বিয়ানীবাজার সমিতির নির্বাচনে মাত্র ১টি প্যাকেজ সংগ্রহ

ঠিকানা রিপোর্ট : গত ৯ সেপ্টেম্বর ওজন পার্কের গ্লোবাল এয়ার সার্ভিসে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিয়ানীবাজার সমিতির মনোনয়নপত্র সংগ্রহের দিন, সময় ও স্থান পূর্বঘোষিত ছিল। সে ঘোষণা অনুযায়ী নির্বাচনে ইচ্ছুক মাত্র একটি গ্রুপ ১৯ সদস্যের একটি প্যাকেজ সংগ্রহ করে। প্যাকেজ বাবদ নির্বাচন কমিশনে দুই হাজার ৩৭৫ ডলার সংগৃহীত হয়। মনোনয়নপত্র সংগ্রহকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুস শহিদসহ কমিশনের সদস্য শামসুল হক বেবুল, মো. আলিম, কমর উদ্দীন ও রিজু মোহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন।

বিয়ানীবাজার সমিতির নির্বাচন কমিশন গঠিত
ঠিকানা রিপোর্ট : আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর বিয়ানীবাজার সমিতির নির্বাচন পরিচালনার জন্য গঠনতন্ত্র মোতাবেক নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। নির্বাচন কমিশন গঠন করার জন্য কার্যকরী পরিষদ ও উপদেষ্টা পরিষদ সমন্বয়ে বৈঠকে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। সমিতির আসন্ন নির্বাচনে সেই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশননার নিয়ে সেই পুরাতন ধারার দলীয় সংকীর্ণতা থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নাম নিজেদের দলীয় ও মনোপুত ব্যক্তির নাম সর্বপ্রথম প্রস্তাব হয়। আর সেই ব্যক্তি হলেন- ২০১৬ সালের ৩০ জুলাই সমিতির সদস্য সংগ্রহকালে সৃষ্ট গোলযোগে সমিতির একজন কার্যকরী ও শক্তিশালী ব্যক্তি হয়ে সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে ব্যর্থতা, অদূরদর্শিতার প্রভাবে একটি পক্ষ তাদের সদস্যপদ বাবদ অর্থ জমা দেয়ার পর ফেরত নিয়ে নেয়া, সমিতিকে কোর্টে দাঁড় করানো-সেই ব্যক্তির নাম প্রধান নির্বাচন কমিশন হিসাবে প্রস্তাব করা।

জানা যায়, অবশেষে সে প্রস্তাব একজন উপদেষ্টার বিচক্ষণতায় বাতিল হয়। পরে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মনোনীত করা হয়। শুধু তাই নয়, কমিশনের দুইজন সদস্য একের অধিক অথবা অন্য একজন ৪/৫ বার নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কাজ করেন। সমিতির ৪/৫ হাজার সদস্যের মধ্যে একই ব্যক্তি বার বার!

এদিকে কমিশনের একজন সদস্য তাকে মনোনীত করার পর নিজে বিরক্ত বোধ করেন। এমনকি তিনি নিজে সমিতির অন্য লোকজন থেকে মনোনীত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিয়ানীবাজার সমিতির কর্মকর্তাদের প্রশ্নবিদ্ধ কাজে সমিতির কোন কাজে কেউ আসতে রাজি নয়। নির্বাচন-পূর্ব নতুন প্রজন্ম আসার আগ্রহ সৃষ্টি হলে পরবর্তীতে তাদের সে আগ্রহে ভাটা পড়ে যায় কর্মকর্তাদের বিভিন্ন কার্যক্রমে। এছাড়া নতুন প্রজন্ম নির্বাচনে সৃষ্ট দুই পক্ষ পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায়। এসব তাদের কাছে অত্যন্ত বেমানান।

অনেকে মনে করেন, সমিতির ভবন যদি না হতো, তবে সমিতির অস্তিত্ব থাকতো কিনা সন্দেহ। সমিতির বিভিন্ন কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য সংকীর্ণতা থেকে বের হয়ে সার্বজনীনভাবে নিজেদের পরিচালিত করা করা হয় না। কমিশন গঠন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কমিটি গঠনে মুখচেনা ও অসাংঠনিক লোকদের এনে কমিটিতে স্থান দেয়। প্রকৃতিগত এসব কারণে সংগঠনের প্রতি প্রবাসী বিয়ানীবাজারবাসীর আগ্রহ তাই নিতান্তই কম।

সমিতির সব কার্যক্রমে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত, সুযোগ-সুবিধা অবারিত করা, গুটিকয়েক ব্যক্তির সংগঠন ক্রীড়ানক থেকে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সমিতির এ আকাল যাবে না। বিভক্তিও দূর হবে না। এদিকে সবার দৃষ্টি দেয়া ও কাজ চালিয়ে যাওয়ায় ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসা ছাড়া কোনই বিকল্প নেই। সমিতির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করা একান্ত প্রয়োজন বলে সমাজবিদরা মনে করেন।