বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হচ্ছে রাঙ্গুনিয়া শেখ রাসেল এভিয়ারি ইকো পার্ক

রাঙ্গুনিয়া : রাঙ্গুনিয়ায় শেখ রাসেল এভিয়ারি অ্যান্ড ইকো পার্ক বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপ দিতে প্রায় ১২৫ কোটি ৫১ লাখ টাকার একটি প্রকল্প সম্প্রতি একনেকে পাস হয়েছে। গত ৬ জানুয়ারি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন প্রধান বন সংরক্ষক সফিউল আলম চৌধুরী।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক ডক্টর জগলুল হুদা, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগীয় কর্মকর্তা ও পার্ক প্রকল্প পরিচালক মোজাম্মেল হক চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রহ্লাদচন্দ্র রায়, ফরেস্টার মো. হাসিবুল রহমানসহ বন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান বন সংক্ষক সফিউল আলম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে অচল হয়ে পড়ে থাকা ক্যাবল কার ( রোপওয়ে) চালু করা হবে। গত বছর পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পার্কের বিভিন্ন স্থাপনা মেরামত, নির্মাণ এবং পুনর্নির্মাণসহ উন্নয়নের ব্যাপক পরিকল্পনা
হাতে নেয়া হয়েছে। পার্ক সম্প্রসারণ, বার্ড গ্যালারি স্থাপন এবং অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এভিয়ারি পার্ককে আকর্ষণীয় বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জের কোদালা বিটের চন্দ্রঘোনা ও দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুরের প্রায় ২১০ হেক্টর বনভূমি নিয়ে
শেখ রাসেল এভিয়ারি অ্যান্ড ইকো পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। এটিকে বিশ্বমানের বিনোদন স্পট হিসেবে গড়ে তুলতে ১২৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় চারটি ফেইজে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানা গেছে। সবুজ পাহাড় ও কৃত্রিম হ্রদের উপর দিয়ে আরো এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ক্যাবল কার যোগ করা হবে। প্রকল্প এলাকায় সীমানা
দেয়াল নির্মাণসহ নিরাপত্তা জোরদার করা হবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
ফরেস্টার হাসিবুল রহমান জানান, পার্কের স্থানে স্থানে সুবিশাল খাঁচায় দেশি-বিদেশি জাতের পাখি, প্রবেশ দ্বারে কৃত্রিম লেকে
দেশি-বিদেশি হাঁস ও নানা জাতের জলচর পাখি ও পানকৌড়ির চঞ্চলতা, লেকের মাঝখানে দ্বীপের সাথে সংযোগ সেতুতে যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানা আকর্ষণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যপিপাসু মানুষের বিনোদনের জন্য শেখ রাসেল এভিয়ারি পার্ক হয়ে উঠেছে অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র।
পর্যটক ও বিনোদনপ্রেমীদের জন্য বৃক্ষাচ্ছাদিত সবুজ বাগান আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো হয়েছে। পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে গড়ে তোলা হয়েছে বসার তোরণ। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে কিচিরমিচির শব্দে অসংখ্য পাখি উড়ে বেড়াচ্ছে। হরেক রকম পাখির কলকাকলিতে
সবুজ পাহাড় মুখরিত হয়ে ওঠে। এ ছাড়াও পার্কে মিনি চিড়িয়াখানা গড়ে তোলা হয়েছে।
পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রহ্লাদচন্দ্র রায় বলেন, এক কিলোমিটার ক্যাবল কার সংযোজন, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, নতুন লেক, বার্ড গ্যালারিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। পার্কটির সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।