বিয়ানীবাজার সমিতির নির্বাচন : ২০১৯ এক ঝাঁক তরুণের অংশগ্রহণের অপার সম্ভাবনা

ঠিকানা রিপোর্ট : আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে প্রবাসের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠন বিয়ানীবাজার সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ২৮ জুলাই সদস্য নিবন্ধন করা হয়। কোনরকম উৎসাহ, উদ্দীপনা, প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের অনুপস্থিতিতে একতরফাভাবে সদস্য নিবন্ধন হয়।
এবারে নিবন্ধিত ৪০৭জন আজীবন সদস্য নিয়ে মোট সদস্য ১২১৭ জন। সংগঠনের নির্বাচন আসলে উৎসব আমেজ, বৈঠক, আলোচনায় ভরপুর থাকতো কম্যুনিটি। দিন দিন এর সবকিছু হারিয়ে যাচ্ছে। অংশগ্রহণে অনীহা বাড়ছে। এ ব্যাপারে বিভিন্নজন বিভিন্ন কথা বলছেন। কেউ বলছেন সময়ের ব্যস্ততা। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপ পরবর্তীতে দুই পক্ষ সৃষ্টি। নতুনদের সম্পৃক্ততার ব্যাপারে আগ্রহ সৃষ্টিতে ব্যর্থতা। প্রতিদ্ব›দ্বী সেই দুই পক্ষের দৃষ্টি প্রতিদ্বন্দ্বীতায় থাকে না, বাস্তবতায় রূপ নেয়। ফলে যারা সমিতির কমিটি গঠন করে, তারাও নির্বাচনী প্রতিদ্ব›দ্বী গ্রুপে পরস্পর বিরোধী অবস্থান নেন। পরবর্তীতে কেউ কারো ছায়াও মাড়ায় না। এক পর্যায়ে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপে ও সমিতির পরিচালনা গ্রুপ সৃষ্টি হয় দূরত্ব যোগাযোগ। ফলে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে দাওয়াতে কৃপণতা অথবা অবহেলা করা হয়।
অপর দিকে যারা পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন, তাদের কোন আমন্ত্রণ অন্যপক্ষ তেমন আমলে নেয় না।
আবার কেউ কেউ অন্যভাবে বলছেন। তারা বলছেন, পূর্বের সমিতি পরিচালনার দায়িত্বে যারা ছিলেন, এবং বর্তমানে যারা দায়িত্ব পালন করছেন, উভয়ের মধ্যে প্রবাসী বিয়ানীবাজারবাসীর মধ্যে যোগাযোগ বিস্তার করার। পূর্বে কমিটির সদস্যরা যেকোন ব্যাপারে বারে বারে সাধারণ সদস্য, প্রবীণ-নবীনদেরও নিয়ে যোগাযোগ করতেন। এখন দায়সারা ভাবে। পরিস্থিতির ক্ষেত্রে স্থানও পরিবর্তন করা হয়।
একজন সাবেক কার্যকরী সদস্য, তার নাম না প্রকাশ করার শর্তে, ঠিকানার সাথে আলাপে বলেন, আমার পাশেই সাধারণ সভা হয়, কর্মকর্তারা তার আশপাশ দিয়ে ঘুরঘুর করেন। সাবেক কমিটির সদস্য হলেও একজন বিয়ানীবাজারবাসী হিসাবে ডধষশরহম অবস্থায় মৌখিক দাওয়াত দেয়া যেতো। এখানে আরেকটি বিষয় পরিলক্ষিত হয়, নির্বাচন আহ্বানে একটি গ্রুপকে যারা সমর্থন করে, সে গ্রুপ যদি সমিতি পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়, তবে সমর্থনকারীদেরকে পরিচালনা কমিটি দারুণভাবে সমীহ করে। এমন কি সমিতির কোন সংকটে এদের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়। ঠিক যেনো দেশের রাজনৈতিক অথবা ব্যাবসায়িক সিন্ডিকেটের মতো।
আরেকটি ব্যাপার, সমিতির দুরাবস্থার কথায় অনেকের সাথে আলোচনায় উঠে আসে। সমিতি পরিচালনার জন্য বার বার এক ব্যক্তি। সমিতির সাথে কোন ধরণের সম্পৃক্ততা পূর্বে ছিল না, এমন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অধিষ্ঠিত করা সমিতির বর্তমান দুরবস্থার জন্য অনেকটাই দায়ী।
আলাপে আরো উঠে আসে, সংগঠন পরিচালনায় কেউ এগিয়ে আসে না- এ কথা যেমন সত্য, তার বিপরীতে অনেককে টেনে জোর করে সম্পৃক্ত করতেও হয়। প্রথমে একজন/দুইজন এভাবে সম্পৃক্ততা বাড়ে। নতুন প্রজন্মের অনেকে রাগে-ক্ষোভে বলেন, আমাদেরকে সম্পৃক্ততার ব্যাপারে কেউ আগ্রহ দেখায় না। তাদের ভাষায়- সমিতি যেন গুটিকয়েকজনের হাতে বন্দি। এবার বন্দিত্ব থেকে মুক্ত সমিতিকে গতিশীল, পরিবর্তন, পূর্বের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে একঝাঁক নতুনের অংশগ্রহণের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে নতুনরা একে অপরের সাথে যোগাযোগ করছে। এ নতুনরা সমিতির পরিচালনার দায়িত্বে অংশীদারিত্ব পেলে ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের মন্থরগতি, নীরবতা দূর হয়ে পুনরায় জাগ্রত হবে। দুরন্ত হতাশা অনেক সময় চ্যালেঞ্জে আলোকবর্তিকা নিয়ে আসে। সমিতির নির্বাচন না হওয়ায় আশঙ্কা বেশি। গেলবারের মতো এবারও মনোয়নপত্র জমা দেয়ার দিন হয়তো নতুন কমিটির নাম কমিশন বেসরকারিভাবে ঘোষণা করতে পারেন। আর যদি কাকতালিয়ভাবে কেউ আসেন, তবে সেটা ভিন্ন কথা। এটাই বর্তমান চিত্র।