বৃহত্তম বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে সিরাজগঞ্জে

সিরাজগঞ্জ : উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বঙ্গবন্ধু বহুমুখী যমুনা সেতু পার হয়েই গড়ে উঠছে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এক হাজার ৪১ একর জমিতে গড়ে উঠছে এ শিল্পাঞ্চল। শিল্পাঞ্চলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও শ্রমঘন কারখানা গড়ে উঠবে। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে সরাসরি কাজের সুযোগ পাবে ৫ লাখের বেশি মানুষ। আর পরোক্ষভাবে আরও বেশি মানুষের কাজের সুযোগ হবে।

বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় এ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে গত ৪ অক্টোবর চূড়ান্ত লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। বেজা সূত্রে জানা গেছে, এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় কাজ সমাপ্ত করেছে। তারা জমি উন্নয়ন কাজ করছে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। এর মধ্যে ৮৯টির অনুমোদন দিয়েছে বেজা। যার ২৮ অঞ্চল বেসরকারি উদ্যোগে বাস্তবায়িত হবে। সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজের সুযোগ পাবে ৫ লাখ মানুষ।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা এ অর্থনৈতিক অঞ্চল বিষয়ে বলেন, বেসরকারি উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন এ অঞ্চলের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ জেলা প্রশাসনের হাতে ছিল, সেটি সফলভাবে করা হয়েছে। যাদের জমি ছিল সরকারিভাবে তাদের পাওনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে এই এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন হবে। মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আয় বাড়বে, জীবনযাত্রার মান বাড়বে। সূত্র জানায়, শুরুতে এটি সরকারি অঞ্চল হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেটি হয়নি। পরে উদ্যোক্তাদের আগ্রহে বেসরকারিভাবেই এটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় বেজা। ১১ শিল্পোদ্যোক্তার সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়ামকে অঞ্চল গড়ে তুলতে গত বছরের জুনে প্রাক-লাইসেন্স দেয় বেজা। যৌথ উদ্যোক্তারা হলেনÑ নিট এশিয়া, রাইজিং হোল্ডিংস, এসএম ইন্ডাস্ট্রিয়াল হোল্ডিংস, টেক্স টাউন, এহসানুল হাবীব, চেইঞ্জ বাংলাদেশ, মাহমুদ ফ্যাশন, রাতুল নিটওয়ার্স, মো. কামরুজ্জামান, মানামি ফ্যাশনস ও প্যারাগন ফিড।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগকারীরা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। সেবা পাওয়ার জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার থাকবে। গ্যাস, বিদ্যুৎ অন্যান্য অবকাঠামো সুবিধা কারখানা গড়ে তোলার আগেই নিশ্চিত করা হবে।

বেজা ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যোগাযোগের সব মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন এ অঞ্চলের বিনিয়োগকারীরা। এটি পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিকভাবে পরিণত হবে। এখানকার আনুমানিক ৫০ কোটি ডলার বা ৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। এখানকার কারখানায় উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে প্রতি বছর প্রায় ২০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয় করা সম্ভব।