ব্রঙ্কসে ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডস প্রবর্তক এনাম আলীকে স্মরণ

নিউইয়র্ক : এনাম আলী’র জীবন ও কর্ম ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেন আয়োজক খুলিল ফুড ফাউন্ডেশনের প্রধান শেফ খলিলুর রহমান।

ঠিকানা রিপোর্ট : নিউইয়র্কে ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডস-এর প্রবর্তক এনাম আলী এমবিই’র জীবন-কর্ম শীর্ষক আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রঙ্কসের খলিল বিরিয়ানী হাউসে গত ২১ জুলাই বৃহস্পতিবার খলিল ফুড ফাউন্ডেশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানের আয়োজক খলিল ফুড ফাউন্ডেশনের প্রধান শেফ খলিলুর রহমান কারি অস্কার খ্যাত ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডস-এর প্রতিষ্ঠাতা এনাম আলীকে মরণোত্তর লাইফ টাইম এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদানের ঘোষণা দেন।
শেফ খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে মরহুম এনাম আলীর আত্মীয় ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আলম চৌধুরী টেলিফোনে সংযুক্ত হয়ে মরহুমের জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে মরহুম এনাম আলীর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন এনাম আলীর ছোট বেলার বন্ধু ফকু চৌধুরী, সাংবাদিক নাজমুল আহসান, সাংবাদিক আবু তাহের, সাংবাদিক ইব্রাহিম চৌধরী খোকন, সাংবাদিক শাহাব উদ্দিন সাগর, সাংবাদিক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, এনামুল হক এনাম, শেলী জামান খান, বাংলাবাজার বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল ওয়াহিদ চৌধুরী জাকি, দাদা হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট রিসফা ইসলাম, ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলির প্রেসিডেন্ট কামরুজ্জামান বাবু, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট নুরে আলম জিকু, বদরুদ্দোজা সাগর প্রমুখ।
স্মরণসভায় শেফ খলিলুর রহমান মরহুম এনাম আলীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, দেশের বাইরে বাংলাদেশি কারি শিল্পকে প্রতিষ্ঠিত করার অগ্রদূত এনাম আলী। তিনি বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট শিল্পকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পথিকৃৎ। তাঁর মত করেই যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি খাবার ও রেস্টুরেন্টকে সম্মানজনক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়াস চালাচ্ছি।
খলিলুর রহমান বলেন, মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগেও এনাম আলীর সাথে আমার কথা হয়েছে। ব্রিটেনের কারি শিল্পকে অনন্য উচ্চতায় নিতে গিয়ে তিনি যে সংগ্রাম করেছেন তার বিবরণও জানার সুযোগ হয়েছে আলাপচারিতায়। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কারি শিল্প বিকাশে তার সহযোগিতা চাইলে তিনি সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ বছর নভেম্বরে তার সঙ্গে সাক্ষাত করে এ ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানার কথা ছিলো। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য যে সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলাম।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাবিব রহমান, শামীম আহমেদ, সাহেদ আলম, মোজাফ্ফর হোসেন, এম বি তুষার, কাজী রবি-উজ-জামান, স্বপন তালুকদার, মো. সেলিম রেজা, ভায়লা সালিনা, শামীম সিদ্দিকী, মামুন আহমেদ, সৈয়দ আসাদুজ্জামান মানি, শাহজাহান নজরুল প্রমুখ।
মরহুম এনাম আলীর রুহের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া পরিচালনা করেন পিআইসির খতিব মাওলানা ওবায়দুল হক ও বাংলাবাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবুল কাশেম মোহাম্মদ ইয়াহহিয়া। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন মাওলানা শহীদুল্লাহ।
উল্লেখ্য, ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডস-এর প্রবর্তক বাংলাদেশি এনাম আলী দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ১৭ জুলাই রোববার স্থানীয় সময় ভোর ৩টায় যুক্তরাজ্যের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মরহুম এনাম আলী প্রথমে ব্রিটেনে পড়াশোনা করতে যান ১৯৭৫ সালে। তার বিষয় ছিল হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট। একজন প্রভাবশালী ব্রিটিশ বাংলাদেশি ছিলেন এনাম আলী।
ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডস-এর প্রবর্তক এনাম আলী ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, থেরেসা মে ও বরিস জনসনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ব্রিটেনের মূলধারায় একজন প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
এনাম আলী এমবিই ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার সরকারের হসপিটালিটি অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য হিসেবে ৫ বছর সার্ভিস প্রদান করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের সময়কাল পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। ওই সময় কারি ইন্ডাস্ট্রি সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন নীতিমালা ফেয়ার থাকার ব্যাপারে তিনি সর্বাত্মক ভূমিকা রাখেন।