বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধের উদ্যোগ

রাজধানী ডেস্ক : বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে হেল্পডেস্ক বসছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ নিয়েছে। বিদেশে হাড় ভাঙা খাটুনি খেটে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে প্রথমেই তারা চরম অসম্মানের শিকার হন। কয়েকটি দফতরের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাতে রীতিমতো নাজেহাল হতে হয়। পরে কর্মীদের টাকা দিয়ে বা প্রিয়জনদের জন্য আনা উপহারসামগ্রী দিয়ে ছাড়া পাওয়ার দৃশ্য নতুন কোন ঘটনা না। কর্মীদের এ ধরনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিন্তু কোনো সংস্থাই কর্মীদের এই হয়রানি বন্ধে এগিয়ে আসেনি। এবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনই কর্মী হয়রানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বিমানবন্দরে কর্মীদের হয়রানি বন্ধ করাই হবে আমার প্রথম কাজ। কোনো কর্মী যাতে হয়রানির শিকার না হন তার জন্য যা কিছু করণীয় তাই করা হবে। প্রতি সপ্তাহে আমি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বিমানবন্দর পরিদর্শন করব। সেখানে কর্মীদের জন্য একটি হেল্পডেস্ক স্থাপন করা হবে। এই ডেক্স থেকে কর্মীদের সব ধরনের সহযোগিতার ব্যবস্থা থাকবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা কর্মীদের সহযোগিতার জন্য কাজ শুরু করেছে। কিন্তু প্রতিদিন হাজার হাজার কর্মী বিদেশ থেকে আসছেন এবং বিদেশ যাচ্ছেন। বিপুলসংখ্যক কর্মীর জন্য এক কর্মকর্তা যথেষ্ট নয়। এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ হেল্পডেস্কের প্রয়োজন রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে আলোচনা হয়েছে। অল্প দিনের মধ্যে এই হেল্পডেস্ক স্থাপন করা হবে।

সূত্র জানিয়েছে, বিমানবন্দরে বিদেশে থেকে আসা কর্মীদেরই বেশি হয়রানির শিকার হতে হয়। কারণ তারা বিদেশ থেকে প্রিয়জনদের জন্য বিভিন্ন উপহারসামগ্রী নিয়ে আসেন। অল্প কিছু গয়নাও নিয়ে আসেন অনেকে। এগুলোর লোভ সামলাতে পারেন না কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী। উপহার সামগ্রীগুলো রেখে দেয়ার জন্য নানা রকম আইনের ‘ফেকরাই’ ফেলে কর্মীদের কাছ থেকে ওই সব জিনিস নেয়ার চেষ্টা করেন। অসহায় কর্মীরা ওই জিনিস রক্ষা করতে তাদের হাতে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা ঘুষ দিয়ে পার হয়ে আসেন। এমন ঘটনা নিত্যদিনের। প্রকাশ্যে এ দৃশ্য চললেও কোনো সংস্থাই প্রতিকার করে না। বিমানবন্দরে সরকারের অন্তত ১৫টি দফতরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করে আসছে। বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থাও বিমানবন্দরে কাজ করেন। তাদের চোখের সামনে দিয়েও কর্মী হয়রানি হচ্ছেন। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে কর্মী টাকা উপার্জন করছেন তার টাকা নিতে অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের একটুও মায়া লাগে না। তারা মনে করে ওই টাকা তার নিজের। এক প্রকার জোর করে কর্মীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ দায়িত্ব নিয়েই ঘোষণা করেছেন, তার প্রথম কাজ হবে বিমানবন্দরে কর্মী হয়রানি বন্ধ করা। যারা দেশের জন্য বিদেশে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করছেন তাদের সম্মান না করে উল্টো অসম্মান করা যাবে না। তাদের সম্মান করতে হবে কোনো ধরনের অসুবিধা হলে সহযোগিতা দিতে হবে। যাদের টাকায় দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছেÑ সেই তাদের অসম্মান করে হয়রানি টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনে। এখান থেকে কর্মীদের মুক্তি দিতে হবে। এখন থেকে মন্ত্রণালয় হবে কর্মীবান্ধব। কোনো সিন্ডিকেট তৈরি করতে দেয়া হবে না। কোনো অনিয়ম দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী জেনে বুঝেই আমাকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি অতীতের কোনো দায় নিতে চাই না। তবে সবকিছুই চলবে স্বচ্ছতার মাধ্যমে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারী আর ব্যবসায়ী কারও কোনো অনিয়ম পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার প্রথম দিন বলেন, আমার ৩২ বছরের রাজনীতির জীবনে কোন কালিমা নেই। আশা করি বাকি জীবনটাও কালি ছাড়া চলে যেতে চাই। আমি শুনেছি বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো আমাদের কর্মীদের বিষয়ে খুব একটা কাজ করেন না। যাতে তারা কর্মীদের সুরক্ষার জন্য কাজ করেন এ জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। কর্মীদের সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করতে সব পক্ষের সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। বিদেশগামী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানো হবে। এটা আমি বাইরে থেকেই শুনেছিÑ উচ্চ ব্যয়ে কর্মীদের বিদেশ যেতে হয়। স্বল্প খরচে যদি একজন কর্মী বিদেশ যেতে পারেন, তাহলে তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভালো একটা টাকা জমাতে পারেন। বেশি খরচ দিয়ে বিদেশ গিয়ে কর্মীদের কোনো লাভ হয় না। জনশক্তি ব্যবসায়ীদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। তাদের অনৈতিক কোনো প্রভাবে প্রভাবিত হবো না। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে। নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি করা হবে, মানবসম্পদ উন্নয়নে উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা করা হবে।