ব্রঙ্কসে বিএসিসির উদ্যোগে ড. নীনার ফান্ড রাইজিং

ছন্দা বিনতে সুলতান : গত ২ মে ব্রঙ্কসের ওয়েসিম রেস্টুরেন্টে পেনসিলভানিয়া থেকে লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদপ্রার্থী, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এশীয় বিষয়ক কমিশনের উপদেষ্টা বিজ্ঞানী ড. নীনা আহমেদের সমর্থনে এক উৎসবমুখর ফান্ড রাইজিং ডিনার অনুষ্ঠিত হয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার গণসচেতনতা ও প্রতিবাদী সংগঠন হিসেবে পরিচিত সংগঠন বাংলাদেশ আমেরিকান কম্যুউনিটি কাউন্সিলের (বিএসিসি) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই ডিনারে কমিউনিটি লিডার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, আইজীবীসহ সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।
সংগঠনের সভাপতি বিশিষ্ট আইনজীবী স্থানীয় প্লানিং বোর্ডের ফার্স্ট ভাইস চেয়ারম্যান মো. এন মজুমদারের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সম্পাদক নজরুল হকের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন নতুন প্রজন্মের কৃতি ছাত্রী আয়েশা হোসাইন ও পিজা ফজিলাতুন্নেসা।

এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন শ্রমিক ইউনিয়ন ও দক্ষিণ এশিয়ান আমেরিকান লেবার এলায়েন্স (এসাল) জাতীয় প্রেসিডেন্ট মহুফ মেজবা উদ্দীন, বাংলাবাজার মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ গিয়াস উদ্দীন, মামুনস টিউটোরিয়ালের কর্র্ণধার শেখ আল মামুন, আমেরিকান বাংলাদেশি ওয়েল অর্গানাইজেশন ইনকের সভাপতি আব্দুস শহীদ, অর্গানাইজেশন অব বাংলদেশি আমেরিকানস হাসান আলী, অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৮৬ এর প্রার্থী কারিনেস মেয়াম, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি প্রার্থী কাজী নয়ন, সেক্রেটারি পদপ্রার্থী মো. আলী, হোস্ট সংগঠনের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট সাখাওয়াত আলী, ডাইরেক্টর মনজুর চৌধুরী জগলু, এ ইসলাম মামুন প্রমুখ।


ডিনারে বিএসিসির পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন ড. নীনা আহমেদ ও বিএসিসির বোর্ড মেম্বারগণ। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন- স্টারলিং ফার্মের স্বত্বাধিকারী আবদুল চৌধুরী জাকি, বিডি কনস্ট্রাকশনের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার হোসেন, বিশিষ্ট কন্ট্রাকটর আলমগীর মোল্লা, এশিয়ান মাল্টিসাইট ইনকের প্রেসিডেন্ট সাইদুল রহমান লিংকন, আব্দুল কাদের মিয়া ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট আব্দুল কাদের মিয়া, নিরব রেস্টুরেন্টের এম বখতিয়ার রহমান খোকন, খলিল বিরিয়ানী হাউজের স্বত্বাধিকারী মো. খলিলুর রহমান, বাংলা টাউন সুপার মার্কেট ও বাংলা গার্ডেন রেস্টুরেন্ট গ্রুপের কর্ণধার কাওসার উজ্জামান কয়েস, বোর্ড কুইন্স বোর্ড মেম্বার ফখরুল ইসলাম দেলওয়ার।
ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ও অনুষ্ঠান আয়োজক মো. এন মজুমদার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের অবস্থান দৃঢ়করণের একমাত্র পথ হচ্ছে এদেশের স্থানীয় নির্বাচনসহ সকল নীতি-নির্ধারণে আমাদের অংশগ্রহণ। তিনি বলেন, ড. নীনার ফান্ড রেইজিং আশাতীত সাফল্য লাভ করেছে।


ড. নীনা আহমেদ বলেন, এ নির্বাচনে তা সাথে আরো ৪ জন লড়েছেন। তবে অন্য সকলের চেয়ে তার নির্বচানী তহবিল বেশি। এ অর্থ মেহনতী মানুষের, দুই যুগেরও অধিক সময় যাবত তৃণমূলের অভিবাসী, খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার ও মর্যাদা আদায়ের কাজের জন্য তারা তার পাশে রয়েছেন।
ড. নীনা বলেন, বাংলাদেশ ও কমিউনিটির কল্যাণে অবদান রাখার স্বার্থেই প্রত্যেক প্রবাসীকে আরো জোরালোভাবে মার্কিন রাজনীতির সাথে একাত্ম হতে হবে। বাংলাদেশিসহ সকল অভিবাসীর অধিকার সমুন্নত রাখতে ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে। ডেমক্র্যাটদের বিজয় নিশ্চিত করার মধ্যে দিয়েই ট্যাম্প প্রশাসনের আমেরিকান মূল্যবোধ বিরোধী কর্মকা-ের জবাব দিতে হবে। সমাজের অবহেলিত-নিপীড়িত বঞ্চিত মানুষের জন্য তিনি আজীবন কাজ করে যাবেন বলেও ব্যক্ত করেন।


ড. নীনা তার বক্তব্যের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের তার পাশে মঞ্চে এসে দাঁড়াতে আহ্বান করেন। তিনি বলেন, এই মানুষেরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিল বলেই আমরা আজ লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছি।
ফান্ড রাইজিংয়ের ডিনারে সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী ও সেন্ট জোন্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. তনিমা হক। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট জনের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর আনোয়ার হোসেন, কম্যুউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট রেক্সোনা মজুমদার, আলী ইমাম, শেখ আল মামুন, আজহারুল ইসলাম মিলন, মনিকা রায়, আহসান হাবীব প্রমুখ।


সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে সমাবেশ কক্ষে তিল ধারণের স্থান ছিল না। সব ভালোয় ভালো গেলে আগামী ১৫ মে বাংলাদেশি আমেরিকান নীনা আহমেদকে প্রথম বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য সরকারের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর পদে দেখা যাবে। আর এটাই প্রবাসীদের প্রত্যাশা।