বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ব্যয় ৭০ হাজার কোটি টাকা

স্পোর্টস ডেস্ক : সোভিয়েত রাশিয়ার আফগানিস্তান দখলকে কেন্দ্র করে ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিক বয়কট করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মৈত্রী দেশগুলো। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি অবশ্য বয়কটকে পাত্তা না দিয়ে ৮০টি দেশের অ্যাথলেটদের নিয়েই আয়োজন করেছিল গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমস। অলিম্পিকের বদলি হিসেবে টেড টার্নার আয়োজন করেছিলেন গুডউইল গেমস। ফিফার ক্ষেত্রে এমন পাল্টাপাল্টি কিছু করার সুযোগ নেই। বয়কট করতে গেলে আজীবন নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি আছে। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র এবার বিশ্বকাপ বয়কট করার যোগ্যতাও অর্জন করতে পারেনি। কনকাকাফ অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে বাছাই পর্ব উত্তীর্ণ হয়েছে নতুন দল পানামা। সঙ্গে আছে মেক্সিকো ও কোস্টারিকা। রাশিয়া (অথবা সোভিয়েত ইউনিয়ন) বিশ্বের সেরা ক্রীড়া ইভেন্টগুলো অনেক আগেই আয়োজন করেছে। মস্কোতে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক (১৯৮০) আয়োজনের পর তারা সোচিতে আয়োজন করেছে শীতকালীন অলিম্পিক (২০১৪)। এ ছাড়াও সুইমিং, অ্যাথলেটিকসের বড় বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে রুশরা। বর্তমান ক্রীড়া জগতের সেরা আয়োজন ফিফা বিশ্বকাপটাই বাকি ছিল এত দিন। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে সেপ ব্ল্যাটারের নেতৃত্বাধীন ফিফা নির্বাহী কমিটি অবশেষে বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে রাশিয়ার নাম ঘোষণা করে। শর্ত ছিল, বিশ্বকাপের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে স্টেডিয়ামগুলো। মানসম্মত করতে হবে আবাসন ব্যবস্থা। সেই থেকে ১১টি শহরের ১২টি স্টেডিয়াম বলতে গেলে প্রায় নতুন করেই গড়ে তুলে রাশিয়া। মস্কো শহরের দু’টি এবং সেন্ট পিটার্সবার্গ, কালিনিনগ্রাদ, কাজান, নিঝনি নভোগরদ, সামারা, ভলগোগ্রাদ, সারানস্ক, রোস্টভ, সোচি এবং ইকাটেরিনবার্গের একটি করে স্টেডিয়াম বিশ্বকাপের ৬৪টি ম্যাচ আয়োজন করবে। কেবল এসব স্টেডিয়ামই নয়, রাশিয়া দৃষ্টিনন্দন পরিবেশও তৈরি করে স্টেডিয়াম এলাকায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় আর পরিশ্রমে রাশিয়ার খরচ হয়েছে প্রচুর অর্থ। দিন কয়েক আগে রাশিয়ান সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, বিশ্বকাপের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়নে রাশিয়ার খরচ হয়েছে ৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৭০ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা)।
বিশাল এই বাজেট নিয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করেছিল রাশিয়া। বিশ্বকাপের স্থানীয় আয়োজক কমিটির প্রধান অ্যালেক্সি সরোকিনের ভাষ্যে, ৪৮০ বিলিয়ন রুবল ছিল প্রাথমিক বাজেটে। তবে রাশিয়ানদের এই বিশাল অংক খরচ করতে দেখে বিস্মিত হওয়ার কিছুই নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। সরোকিনের মতে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন রাশিয়ার জন্য ঐতিহ্য হয়েই থাকবে। বিশ্বকাপের পর এই অবকাঠামো স্থানীয় মানুষের উপকারে আসবে। স্টেডিয়ামের উন্নয়ন ছাড়াও বিশ্বকাপের আয়োজক ১১টি শহরে নানা উন্নয়নমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করেছে রাশিয়া। পরিবেশকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে কেবল ইট-পাথরের দেয়ালই নয়, প্রকৃতির দিকেও দিয়েছে বিশেষ নজর। গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন পার্ক আর রাস্তার মোড়ে নতুন নতুন ফোয়ারা। খরচটা বেশি হলেও ভবিষ্যতে তাতে রাশিয়ানদেরই লাভ হবে। তা ছাড়া এই বিশাল অংকের একটা বড় অংশই উঠে আসবে বিশ্বকাপের আয়োজন থেকে। আগামী জুন-জুলাইয়ে বিশ্বকাপ উপলক্ষে কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষ রাশিয়া ভ্রমণ করবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আবাসন, পরিবহন, ট্যুরিজম এবং অন্যান্য খাত থেকে মোটা অংকের অর্থ উঠে আসবে রুশ কর্তৃপক্ষের। রুশদের অবশ্য ভয়ের বিশেষ কারণ নেই। ব্রাজিল বিশ্বকাপের খরচ ছিল এর চেয়েও অনেক বেশি। প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারই ব্রাজিলকে ফেরত দিয়েছিল ফিফা। রাশিয়াকেও নিশ্চয়ই বড় একটা অংক ফেরত দেবে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।