাই। এখন তাদের কেউ সংসদ সদস্য ও রাজনীতিবিদ, কেউ সরকারের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা, কেউবা অভিনেতা, নাট্যব্যক্তিত্ব কিংবা ব্যবসায়ী। জীবন ও জীবিকার তাগিদে একেকজন যুক্ত একেক পেশায়। কিন্তু অতীত আর বন্ধুত্ব তাদের নিয়ে এসেছিল পুরান ঢাকার বিউটি বোর্ডিংয়ে।

মিলন মেলায় আগত বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর বলেন, এখানে যারা আছেন, তারা সবাই স্বাধীনতার সৈনিক। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী এখানে হামলা চালায়। আমাদের মিলন মেলার মূল বাঁধন এই স্বাধীনতা। এ সময় তিনি শৈশবের স্মৃতিচারণও করেন।

ঢাকা-১৭ আসনের এমপি ও অভিনেতা আকবর হোসেন পাঠান ফারুক বলেন, ষাটের পর থেকেই মূলত স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তখন আমরা ছাত্রলীগের সদস্য। তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ (বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে মিছিল-মিটিং করতে করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যেতাম। কর্মসূচির শেষে আমরা বিউটিতে বসতাম।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি বলেন, ষাটের দশকে আমরা যারা ছাত্ররাজনীতি করতাম, তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক ছিলাম। ছাত্রলীগে ছিলাম। তাদের মধ্যে এখনও যারা বেঁচে আছি, তাদের নিয়েই আজকের এই মিলন মেলা। আমরা সে সময়ই দেশের জন্য জীবন বাজি রেখেছিলাম। আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজনে, দৈনন্দিন কর্মসূচির ফাঁকে এখানে মিলিত হতাম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, তার বাসা ছিল পাতলা খান লেনে। এ কারণে এখানে ছোটকাল থেকেই আসা হতো। এটা তাদের সামাজিক যোগসূত্র ছিল। কলকাতার কফি হাউজের মতো এটা তাদের আড্ডার জায়গা ছিল।

পুলিশের সাবেক এআইজি মালিক খসরু বলেন, বিউটি বোর্ডিং আদর্শের মিলন মেলা, বাঙালিত্বের মিলন মেলা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আড্ডা। জাতিগত চেতনার ক্রমবিকাশের পথরেখা বহমান রাখতে আজকের এই মিলনমেলার আয়োজন।

আয়োজক কাজী ফিরোজ মুকুল বলেন, ষাট দশকের বিপ্লবীদের নিয়ে এই মিলন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যারা বিশ্বাস করেন, তারা এখানে আসেন। অনেকেই মারা গেছেন। আমি চাই নতুন প্রজন্ম এখানে আসুকÑ আমার মৃত্যুর পরও যেন বন্ধুরা একত্রিত হওয়া অব্যাহত রাখেন, এটাই আমার কামনা।

মিলন মেলায় আগতদের মধ্যে ছিলেন হুমায়ুন কবির সেলী, কে এম সাইফুদ্দিন আহমেদ, সুলতান টুকু, অধ্যাপক ড. মো. জুবায়ের, মোজাফফর হোসেন পল্টু, আবেদ খান, আলমগীর শিকদার লোটন, খসরু খান প্রমুখ।