বিদ্রোহী সংকটের সুরাহা হয়নি: আওয়ামী লীগে টানাপড়েন বাড়ছে

রাজনৈতিক ডেস্ক : উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহীদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর না হওয়ায় আওয়ামী লীগে এক ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকটের সুরাহা না হওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় ঘরানার রাজনীতিতে কিছুটা টানাপড়েনও শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা সম্মেলনে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও তা এখনও কার্যকর হয়নি। ওই নির্বাচনে দলের ১২৬ জন বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছেন। অন্ততপক্ষে এই বিদ্রোহী চেয়ারম্যানদের দল থেকে বহিস্কার করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে আছে। আগামী মাসেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করার কথা। কিন্তু এ নিয়ে নেতাদের সংশয় কাটছে না।এদিকে, দিনক্ষণ নির্ধারণ না হলেও আগামী অক্টোবরে জাতীয় সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত রয়েছে আওয়ামী লীগের। এরই অংশ হিসেবে গত এপ্রিল থেকে উপজেলা পর্যায়ে সম্মেলন আয়োজনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের সম্মেলনের এই কার্যক্রম গুছিয়ে আনছেন দলের সভাপতিম-লীর আট সদস্যের নেতৃত্বে চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আট সাংগঠনিক সম্পাদক। তারা জেলা ও উপজেলা নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সম্মেলনের দিনক্ষণ নির্ধারণের তাগিদ দিচ্ছেন।

কেন্দ্রীয় এই নেতারা উপজেলা সম্মেলন আয়োজনের জন্য শোকের মাস আগস্টের পর সেপ্টেম্বর থেকেই তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক সফর করবেন। তবে এরই মধ্যে তৃণমূল রাজনীতির সঙ্গে যোগাযোগ করে আসা দলের কয়েকজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক জানিয়েছেন, দলের উপজেলা শাখার সম্মেলন আয়োজনের ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাচনে দলের বিদ্রোহীরা একটা ফ্যাক্টর হয়ে আছেন। অনেক উপজেলায় বিদ্রোহীরা শীর্ষ দুই পদের প্রধান দাবিদার। এ নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিদ্রোহীদের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয়ভাবে উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে বিজয়ী দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণ দর্শানোর পাশাপাশি তাদের দলীয় পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এমনকি তারা ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে আসার সুযোগ হারাবেন বলেও জানিয়েছেন কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিদ্রোহী চেয়ারম্যানদের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই কয়েকটি উপজেলা শাখার সম্মেলনে তারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে পারেননি।

এমন পরিস্থিতিতে আগামী মাস থেকে পুরোদমে উপজেলা সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে আওয়ামী লীগে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই উপজেলা পর্যায়ের সম্মেলন সম্পন্ন করার চেষ্টা থাকবে। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই নেতা আরও বলেছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও উপজেলা কমিটিগুলোর সম্মেলন-সংক্রান্ত সাংগঠনিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।