বিদেশ যাচ্ছে যশোরের বাঁধাকপি

যশোর : সবজি জোন যশোর থেকে এবার ১৫ হাজার মেট্রিক টন বাঁধাকপি (পাতা কপি) রপ্তানি হবে বিদেশে। কৃষি বিভাগের কারিগরি সহায়তায় ৮টি রপ্তানি প্রতিষ্ঠান এ জন্য ৫৮৬ কৃষকের সঙ্গে চুক্তি করেছে। তাদের কাছ থেকে ৩০ লাখ পিস কপি নিয়ে রপ্তানি করা হবে। চলতি ও আগামী মাসে ইউরোপের চার দেশ সৌদি আরব, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় এ কপি পাঠাতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খালিদ সাইফুল্লাহ জানান, ২০১৭ সাল থেকে যশোরের সবজি বিদেশে রপ্তানি শুরু হয়েছে। প্রথম বছর ১১০ মেট্রিক টন বাঁধাকপি ও ফুলকপি বিদেশে রপ্তানি করা হয়। দ্বিতীয় বছর রপ্তানি হয় ৪৮ মেট্রিক টন। এবার ১৫ হাজার মেট্রিক টন বাঁধাকপি রপ্তানির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা জানান, চুক্তি অনুযায়ী কৃষকের উৎপাদিত বালাইমুক্ত ও নিরাপদ সবজি পুরো খেত প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রয় করবে। আগে যে খেতের সবজি কৃষক ৩০ হাজার টাকা থেকে ৩২ হাজার টাকায় বিক্রি করতেন, সেখানে এখন পাচ্ছেন অন্তত ৪০ হাজার টাকা। ফলে কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, দেশের চাহিদার ৬৫ ভাগ সবজি চাষ হয় যশোরে। শীত মৌসুমে এ জেলার চুড়ামনকাটি ও হৈবতপুর অঞ্চলের দিগন্ত জোড়া মাঠে শুধু সবজি আর সবজি। এ অঞ্চলের ৫৮৬ জন কৃষকের সঙ্গে ঢাকার রিফাত এগ্রোবেজ প্রসেসিং লিমিটেডসহ ৮টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান চুক্তি করেছে। বেসরকারি সংস্থা জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন ও সলিডারিড্যাট বাংলাদেশ কৃষকদের গ্রæপ তৈরি করেছে। তাদের কাছ থেকে ৩০ লাখ বাঁধকপি সংগ্রহ করে রপ্তানি করার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ থেকে তিন কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্র অর্জন সম্ভব হবে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সূত্র মতে, প্রতিবারের মতো যশোর থেকে মংলাবন্দর দিয়ে এবারও সবজি রপ্তানি করা হবে। মংলাবন্দর হয়ে পৌঁছে যাবে বিদেশে।