বিক্ষোভে উত্তাল কাশ্মির

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : নিরাপত্তা সদস্যদের গুলিতে ভারতের জম্মু ও কাশ্মিরে দুই যুবক নিহত হওয়ার জেরে সারা রাজ্য উত্তাল হয়ে উঠেছে। প্রশাসন রাজধানী শ্রীনগরের কয়েকটি জায়গায় সান্ধ্য আইন জারি করেছে। রাজ্যের বিভিন্ন শহরে দোকানপাট ও সড়ক পরিবহন বন্ধ রয়েছে। বারামোল্লা ও বানিহালের মধ্যে ট্রেন চলাচলও স্থগিত রাখা হয়েছে। পুলওয়ামা, অনন্তনাগ, কুলগাম ও সোফিয়ানে মোবাইল ও ইন্টারনেট যোগাযোগ আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য স্থানে ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সেনা ইউনিটের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সঙ্গে কথা বলে তদন্তের পূর্ণ প্রতিবেদন চেয়েছেন বলেও জানা গেছে। খবর : এনডিটিভি।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ জনুয়ারি জাভেইদ আহমেদ ভাট ও সুহাইল জাভেদ নামের দুই যুবক নিরাপত্তা সদস্যদের একটি ইউনিটের গুলিতে নিহত হয়েছেন। সেনা ইউনিট জানিয়েছে, সোফিয়ান জেলার গানভপোরা গ্রামের রাস্তায় উচ্ছৃঙ্খল কিছু যুবক তাদের গাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পাথর ছুড়তে থাকলে সেনারা আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালাতে বাধ্য হয়। গুলিতে দুজনের প্রাণহানি ছাড়াও বেশ কয়েকজন আহত হন।
তবে প্রতিরক্ষা বিভাগের এক মুখপাত্র বলেছেন, সেনাবাহিনীর গাড়ি দেখে একদল লোক তাদের ওপর হামলে পড়ে। তারা একজন জুনিয়র সেনা অফিসারকে ধরে পুড়িয়ে মারতে গেলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের নিরস্ত করতে গুলি চালাতে বাধ্য হয়। জনতা ওই অফিসারের কাছ থেকে হাতিয়ারও কেড়ে নেয় বলে জানান ওই মুখপাত্র। আহতদের মধ্যে আরেকজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
প্রতিরক্ষা বিভাগের তরফ থেকে বলা হয়েছে, গত ২৭ জনুয়ারি শেষ বেলায় সোফিয়ান জেলার গানভপোরা গ্রামের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বহনকারী একটি গাড়ি লক্ষ্য করে ১০০ থেকে ১২০ উচ্ছৃঙ্খল যুবকের একটি দল সেনাদের ওপর পাথর ছুড়তে শুরু করে। শিগগিরই তাদের দলে ২০০-২৫০ জনের মতো লোক জড়ো হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অগত্যা গুলি ছুড়তে বাধ্য হলে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিরাপত্তা সদস্যরাও সংঘর্ষের সময় আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মুখপাত্র বলেছেন, উত্তেজিত জনতা সেনাবাহিনীর দিকে ছুটে যায়। তারা একজন জুনিয়র অফিসারকে ঘিরে ধরে তার কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নেয় এবং তাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। নিরাপত্তা সদস্যরা তাকে বাঁচানোর জন্য গুলি চালান।
এ দিকে উত্তাল কাশ্মিরে বেসামরিক নাগরিক হত্যায় সেনাসদস্যদের দায়ী করে জনতা ফুঁসে উঠেছে। তারা আজ রাজ্যে বন্ধ ঘোষণা করেছে। রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ বলেছেন, কাশ্মিরে সহিংসতা চলছে। সেনাদের গুলিতে নিরপরাধ মানুষ মারা যাচ্ছে। কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকেও এ হত্যাকা-ের নিন্দা জানানো হয়েছে। দলের মুখপাত্র বলেছেন, যারা নিহত হয়েছেন, তাদের জীবনের বিনিময় দেওয়া সম্ভব নয়।
রাজ্য সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। তিনি নিহত বেসামরিক দুজনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তাদের মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করতে সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমন তাকে যথাযথ তদন্ত করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন। তিনি এ ব্যাপারে তদন্তের পূর্ণ ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলেও জানান।