বেরিয়ে আসছে জেলার ক্রীড়াঙ্গনের রুগ্ন দশা

স্পোর্টস রিপোর্ট : তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ খুঁজে বের করাই হলো বাংলাদেশ যুব গেমসের উদ্দেশ্য। প্রতিভা খুঁজতে গিয়ে উঠে আসে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের রুগ্ন চেহারা। শুরুতে ঘুম ভাঙাতে হয়েছিল অনেক জেলার। অনেকটা তোষামোদী করেই কয়েকটি জেলাকে যুব গেমসে আনে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। গত বছরের ১৮-২৪ ডিসেম্বর দেশের সবক’টি উপজেলার অংশগ্রহণে ৬৪টি জেলায় একযোগে হয়েছিল এই প্রতিযোগিতা। দেশের আনাচে-কানাচে থেকে অনূর্ধ্ব-১৭ বছরের তরুণ-তরুণীরাই ২১টি ডিসিপ্লিনে লড়াই করেছিল। ২৩ হাজার ২১০ ক্রীড়াবিদ থেকে বাছাইকৃত ৩ হাজার ৪৭৩ জনকে নিয়ে আজ থেকে শুরু হচ্ছে বিভাগীয় তথা যুব গেমসের দ্বিতীয় পর্যায়। এটা চলবে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু এই পর্যায়ে এসে দেখা গেছে, দেশের খেলাধুলা কোন পর্যায়ে আছে। কতটা পিছিয়ে আছে বাংলাদেশের জেলাগুলো। যে আটটি বিভাগে হবে যুব গেমসের খেলা, তার মধ্যে পাঁচটি বিভাগের অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা নেই। কেবল অবকাঠামোগত সমস্যাই নয়, অনেক জেলায় কয়েকটি ডিসিপ্লিনই হয়নি। বিভিন্ন জেলা বিভাগে দল দিতে পারছে না। দেশের আটটি বিভাগে এমন অবস্থার জন্য জেলা ও বিভাগগুলোর সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই দায়ী করছেন বিওএর কর্মকর্তারা।
বিভাগীয় পর্যায়ে ২১টি ডিসিপ্লিনের খেলা কোনো বিভাগই আয়োজন করতে পারছে না। যে কারণে প্রতিটি বিভাগে সব ডিসিপ্লিন হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। বাস্কেটবল, হকি, আরচারি, জুডো, শুটিং, তায়কোয়ান্দো ও উশুÑ এ সাতটি ডিসিপ্লিনের খেলা ৯ মার্চ থেকে ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া মূল পর্বে সরাসরি অনুষ্ঠিত হবে। আর আরেকটি ইভেন্ট স্কোয়াশও চূড়ান্ত পর্বে হবে।
জাগরণের যুব গেমস। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কতটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে যুব গেমসের প্রথম ধাপ। গত ডিসেম্বরে সাত দিন ব্যাপ্তি এই গেমস দেশের ৬৪টি জেলায় হয়েছিল। কিন্তু ২১টি ইভেন্টের মধ্যে সাড়া জেগেছে ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স ও কাবাডিতে। ফুটবলে অংশ নিয়েছে ৫১টি, অ্যাথলেটিক্সে ৫৩ এবং কাবাডিতে ৪৭টি জেলা অংশ নিয়েছে। ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনেও অংশ নিয়েছিল ৩৭ ও ৪৪টি জেলা। তবে হতাশার খবর হলো, এমন কয়েকটি ডিসিপ্লিন আছে যেগুলোতে অনেক জেলার আগ্রহ ছিল না। জেলা পর্যায়ের খেলায় বাস্কেটবলে ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশালের কোনো জেলা অংশ নেয়নি। মাত্র সাতটি জেলা খেলেছিল এই ডিসিপ্লিনে। দেশের আরেক জনপ্রিয় খেলা হকিতেও সাড়া মিলেছে কম। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোনো উপজেলা কিংবা জেলা অংশ নেয়নি হকিতে। সম্ভাবনাময় খেলা আরচারিতেও ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রামের কোনো জেলা অংশ নেয়নি। বক্সিং, জুডো, শুটিং, তায়কোয়ান্দো, রেসলিং, ভারোত্তোলন ও উশুতেও সব জেলা আগ্রহ দেখায়নি। ভারোত্তোলন, রেসলিং ও শুটিংয়ে মাত্র ৫টি জেলা খেলেছিল। জুডোতে ৬টি এবং উশুতে অংশ নিয়েছিল ৮টি জেলা। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, দেশের জেলার খেলাধুলার করুণ অবস্থা। প্রতিভাবান অ্যাথলেট খুঁজে বের করতে গিয়ে জেলাগুলোর অনীহা দেখে হতাশই হয়েছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের উপমহাসচিব আশিুকর রহমান মিকু, ‘যুব গেমসের কারণে আমরা বিভিন্ন জেলায় গিয়েছি। সত্যি কথা বলতে কী, দেশের জেলাগুলোর অবস্থা কতটা নাজকু, তা যুব গেমস না হলে বুঝতে পারতাম না।’
আজ আটটি বিভাগে শুরু হবে চূড়ান্ত পর্বে ওঠার লড়াই। অবকাঠামোগত সুবিধা থাকায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে বিভাগীয় পর্যায়ের সব খেলা। কিন্তু দেশের অন্য পাঁচটি বিভাগÑ রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহ, রংপুর ও বরিশালের খেলা বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের প্রতিযোগিতাগুলো এই বিভাগের আওতাধীন জেলাগুলোতে অনুষ্ঠিত হবে। দলগত ও ব্যক্তিগত মিলে সর্বোচ্চ ১১টি ডিসিপ্লিনের খেলা অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা বিভাগে। চট্টগ্রামে ১০টি ও সিলেট বিভাগে ৬টি ডিসিপ্লিনের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। অবকাঠামোগত সুবিধার কারণে ঢাকা বিভাগের খেলাগুলো ১০ জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে বিওএতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যুব গেমসের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মিকু।