ব্যয় নয়, অতিথি কমছে ভারতীয় বিয়ে অনুষ্ঠানে

বছরে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা

ঠিকানা রিপোর্ট : ভারতীয় বিয়ে একটি বড় ব্যবসা। একসময় যেমনটা ছিল এখন আর তেমনটা নেই। তবে কেউ কেউ বলছেন, এ বছর বিয়ে অনুষ্ঠান আগের মতো এত বড় নাও হতে পারে। ভারতে বিয়ে অনুষ্ঠানগুলো সাধারণত বিস্তৃত ধর্মীয় অনুষ্ঠান, আকর্ষণীয় পোশাক, নাচ-গান আর গয়নাঘাটি দিয়ে পরিপূর্ণ সপ্তাহব্যাপী অসামান্য আয়োজনের জন্য বিখ্যাত।
উপমহাদেশের অনেক দম্পতি নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিয়ে করে থাকে। এ সময়টিকে ভারতীয় সংস্কৃতিতে একটি শুভ সময় হিসেবে দেখা হয়।
বাণিজ্য সংস্থা কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্সের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে গত বছর নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ৩২ লাখ বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
ওই সময়ে বিবাহ শিল্পে ৩.৭৫ ট্রিলিয়ন রুপির (৪৬ বিলিয়ন ডলার) ব্যবসা হয়। ২০১৯ সালে এর পরিমাণ ছিল ২.৫ ট্রিলিয়ন রুপি।
ভারতীয় জমকালো বিয়েগুলোতে প্রায়ই সহস্রাধিক অতিথির উপস্থিতি ঘটে এবং মোটা অংকের উপহার-সামগ্রী সাথে নিয়ে আসে।
ভারতে সহস্রাব্দের এই মানসিকতা পরিবর্তিত হয়েছে এবং অনেকেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে স্বল্পই যথেষ্ট।
মুম্বাই-ভিত্তিক বিবাহ পরিকল্পনা সংস্থা শাদি স্কোয়াডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা টিনা থারওয়ানি বলেন, দম্পতিরা জমকালো বিয়ে অনুষ্ঠান থেকে অল্প অতিথি তালিকার সাথে অন্তরঙ্গ উদ্যাপনের দিকে চলে যাচ্ছে।
থারওয়ানি বলেন, কে সবচেয়ে বড় বিয়ে দিতে পারে তা নিয়ে তাদের সমবয়সীদের সাথে প্রতিযোগিতা করার পরিবর্তে এখন তারা অনুষ্ঠানে অতিথিদের আরও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দেওয়ার উপায় বেছে নিয়েছে।
দিল্লি-ভিত্তিক বিবাহ পরিকল্পনাকারী ওয়েডলক ইভেন্টের প্রতিষ্ঠাতা স্মিতা গুপ্তা একই মত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘বিয়ের সাফল্য স্পষ্টতই অতিথিদের উপর নির্ভর করে। তবে এটি আজকাল অতিথিদের সংখ্যা নয়। তারা অতিথিদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আরও চিন্তিত।’
২৯ বছর বয়সী মানিকা সিং বলেন, তিনি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বিয়ে করবেন এবং উত্তরাখণ্ডের জিম করবেট ন্যাশনাল পার্কে আয়োজিত মূল উদ্যাপনের জন্য মাত্র ২৫০ জন অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করছেন। তার মতে, ‘আপনি যদি আপনার বিয়েতে ৬০০ জন অতিথিকে ডাকেন, তবে এটি কেবলমাত্র অতিরিক্ত অর্থ অপচয়।’
একটি বড় বিয়ে অনুষ্ঠানের জন্য তার বাবা-মায়ের আকাক্সক্ষা পূরণের লক্ষ্যে সিং একদিন আগে বাড়িতে ৩০০ জন অতিথির দুপুরের খাবারের ব্যবস্থাও করবেন।
স্মিতা গুপ্তা বলেন, এটি একটি সাধারণ অভ্যাস যা দম্পতিরা প্রায়শই তাদের পরিবারকে শান্ত করার জন্য আত্মসমর্পণ করে। ‘এ রকম অনুষ্ঠানে আপনি অর্ধেক লোককেও চিনবেন না, তারা কেবল আপনার পিতামাতার পরিচিত।’
গুপ্তা বলেন, দম্পতিরা তাদের ি য়ে অনুষ্ঠানের আকার ছাঁটাই করলেও ব্যয় কিন্তু কমছে না। সংক্ষিপ্ত অতিথি তালিকা হলেও ভেন্যু, খাবার এবং সাজসজ্জার জন্য বড় খরচ করা আদর্শ রয়ে গেছে।
এর সাথে একমত পোষণ করে সিং বলেন, মুদ্রাস্ফীতি খাদ্যের খরচ বাড়িয়েছে। তাই তিনি অতিথিদের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্তকে নিশ্চিত করলেও তার পোশাক এবং গয়নাতে বেশি খরচ করবেন বলে জানান। এর ফলে তার ৭ লাখ রুপি খরচ হচ্ছে।
তার মতে ‘বেশি মানুষ মানে আপনার বিয়েতে কম বিলাসিতা। মানুষকে খাওয়ানোর পরিবর্তে আমরা এদিকে মনোনিবেশ করতে পারি।’