ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু : মাতৃহারা দুই শিশুর কী হবে

পাবনা : গত ২ নভেম্বর জন্ম নিয়েছে কুলসুম। মায়ের কাছে শিশুটি থাকতে পেরেছে সব মিলিয়ে দিন তিনেকের মতো। এর পরই মা তাকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। পাবনার ভাঙ্গুড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মা তাসলিমা খাতুনের (২৬) মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ নভেম্বর পৌর সদরের নিরাপদ হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।তাসলিমা পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের চিথুলিয়া চরপাড়া গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সুজন আলীর স্ত্রী।তাসলিমা শুধু তার চার দিনের মেয়ে কুলসুমকেই রেখে যাননি। রেখে গেছেন ফাতেমা খাতুন নামের চার বছর বয়সী আরও এক কন্যাশিশুকে। আর রেখে গেছেন এই দুই শিশুর সামনে অনিশ্চিত এক ভবিষ্যৎ। তাসলিমার স্বামী সুজন ভাঙ্গুড়াতেই একটি খাবার হোটেলে কাজ করেন। তাদের পরিবারেও দারিদ্র্যের ছাপ। তাই মা ছাড়া মেয়ে দুটির কী হবে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফিরছেন তিনিও। তাসলিমার স্বামী মো. সুজন আলী জানান, গত শুক্রবার হাসপাতালটিতে ডা. রাজু আহম্মেদের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার স্ত্রী একটি কন্যাশিশু জন্ম দেন। এর পর তিনি সুস্থও হয়ে ওঠেন। গত ৫ নভে¤ৃ সকাল ৯টার দিকে কর্তব্যরত নার্স তাসলিমাকে একটি ইনজেকশন দেন। এর কিছুক্ষণ পরই তাসলিমা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মারা যান।এ বিষয়ে ক্লিনিকটির পরিচালক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, সেপ্টন নামের ইনজেকশনটি নেওয়ার পর অন্তত ৪০ মিনিট বিশ্রাম নিতে হয়। কিন্তু তা না করে তাসলিমা কিছুক্ষণ পর দাঁড়াতে গিয়ে হঠাৎ পড়ে যান। আর তখনই হয়তো স্ট্রোক করে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ ব্যাপারে ভাঙ্গুড়া থানার ওসি (তদন্ত) আশিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।