ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের নজিরবিহীন কাণ্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি : ভারতে দ্রুত পণ্য পরিবহনের জন্য খুলনা হতে মংলা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা জরিপের জন্য পরামর্শকের পেছনে ব্যয় হচ্ছে ৫৮ কোটি টাকা। অর্থের জোগান দিচ্ছে ভারত। পরামর্শকও ভারতীয়। বিস্ময়করভাবে কাজ শুরু করার আগেই পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে ৯০ শতাংশ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় ডলার ক্রিডেট লাইনের (এলওসি) আওতায় খুলনা হতে মংলা পোর্ট পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ডিসেম্বর ২০১০ হতে ডিসেম্বর ২০১৩। এই সময়ে কাজ শুরু করা হয়নি। কাজের পরিধি বৃদ্ধির পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বদল নিয়ে অনাকাক্সিক্ষত জটিলতা এবং এলাইনমেন্ট চূড়ান্তকরণ বাবদ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নেওয়া হয়। তৃতীয় দফায় ২০১৮-এর জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। এক মাস পরই প্রকল্পের মেয়াদ আবারও বাড়িয়ে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়া হয়। চার দফায় মেয়াদ বাড়ানোর নজির রেলের ইতিহাসে এই প্রথম।
অস্বাভাবিক এই বিলম্বের প্রধান কারণ হচ্ছে সম্ভাব্যতা জরিপের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের অস্বাভাবিক আচরণ। মূল পরামর্শক নিয়োগ করা হয় সিইজি-এনকেআই জেভি নামক ভারতীয় একটি প্রতিষ্ঠানকে। কাজ সম্পাদনের জন্য তাদের সঙ্গে ৪২ মেয়াদি চুক্তি সম্পাদিত হয়। এ বছরের ১৪ জুন চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে চুক্তিমূল্যের ৯০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করা হয় দুই দফায়। প্রথম দফায় কাজ শুরু করার আগে ৩০ শতাংশ এবং অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ অর্থ দেওয়া হয় কাজ শুরু করার চার মাসের মধ্যে। বাংলাদেশ রেলওয়ে এতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের সুপারিশে অর্থ দিতে হয়। অথচ তারা কাজ করেনি। কাজ সম্পাদনে তাদের সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে আরেক কনসালট্যান্ট নিয়োগ করার প্রস্তাব করে। নজিরবিহীন এ প্রস্তাবে বাংলাদেশ রেলওয়ে আপত্তি জানায়। কিন্তু ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের সুপারিশে তাতে সম্মতি জানাতে হয়। এ প্রকল্পের জন্য অর্থছাড়ের বিষয়টি এক্সিম ব্যাংক সাব-কনসালট্যান্ট নিয়োগের ব্যাপারে তারা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়। চুক্তি অনুযায়ী সাইটে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ নিয়োজিত রাখার কথা, যাতে ভালোভাবে কাজের সুপারভিশন হয়। কিন্তু তা না হওয়ায় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। নজিরবিহীন এ অবস্থায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অসহায় বোধ করছে। এখন নতুন করে তাদের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত অর্থ যেমনটি যাবে, অতিরিক্ত সময়ও লেগে যাবে।