বিএনপির কাউন্সিলে খালেদা জিয়া থাকছেন তো?

ঠিকানা অনলাইন : রাজনীতির মাঠে এখন নতুন আলোচনা জামিনে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নেতৃত্বের গতিশীলতায় বিএনপি’র জাতীয় কাউন্সিল। যদিও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র শীর্ষ থেকে নিচু পর্যায় পর্যন্ত হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মামলা বিদ্ধমান। এ সব মামলায় অনেকে কারাগারে। অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এতে একদিকে দলে বিরাজ করছে চরম বিশৃঙ্খলা। অন্যদিকে সঠিক নেতৃত্বের অভাবে নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্বে দলটিতে কোনো কমিটিই ঠিক মতো কাজ করতে পারছে না। নতুন কমিটিও করা যাচ্ছে না। এর মধ্যেই আগামী অক্টোবরের মধ্যেই দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের চিন্তা করছে বিএনপি। লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশক্রমে কাউন্সিলের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এমন খবরও শোনা যাচ্ছে। লক্ষ্য একটাই দলকে পুনর্গঠন করা। তবে এমন প্রশ্নও শোনা যাচ্ছে- দলটির চেয়ারপারসন বেগম জিয়া ওই কাউন্সিলে উপস্থিত থাকছেন তো?

এদিকে কারাবন্দী চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে এই সময়ের মধ্যে মুক্ত করেই কাউন্সিল সফল করতে চায় বিএনপির হাইকমান্ড। আর মাত্র দুইটি মামলায় জামিনের অপেক্ষায় আছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। এর মধ্যে তিনি ৩৪টি মামলায় জামিন পেয়েছেন। তার আইনজীবীরা বলছেন, সরকার ‘হস্তক্ষেপ’ না করলে তিনি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে আসবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেছেন, আমরা দ্রুতই সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের কথা ভাবছি। তবে সবার আগে আমাদের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রত্যাশা করছি। সরকার হস্তক্ষেপ না করলে আশা করছি, শিগগিরই বেগম জিয়া মুক্তি পাবেন। তাকে নিয়েই আমরা কাউন্সিল করতে চাই। নতুন নেতৃত্বে বিএনপিকে চাঙা করাই আমাদের উদ্দেশ্য।

তবে বিএনপির একাধিক নেতা জানান, এবারের কাউন্সিল বিগত সময়ের মতো জাঁকজমকপূর্ণ নাও হতে পারে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ২২ জুন, শনিবার সকালে এক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কাউন্সিলের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, কাউন্সিলের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে আমাদের সাংগঠনিক জেলা ও অঙ্গসংগঠনগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বেগম জিয়াকে মুক্ত করেই কাউন্সিল করতে চায় বিএনপি। এজন্য আগামী দিনগুলোতে সারা দেশে বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে সভা সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। কেন্দ্রীয় নেতারা বিভাগীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক সফর করে এ ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

খালেদা জিয়া গত ১৬ মাস ধরে কারাগারে আটক আছেন। অসুস্থতার কারণে, ১ এপ্রিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি প্রধান৷

তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ৩৬। ৩৪টি মামলায় মিলেছে জামিন৷ গত মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটুক্তি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলা দুটিতেও জামিন পেয়েছন খালেদা৷

যে দুই মামলায় খালেদা জিয়া জামিনের অপেক্ষায় আছেন তা হল, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা। এই দুইটি মামলায় খালেদা জিয়ার মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হয় খালেদা জিয়ার। ওই দিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলে এই মামলায় তার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। আর গেল বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

খালেদ জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার আর মাত্র দুইটি মামলায় জামিন বাকি আছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আইন তার নিজস্ব গতিতে চললে এবং সরকার কোনো হস্তক্ষেপ না করলে, আইন বহির্ভূত কোনো কাজ না করে আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে খালেদা জিয়া জামিনে বের হয়ে আসতে পারবেন।’ সরকার আগেও খালেদা জিয়ার মামলায় হস্তক্ষেপ করেছে বলে জানান এই আইনজীবী৷

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার জামিনের আবেদনের ওপর শুনানি হবে আগামী সপ্তাহে। ২৩ জুন, রোববার জামিনের আবেদনটি আদালতে উত্থাপন করা হলে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।

গত ৩০ এপ্রিল খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন করা হলে বিচারিক আদালতের নথি তলব করে হাইকোর্ট। গত বৃস্পতিবার বিচারিক আদালত থেকে সে নথি হাইকোর্টে পৌঁছায়।

২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান এ মামলায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, তার একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানকেও একই দণ্ড দিয়েছিল আদালত।

উল্লেখ্য, কারাগার থেকে মুক্তি পেতে খালেদা জিয়ার আর দুই মামলায় জামিন দরকার। দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের জন্য দণ্ডিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন। প্রায় দেড় বছর ধরে সাজা ভোগ করছেন তিনি। ৩৬ মামলার মধ্যে ৩৪টিতে জামিন পাওয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে।