মনে হচ্ছে আমরা খাঁচাবন্দি জন্তু

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : মায়ের সঙ্গে দেখা হয়নি সপ্তাহ দুয়েক। গৃহবন্দী করা হয়েছে তাঁকেও। নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারিতে রাখা হয়েছে সর্বক্ষণ। বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো উপায় নেই। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে খোলা চিঠি লিখলেন জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (পিডিপি) নেত্রী মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা জাভেদ।

কাশ্মীর উপত্যকায় ডাক যোগাযোগ বন্ধ। ইলতিজার দাবি, তাই তিনি একটি অডিও রেকর্ডিং এবং খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন। তাতে উপত্যকার বিশেষ মর্যাদা বিলোপ করা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইলতিজার অভিযোগ, জন্তুর মতো খাঁচায় বন্দী করে রাখা হয়েছে কাশ্মীরিদের। কেড়ে নেওয়া হয়েছে তাদের মানবাধিকার। এমনকি সংবাদমাধ্যমে মুখ খুললে তাঁকেও ফল ভুগতে হবে, এমন হুমকিও পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইলতিজা।

উপত্যকার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির মেয়ে হলেও রাজনীতিতে পা রাখেননি ইলতিজা। তা সত্ত্বেও দিন কয়েক আগে গৃহবন্দী করা হয় তাঁকে। তাঁকে কেন গৃহবন্দী করা হয়েছে, এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এখন পর্যন্ত কোনো জবাব মেলেনি। তাই গত ১৫ আগস্ট সরাসরি অমিত শাহকেই খোলা চিঠি লেখেন ইলতিজা। তাতে লেখেন, ‘আমাকে কেন বন্দী করে রাখা হয়েছে, একাধিকবার তা জানার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাতে সফল হইনি। তাই চিঠি লেখা ছাড়া অন্য উপায় ছিল না। নিজের মৌলিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম। আশা করি, তার জন্য নিশ্চয়ই এমন শাস্তি পেতে হচ্ছে না। এর উত্তর আপনি নিশ্চয়ই জানবেন।’

কারো সঙ্গে তাঁকে দেখা করতে দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ তুলেছেন ইলতিজা। তিনি লিখেছেন, ‘কেউ দেখা করতে এলে জানানো পর্যন্ত হয় না। বাইরের দরজা থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ঘরের বাইরে পা রাখার অনুমতি নেই আমার। চিরকাল একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের কর্তব্য পালন করেছি। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও যুক্ত নই। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, কিছু সংবাদপত্র এবং ওয়েব পোর্টাল আমার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে, তাই আটক করা হয়েছে আমাকে। ফের সাক্ষাৎকার দিলে ফল ভোগ করতে হবে বলে এরই মধ্যে হুমকিও পেয়েছি।’

ইলতিজা আরো লিখেছেন, ‘অন্ধকার গ্রাস করেছে গোটা কাশ্মীরকে। স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত আমি। বিশেষ করে যাঁরা মুখ খোলার সাহস দেখাচ্ছেন।’ গত ৫ আগস্ট ৩৭০ ধারা বিলোপের একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়। ওই দিনই আটক করা হয় তাঁর মা মেহবুবা মুফতি, জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং উপত্যকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের। তাঁর লেখায় রয়েছে, ‘এতে হতাশ আমরা। ১০ দিন পেরিয়ে গেছে, এখনো কারফিউ রয়েছে, উপত্যকায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যোগাযোগের যাবতীয় মাধ্যম। দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে একটা সামগ্রিক জনসংখ্যাকে। আজ দেশজুড়ে স্বাধীনতা দিবস পালিত হচ্ছে। কিন্তু পশুর মতো বন্দী করে রাখা হয়েছে কাশ্মীরবাসীকে। কেড়ে নেওয়া হয়েছে তাদের মানবাধিকার।’

ক্ষমতা প্রয়োগ করে কাশ্মীরবাসীর শ্বাসরোধ করা হচ্ছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের মানহানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন ইলতিজা। তাঁর চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষের কি কথা বলারও অধিকার নেই? এত দিন সত্যের জয় হয় বলেই জানতাম আমরা। দেশের সংবিধানও সে কথাই বলে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, অপ্রিয় সত্যের জন্য লড়ছি বলেই আজ যুদ্ধাপরাধীর মতো আচরণ করা হচ্ছে আমার সঙ্গে।’