বিপিএলের ‘বল হারানো’ ছক্কা

এবারে সব ব্যাটসম্যান যেন বল হারানোর পণ নিয়ে নেমেছেন! ফাইল ছবি

টি-টোয়েন্টি মানেই ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং, টি-টোয়েন্টি মানেই ব্যাটসম্যানদের ‘পেশিশক্তি’ প্রদর্শনী! বোলারকে শুধু চার মারলেই হবে না, মারতে হবে উড়িয়ে। সেই বল পড়বে গ্যালারিতে কিংবা পেরিয়ে যাবে গ্যালারি, তবেই না পূর্ণ বিনোদিত হবেন দর্শক-সমর্থক! না, বিপিএলে এখনো এমন ছক্কা হয়নি, যেটি গ্যালারি পেরিয়ে পড়েছে স্টেডিয়ামের বাইরে!

আক্ষরিক অর্থে না হলেও ‘বল হারানো’ ছক্কা একেবারে কমও হয়নি। কাল পর্যন্ত যে ৩২টি ম্যাচ হয়েছে, ছক্কা হয়েছে ৩৫৯টি। ইনিংসপ্রতি ছক্কা ৫টি। ২৩ ছক্কা মেরে ঢাকা ডায়নামাইটসের ওপেনার এভিন লুইস সবার ওপরে থাকলেও দূরত্বের হিসাবে তিনি বেশ পিছিয়ে।

কার ছক্কা কত দূরে পড়ল, এটি টিভিতে সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যাচ্ছে। কিন্তু দূরত্বের পরিসংখ্যান এক জায়গায় পাওয়া কঠিনই। এটির হিসাব নেই ক্রিকেটের কোনো ওয়েবসাইটে, নেই বিসিবির স্কোরারদের কাছেও। তবে সরাসরি সম্প্রচারে যুক্ত টিভি পরিসংখ্যানবিদদের কাছ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেল। যদিও কোন দল কিংবা কোন বোলারের বিপক্ষে ছক্কা হয়েছে, সেটি জানা যায়নি। কাল পর্যন্ত এবার বিপিএলের সবচেয়ে বড় ছক্কাটা মেরেছেন চিটাগং ভাইকিংসের সিকান্দার রাজা। ২৪ নভেম্বর সিলেট সিক্সার্সের পেসার আবুল হাসানকে ১১৩ মিটার দূরত্ব আছড়ে ফেলেছিলেন! ১১১ মিটার ছক্কা মেরে দুইয়ে আছেন খুলনা টাইটানসের আরিফুল হক। ১০৯ মিটার ছক্কা মেরে তিনে মাশরাফি বিন মুর্তজা!

দূরত্বের হিসাবে সেরা ১০ ছক্কার ৬টিই হয়েছে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। উইকেট স্পোর্টিং হওয়ায় চট্টগ্রামে বেশি ‘বড় ছক্কা’র দেখা মিলছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ দলের সাবেক ওপেনার ও বর্তমানে ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খান, ‘সিলেট ও ঢাকার তুলনায় চট্টগ্রামের উইকেটটা বেশি ভালো মনে হচ্ছে। এটা ব্যাটসম্যানদের জন্য যেমন অসাধারণ, বোলারদের জন্যও ভালো। সবচেয়ে বড় ছক্কাটা এখানেই দেখেছি। এই বিপিএলে সর্বোচ্চ দুটি ইনিংসও (খুলনার ২১৩ ও চিটাগংয়ের ২১১) এখানে হয়েছে।’

শুধু ব্যাটসম্যানদের মুখে হাসি ফোটেনি, চট্টগ্রামের উইকেটে সাফল্য পেয়েছেন বোলাররাও। বিপিএলের সব ভেন্যুতে তাই এমন উইকেট দেখতে চান আতহার, ‘এ মাঠে বোলারদেরও কিছু দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখা গেছে। শফিউল (খুলনা) ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছে, সামি (রাজশাহী) ৪ উইকেট নিয়েছে। আবার বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল (রংপুর) কাল কী দারুণ বোলিংটা করল! বিপিএলে সব ভেন্যুতে এ ধরনের উইকেট হওয়া উচিত। দর্শকেরা যাতে ব্যাটিং-বোলিং দুটি দেখেই মজা পায়।’