ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটির বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত

নিউইয়র্ক : গত ২৫ আগস্ট রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটি অব নর্থ আমেরিকা ইনক্-এর উদ্যোগে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি হিসেবে খ্যাত লং আইল্যান্ডের হেকশেয়ার স্টেট পার্কে বার্ষিক বনভোজন ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বনভোজন ও মিলনমেলায় বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরের আনন্দঘন অংশগ্রহণে বনভোজন ও মিলনমেলা স্থানটি হয়ে ওঠে একখন্ড বাংলাদেশ।
এবারের বার্ষিক বনভোজন ও মিলনমেলা ছিল একটু ভিন্ন আয়োজনে। যদিও ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটির উদ্যোগে এবারের বনভোজনের আয়োজন, তার সাথেও যুক্ত হয়েছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরও দুটি সংগঠন; ব্রাহ্মণবাড়িয়া সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা ইনক্ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সম্মিলনী অব নর্থ আমেরিকা ইনক্। প্রবাসের অত্যন্ত শক্তিশালী তিনটি সংগঠনের যৌথ পরিচালনায় এবারের বনভোজন ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। নিউইয়র্কে বসবাসরত প্রবাসী ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর প্রায় পাঁচ শতাধিক লোকের সমাবেশ ঘটে উক্ত বনভোজন ও মিলনমেলায়।
এবারের বার্ষিক বনভোজন ও মিলনমেলা উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি এটর্নী মঈন চৌধুরী, বিশেষ অতিথি সাবেক সংসদ সহিদুর রহমান, প্রধান সমন্বয়কারী প্রফেসর নোয়াব মিয়া, আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন তালুকদার স্বপন, কমিউনিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ্ মোয়াজ্জেম, সোসাইটির সভাপতি ফখরুল ইসলাম মজনু ও সম্মিলনীর সভাপতি হাজী সৈয়দ মোঃ শওকতসহ তিন কমিটির সকল নেতৃবৃন্দ। আর পুরো অনুষ্ঠানটি সাবলীল উপস্থাপনার মাধ্যমে পরিপূর্ণ করে রাখেন প্রধান সমন্বয়কারী প্রফেসর নোয়াব মিয়া, আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন তালুকদার স্বপন, সাইফুল ইসলাম আলমগীর, শাহীনুর রহমান সানি, সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহ মোয়াল্লেম হোসাইন। বনভোজন ও মিলনমেলার সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে ছিলেন কমিউনিটির উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সহিদুর রহমান, আবু মুসা খান, আইয়ুব চৌধুরী হারুন, নাদির আহমেদ আইয়ুব, মোঃ তুহিন মিয়া, সোসাইটির উপদেষ্টা দবীর হোসেন শামীম, মোতাহার হোসেন, সম্মিলনীর সাধারণ সম্পাদক আশাফ মাসুক, কমিউনিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনার খান প্রমুখ।

এই বনভোজন ও মিলনমেলায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী তোফায়েল ইসলাম, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক প্রচার সম্পাদক মফিজুল ইসলাম ভূইঁয়া রুমি, সোসাইটির সাবেক উপদেষ্টা ওয়াহিদুজ্জামান, সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ, কসবা উপজেলা সমিতির সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম, নূর হোসেন ভুঁইয়া (সেন্টু), বর্তমান সভাপতি মোস্তফা কামাল ইমাম, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ উদ্দিনসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটি, সোসাইটি এবং সম্মিলনীর অন্যান্য সকল নেতৃবৃন্দসহ প্রবাসের অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। বনভোজন স্থলে পৌঁছার পরই তরমুজ পরিবেশনের পর্ব শুরু হয়। তারপর শুরু হয় বিভিন্ন বয়সের ছেলে/মেয়েদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা। এবারে খেলাধুলায় বিজয়ীদের জন্য ছিল অত্যন্ত উন্নতমানের আকর্ষণীয় পুরস্কার। তারপর শুরু হয় দুপুরের খাবার। বিভিন্ন রকম দেশীয় খাবার খেয়ে ছোটবড় সবাই ভুয়সী প্রশংসা করেন। দুপুরের খাবারের পরই শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রবাসের অত্যন্ত পরিচিত শিল্পী রাবিনা ও সানী মনোমুগ্ধকর গানের মাধ্যমে বনভোজনে উপস্থিত সকল বয়সের মানুষের মন কেড়ে নেন। অত্যন্ত চমৎকার ছিল এই সাংস্কৃতিক পর্বটি। তারপর শুরু হয় অত্যন্ত আকর্ষণীয় ইভেন্ট র‌্যাফেল ড্র। এবারের র‌্যাফেল ড্রতে ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয় পুরস্কার। র‌্যাফেল ড্র’র প্রথম পুরস্কার ছিল স্বর্ণালংকার। র‌্যাফেল ড্র’র প্রথম পুরস্কার প্রদান করেন কমিউনিটির উপদেষ্টা নাদির আহমেদ আইয়ুব। তাছাড়াও বি.বাড়িয়া সোসাইটি ৩টি পুরস্কার, সম্মিলনী ১টি পুরস্কার এবং অন্যান্য সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান র‌্যাফেল ড্র’র পুরস্কার প্রদান করেন।

এবারের বনভোজন ২০১৯ যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতায় সফল হয়েছে তারা হলেন বনভোজন উপ-কমিটির আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন তালুকদার স্বপন, প্রধান সমন্বয়কারী প্রফেসর নোয়াব মিয়া, সদস্য সচিব আলী আজগর বশির, যুগ্ম আহ্বায়ক এস. এম. বাহাদুর, যুগ্ম সদস্য সচিব মোঃ তুহিন মিয়া, কমিউনিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ মোয়াজ্জেম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনার খান, আইয়ূব চৌধুরী হারুন, সাইফুল ইসলাম আলমগীর, শাহীনুর রহমান সানি, সোসাইটির উপদেষ্টা দবীর হোসেন শামীম, সোসাইটির সভাপতি ফখরুল ইসলাম মজনু, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহ মোয়াল্লম হোসাইন, আলমগীর সরকার, আশিকুজ্জামান অপু ও সম্মিলনীর সভাপতি সৈয়দ মোঃ শওকত, আশাফ মাসুক, কমিউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমানুল হক সেন্টু, মোঃ নাসিম হাসান, এমরানুল হক ও এমরান খান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, এবারের বনভোজনে গ্রান্ড ডোনার হিসেবে তিনটি বাসের যাবতীয় খরচ বহন করেন কমিউনিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ মোয়াজ্জেম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনার খান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর রহমান সানি।
সবশেষে কমিউনিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ মোয়াজ্জেম বনভোজন ও মিলনমেলায় অংশগ্রহণকারী উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বনভোজনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।