বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলতে নারাজ কানাডার আদালত

রাজনীতি ডেস্ক : বিএনপিকে সরাসরি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করতে নারাজি প্রকাশ করেছেন কানাডার সর্বোচ্চ আদালত। একই সঙ্গে সংসদ অধিবেশন মুলতবি বা পুনর্নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি আহূত হরতাল কিভাবে সন্ত্রাসের সমার্থক হতে পারে, তাও বোধগম্য নয় বলে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি বিএনপিপন্থী আইনজীবী সংগঠনের সহকারী সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করা সাবেক এক ছাত্রদল নেতার অভিবাসন আর্জি বাতিল সংক্রান্ত একটি মামলার রায়ে কানাডার আদালত এ মন্তব্য করেন।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, যেহেতু শুধু হরতালের কারণে বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলা যায় না সেহেতু এই সংগঠনে যুক্ত থাকার সূত্রে কারও অভিবাসন আবেদনও খারিজ করে দেওয়া যায় না। তাই যে যুক্তিতে আবেদনকারীর অভিবাসন আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল, তার অযথার্থতা তুলে ধরে নতুন এক কর্মকর্তার দায়িত্বে এই আবেদন সম্পন্ন করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

রায় নতুন করে বিবেচনার আদেশে বিচারক রিচার্ড জি মোসলে বলেন, ওই ব্যক্তি নিজে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত কি না, সে বিষয়ে কোনো প্রমাণ হাজির করা হয়নি। এছাড়া আবেদনকারী বিএনপি নয়; বরং তার সহযোগী সংগঠনের সদস্য ছিলেন। এসব নিয়ে অভিবাসন কর্মকর্তার উপস্থাপিত যুক্তি যথাযথ না হওয়ায় আদালত আবেদনকারীর আরজি মঞ্জুর করেছেন।

এর আগে গত বছর হরতাল-অবরোধে সহিংসতা ও সন্ত্রাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার জন্য বিএনপির এক কর্মীর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন কানাডার আদালতে খারিজ হয়ে যায়। সেই রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছিলেন, বিএনপি সন্ত্রাসে ছিল, আছে বা ভবিষ্যতেও থাকতে পারে- এমন ধারণা করার যৌক্তিক কারণ আছে।

এ নিয়ে অভিবাসন কর্মকর্তারাও আপত্তি তোলেন। তারা বলেন, সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হিসেবে তাকে কানাডায় শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া যেতে পারে না।
আদালতে অভিবাসনের জন্য ওই আবেদনকারীকে সংক্ষিপ্ত একে নামে সম্বোধন করা হয়। বলা হয়, এই ব্যক্তি ২০১৩ সালে কানাডায় যান। এর দুই মাস পরে তিনি অভিবাসনের জন্য আবেদন করেন। পরে তার স্ত্রী ও মেয়ে কানাডায় গিয়ে অভিবাসনের আবেদন করেন।

আবেদনকারী নিজেই জানান, ১৯৮০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি ছাত্রদল করতেন। ১৯৮৭ সালে যোগ দেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামে। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি সংগঠনের সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।