বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত ইসির

৭ নম্বর ধারা বাতিল

রাজনৈতিক ডেস্ক : বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। উচ্চ আদালতের এক রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এমনই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও করবে না কমিশন। ইসির ওই সিদ্ধান্ত দু-এক দিনের মধ্যে চিঠি দিয়ে দলটিকে জানিয়ে দেয়া হবে। এরই মধ্যে চিঠির খসড়াও তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ গত ৫ নভেম্বর রাতে বলেন, উচ্চ আদালতের একটি আদেশের কপি আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। আমরা বিষয়টি কমিশন সভায় তুলেছি।

কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালতের আদেশের প্রতিপালন করবে অর্থাৎ সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ করবে না। এ বিষয়ে কমিশন কিছু নির্দেশনাও দিয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালত আমাদের সরাসরি আদেশ দিয়েছেন। যেহেতু এ আদেশে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হইনি, তাই আপিল করব না।

ইসির এ পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ইসির সিদ্ধান্ত এখনও আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে পাইনি। ইসির চিঠি পেলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। এর বাইরে আপাতত আমার কোনো বক্তব্য নেই। জানা গেছে, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ ধারায় বলা ছিল, দুর্নীতির দায়ে দ-িত কেউ দলের নির্বাহী পদে থাকতে পারবেন না।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলার সাজা হওয়ার আগে এই ধারা সংশোধন করে গঠনতন্ত্র জমা দেয়া হয় ইসিতে। বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একাধিক মামলায় দ-প্রাপ্ত। গঠনতন্ত্রের ৭ নম্বর ধারাটি বাতিল না হলে এরই মধ্যে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বিএনপির নেতৃত্বে থাকতে পারবেন না বলে ইসি মনে করছে।

ইসি সূত্র জানায়, বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। মোজাম্মেল হোসেন নামে এক ব্যক্তির রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর ডিভিশন বেঞ্চ ৩১ অক্টোবর এ আদেশ দেন। এ মামলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদাকে দুই নম্বর ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদকে তিন নম্বর প্রতিপক্ষ করা হয়েছে।

রায়ের পরের দিনই গত ১ নভেম্বর হাইকোর্টের আদেশ প্রতিপালনের বিষয়ে একটি ফাইল কমিশনে তোলা হয়। এতে বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করা এবং ৩০ অক্টোবর মোজাম্মেল হোসেনের ইসিতে জমা দেয়া আবেদনটি ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বিষয়ে কমিশনের অনুমোদন চাওয়া হয়। কমিশন হাইকোর্টের আদেশ প্রতিপালনের অনুমোদন দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা-২০০৮ এ গঠনতন্ত্র গ্রহণ বা বাতিলের বিষয়ে কিছু বলা নেই। যেহেতু আদালত একটি রায় দিয়েছেন, সেটি কমিশন প্রতিপালন করছে। কমিশন চাইলে এর বিরুদ্ধে আপিলও করতে পারত।

তিনি জানান, বিধিমালার ৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের শর্তাবলি পরিপালন সম্পর্কে কমিশনকে সময় সময় অবহিত করবে এবং তদলক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দলকে নিম্নলিখিত (চারটি) ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ক. দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নতুন কমিটির নির্বাচিত সদস্যদের তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট দলের এতদসংক্রান্ত সভার কার্যবিবরণীর অনুলিপি কমিশনে দাখিল; খ. প্রতি বৎসর ৩১ জুলাই এর মধ্যে পূর্বের পঞ্জিকা বৎসরের সংশ্লিষ্ট লেনদেনের অডিট রিপোর্টের একটি কপি কমিশনে দাখিল; গ. কমিশন সময় সময় যেসব তথ্য বা কাগজপত্র চাইবে তা কমিশনে প্রেরণ এবং ঘ. কমিশন, সময় সময় যেসব বিষয়ের ওপর মন্তব্য বা ব্যাখ্যা চাহিবে উহা পরিপালন।’

এ কর্মকর্তা জানান, এ ধারায় কমিশনকে অবহিত করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তবে কমিশন গ্রহণ করবে কি না, তা উল্লেখ নেই। ওই কর্মকর্তা বলেন, আরপিওর ৯০(এইচ) ধারায় রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে সংশোধিত গঠনতন্ত্র কমিশন গ্রহণ না করার কারণে দলের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।