মহানায়িকা

খায়রুল আনাম :

‘কী! এভাবে রোদের মধ্যে বসে আছ কেন?’
‘এই-ই…।’
‘এই-ই কী? আশপাশে এই-ই বলার মতো কোনো বস্তুই তো চোখে পড়ছে না।’
‘না, কোনো বস্তুফস্তুর কথা নয়। মানে একটু পরেই তো আবার শুটিং শুরু হবে, তাই।’
‘বলেছে তোমাকে। এত বছর শুটিং করে তোমার এই অভিজ্ঞতা হয়েছে? একটু পরে কেন, দুই ঘণ্টা চলে গেলেও আবার শুটিং শুরু হয় কি না দেখো।’
‘ওরা তো সে কথাই বলে গেল।’
‘আবার ওরা? ওদের কথার দাম কতটুকু?’
‘না মানে, বেশি দেরি হলে সূর্যটাকেও তো আর পাওয়া যাবে না।’
‘সেটা তো পরিচালকের কথা। কিছুটা প্রযোজকের কথাও হতে পারে। কিন্তু ক্যামেরাম্যান তো একটা ফাজিল আর বেআক্কেল। সে যে কোথায় সটকে পড়েছে আর কখন ফিরবে তার খবর কে জানে? আর বাকিরা যে খুব খুশিমনে কাজ করছে, সেটাই-বা কে বলবে? এদিক-ওদিক থেকে যতটুকু খবর কানে আসে, শুনতে পাই সবাই প্রযোজকের ওপর বিরক্ত। বুঝতেই পারছ তাদের দায়িত্ব পালনের জোশ কতটা ঢিলে হতে পারে। বলতে গেলে করে না।’
‘আমি করি।’
‘হ্যাঁ, কেবল তুমিই করো। আর সেটা সবাই স্বীকারও করে। সে জন্যই তুমি আজ মহানায়ক।’
‘আর একই কারণে তুমিও মহানায়িকা।’
‘খোঁচা মারার চান্সটা এবারও মিস করলে না।’
‘মারি নাকি?’
‘আহা ন্যাকা। কী উদার, মহানুভব। একবারে আল্লার খাস বান্দা!’
‘খোঁচা মারার লোভটা তুমিও কিন্তু সামলাতে পারলে না।’
অল্পক্ষণ চুপচাপ। নায়িকা পাশ ফিরে প্রোডাকশন বয়ের দিকে তাকিয়ে ঝাঁকুনি দেয়, ‘এই, মাথার উপর আর ছাতা ধরা লাগবে না, ভাগো।’
প্রোডাকশন বয় ভয় পেয়ে বলে, ‘না না, আমি থাকি ম্যাডাম। প্রডিউসার স্যার, ডিরেক্টর স্যার আমাকে ফিরে যেতে দেখলে ভীষণ গরম হয়ে যাবে। আমার চাকরিটাকেও হয়তো নট করে দেবে, ম্যাডাম।’
‘চোপ। কেউ রাগ করবে না। মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি। রং পুড়ে যাওয়ার চিন্তা আমার চেয়ে ওদের বেশি! জিজ্ঞেস করলে বলবে, ম্যাডাম বলেছে ছাতার ছায়া এখন ওনার অসহ্য লাগছে। উনিই চলে আসতে বলেছে।’
ছেলেটি মুখ কালো করে চলে গেল।

দেব : ‘কেন খামোকা ছেলেটাকে ওভাবে তাড়িয়ে দিলে? সত্যিই তো রোদের তেজ বেশ অনেকটা। খামোকা তোমার মেকআপটা নষ্ট হয়ে যাবে।’
কলি : ‘চুলোয় যাক মেকআপ।’
দেব : ‘কী ব্যাপার বলো তো? হঠাৎ অমন করে খেপে গেলে কেন?’
কলি : ‘হঠাৎ নয়। আর খেপিনি আমি?’
দেব : ‘তবে? এসেছ কি পিওরলি আমাকে ঝাড়ি দিতে?’
কলি : ‘আহা, ন্যাকা। সেই অধিকারটুকুও যদি আমার থাকত। আই মিন, যদি রাখতে পারতাম। পিটি মি।’
দেব : ‘যাব্বাবা। শত্রু এক্সকে ঝাড়িও দিতে আসোনি? তাহলে কোন মহান বাণী নিয়ে আমার কাছে এসেছ?’
কলি : ‘একটা অনুরোধ করতে।’
দেব : ‘বলো কী? অনুরোধ? আর ইউ সিরিয়াস? ও মাই গড! ইহাকে কি বাংলায় ভূতের মুখে রামনাম কহে?’
কলি : ‘ফাজলামি রাখো তো। স্বভাবটা আর গেল না। এটা কোনো ইয়ার্কির কথা নয়। সত্যিই আমি একটা অনুরোধ করতে এসেছি।’
দেব : ‘আচ্ছা দেববাবু, হালকা না হয়ে আপনি সিরিয়াস হয়ে যান। ও হ্যাঁ, বলো। কী যেন তোমার অনুরোধ?’
কলি : ‘এখন থেকে প্রেমের সিনে তুমি আর ওভাবে আমার হাতটা ধরবে না।’
দেব : ‘ওভাবে মানে? এটা আবার নতুন কী? প্রথম দিন থেকেই তো ওভাবে, মানে ওই একইভাবে তো আমি হাত ধরে আসছি।’
কলি : ‘সেটাই। বিয়ের আগে ও পরে যত দিন একসঙ্গে ছিলাম আমার কোনো অসুবিধা হয়নি। ঘর-বাইর আমার একাকার হয়ে থাকত। কিন্তু এখন তুমি ওভাবে ধরলে আমার সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। আমি পাগল হয়ে যাই। আমি যে এখন একটা আলাদা সত্ত্বা, সেটা ভুলে যাই। আমার রোলটা ঠিকমতো করতে খুব কষ্টে পড়ে যাই। প্লিজ, প্লিজ, দেব, একটু দয়া করো।’
কলির চোখ দিয়ে টসটস করে পানির বড় বড় ফোঁটা নামতে থাকে।
দেব : ‘আরে, কী ব্যাপার, কলি? তুমি হঠাৎ এত ইমোশনাল হয়ে গেলে কেন?’
কলি : ‘আশ্চর্য! সাধে কি আর রাগ হয়? এর মধ্যে তুমি কেবল ইমোশনই দেখলে?’
দেব : ‘শুধু ইমোশন নয়, এটাকে বলে ছেলেমানুষি। এটাকে আধুনিকীকরণ করে মেয়েমানুষিও বলতে পারো।’
কলি : ‘আগের মতো এখনো দেখছি তুমি কোনো পাত্তাই দিচ্ছ না।’

দেব : ‘কী মুশকিল! এখানে পাত্তা দেওয়ার কথা উঠছে কোত্থেকে? তোমার মতো একটা নামকরা, গুণী, প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী যদি এটুকু না সামলাতে পারে, তাহলে কী করে চলবে? তুমি এগোবে কী করে? আমার চেয়ে তুমি তো আরো ভালো করে জানো যে, অভিনয় করার সময় আমরা কাহিনির মধ্যে পুরোপুরি ঢুকে পড়ে তারই একটা চরিত্র হয়ে যাই। নিজেদের ব্যক্তিগত ইমোশনটা সেখানে বলি দিতে হয়।’
কলি : ‘অত লেকচার দিয়ো না তো। পারবে কি না বলো। আরো পরিষ্কার করে বলি, করবে কি না বলো।’
দেব : ‘কী মুশকিল রে বাবা! অন্য রকম করে আবার কীভাবে ধরব? আমি সেই একই আমি। বদলাব কীভাবে? মোদ্দা কথা, আমার অবস্থা তো ড্রাইভারের সিটে বসার মতন। সিটবেল্ট বাঁধা, দুটো হাত স্টিয়ারিংয়ে, ফ্লোরে আর এক পা হয় এক্সেলারেটরে না হয় ব্রেকে। কোনো দিকে নড়াচড়ার কোনো উপায় আছে? কিন্তু প্যাসেঞ্জারের সিটে যে বসে আছে, তার কাছে তো দুনিয়ার অপশন। এগিয়ে, পিছিয়ে, ডান পাশে সরে গিয়ে, বাম পাশে ঘেঁষে এসে, যেভাবে খুশি সে বসতে পারে।’

কলি : ‘কাটা ঘায়ে নুন ছিটাতে বড় আরাম না? শুধু তুমি কেন, অন্যরাও ছিটাচ্ছে। পরের কথা শুনে জীবনে মস্ত বড় একটা ভুল করেছি। তার জন্য পদে পদে প্রায়শ্চিত্ত করে চলেছি। এর থেকে কবে মুক্তি পাব, উপরওয়ালা জানে। দিনরাত চিন্তা করে চলি। কোনো কূলকিনারা খুঁজে পাই না।’
দেব : ‘কলি, তোমার ওই বারবার “ভুল করেছি, ভুল করেছি” কপচানিটা এবার ছাড়ো তো। আর ভুলটা কিসের? আমার তো মনে হয়, তুমি খুব ভালো একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছ। ঠিক সময়ে ছাড়াছাড়ি নিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটা তোমার জন্য সত্যি একটা বিচক্ষণতার কাজ হয়েছে।’
কলি : ‘কচু হয়েছে। কী ভালোটা হয়েছে? সুখে থাকতে ভূতে কিলিয়েছে। সবাই দিনরাত কানের মাথা খেয়ে বলেছে, তোমাদের জুটিটা অবশ্যই দারুণ। বর মহানায়ক, বউ মহানায়িকা। কিন্তু লক্ষ করে দেখেছ, প্রতিবার দেবই প্রধান চরিত্র, তোমার থাকে সদাই লাইমলাইটে রাখার একটা সাপোর্টিং রোল। চিরকাল এভাবেই চলবে। একসময় বুড়ো হয়ে যাবে। একসঙ্গে থাকলে দেবকে চটিয়ে নায়িকা-প্রধান কোনো ছবিতে তোমাকে কেউ কাস্ট করবে না। একমাত্র হতে পারে, যদি তুমি দেবের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আলাদা হয়ে যাও। সবাই বলে, তোমার প্রতিভা দেবের চেয়ে বেশি। নায়িকা-প্রধান চরিত্র পেলে তুমি যে দেবকে ছাড়িয়ে যাবে, এ কথা কে না জানে?’
দেব : ‘তারা তো ঠিকই বলেছে। শুধু তারা কেন? এ কথা আমার চেয়ে কে বেশি জানে?’

কলি : ‘না না করে, তাদের কথা উড়িয়ে দিয়ে দুই বছর কাটিয়ে দিলাম। তবু কান ছাড়িয়ে আইডিয়াটা ব্রেনের মধ্যে ঢুকে ঘুরপাক খেতে থাকল। খ্যাতির লোভ বাড়তে লাগল। ছুতোনাতা কারণে তোমার সঙ্গে ঝগড়া-ফ্যাসাদ বাধাতে শুরু করে দিলাম। তুমি সেসব গায়ে মাখতে না দেখে মাথা আরো গরম হয়ে যেত। মনে হতো, তুমি খুব অহংকারী। আমার জেনুইন গ্রিভ্যান্সটাও তুমি তুচ্ছ করে দেখছ। তাই আমি নিজেই উদ্যোক্তা হয়ে তোমাকে একসময় ডিভোর্স দিয়ে দিলাম। তোমাকে অনেক অনুরোধ, উপরোধ, ধমক, ভয় দেখিয়েও কোনো কাজ হয়নি। কাগজে তুমি কিছুতেই সই করতে চাওনি। আমার মনে হয়েছিল, তুমি মতলববাজ। দেনমোহরের টাকাটা দিতে চাও না বলে সই করছ না। একসময় আমি রেগেমেগে বললাম, আই ডোন্ট কেয়ার ফর ইয়োর মানি। তোমাকে এক পয়সাও দিতে হবে না। শুধু সইটা করে দাও। তুমি তাও সই করলে না। উল্টো বারবার বললে, “কলি, অমন পাগলামো করো না।” তিন মাস পরে আমাদের অটোমেটিক ডিভোর্স হয়ে গেল। আর কী আশ্চর্য! ঠিক তার পরদিন থেকে আমার মাথা থেকে ভূত নেমে গেল। বুঝতে পারলাম, গোঁয়ার্তুমি করে আমি কী ভুলটাই না করে বসেছি। সেদিন থেকে যে কান্না শুরু হলো, আজও আড়ালে-আবডালে কেবল সেই কান্নাই কেঁদে চলেছি।’

দেব : ‘আরে বোকা মেয়ে, পাগল নাকি? শুধু শুধুই কেঁদে বেড়াচ্ছ। তুমি তো একদম ঠিক কাজটাই করেছ। আমি হলেও ঠিক এই কাজটাই করতাম। দেখছ না, ডিভোর্সের পরে আমার সঙ্গে একই ছবিতে কাজ করলেও আস্তে আস্তে তোমার পারিশ্রমিক বেড়ে চলেছে। প্রডিউসার-ডিরেক্টররা আগে রিস্ক নিতে না চাইলেও এখন তোমাকে অন্য নায়কদের সঙ্গেও জুটি নেওয়া শুরু করেছে। জাস্ট আর কিছুদিন ধৈর্য ধরো। ধীরে ধীরে সবকিছুই একদিন তোমার হাতের মুঠোয় চলে আসবে। তোমার যোগ্যতার পূর্ণ স্বীকৃতি একদিন আসবেই।’
কলি : ‘ঘোড়ার ডিম আসবে। আমি অলরেডি অনেক সিনিয়র, আগের চেয়ে এখন মুটিয়েও গেছি। জুনিয়রদের সঙ্গে যে ঠিক মানাচ্ছে না, সেটা আমার চেয়ে কে বেশি বোঝে? তা ছাড়া দু-একজন ছাড়া তারা তেমন ভালোও নয়। প্রতিভা যে নেই, সে কথা বলছি না। তবে এখন হেঁজিপেজি লোকের হাতে পয়সা হয়ে যাওয়ার ফলে তারা কোনো যোগ্যতা ছাড়াই মা-নেই, বাপ-নেই এমন নাটক, সিনেমা করে চলেছে এবং সেসবে এদেরকে নায়ক হিসেবে নিচ্ছে। একগাদা টেলিভিশন স্টেশন হয়ে যাওয়ার ফলে এসব নায়ক এত ব্যস্ত যে ভালোমতো রিহার্সাল দেওয়া তো দূরের কথা, অনেকে স্ক্রিপ্টটাও পড়ার সময় পায় না। তাদের সাথে আমি কি অভিনয় করব?’

দেব : ‘তাতে তো নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে তোমার বেশি সুবিধা। তুমি অনেকটা স্পেস পাবে। তুমি মেইন আর ওরা সাপোর্টিং রোলে। আর বাজে বকো না। তুমি একটুও মুটিয়ে যাওনি। রূপ আছে, অভিজ্ঞতা আছে, বাজারে অলরেডি নাম আছে। তোমার নিজের আলো ছড়াতে কদিন?’
কলি : ‘তোমার সঙ্গে ছাড়াছাড়ির আগে সে কথা কি আমি একবারও চিন্তা করে দেখিনি ভেবেছ? কিন্তু পরে আরো গভীরভাবে চিন্তা করে দেখলাম, সুচিত্রা সেন তাদের পপুলার জুটির বাইরে “সাতপাকে বাঁধা”, “দীপ জ্বেলে যাই” ইত্যাদি অনেক নায়িকা-প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছে। ভালোও করেছে। কিন্তু আজও সুচিত্রাকে সবাই উত্তম-সুচিত্রা জুটির সুচিত্রা হিসেবেই চেনে। সেভাবে মুম্বাইয়ের রেখাকে সবাই অমিতাভ বচ্চন-রেখার রেখা হিসেবে মনে রেখেছে। দিলীপকুমার-বৈজয়ন্তীমালা, রাজকাপুর-নার্গিস, ধর্মেন্দ্র-হেমা মালিনী অথবা ইদানীংকালের শাহরুখ-কাজল এমনকি হালের রণবীর সিং-দীপিকা পাডুকোনের কথাও চলে আসে। কাজেই শেষমেশ লাভটা কী হবে? মাঝখান থেকে যে লাঠির ওপর আমার ভর, সেই পরম নির্ভর লাঠিখানি আমি নিজের হাতে ভেঙেছি। এখন অভিনয়ের ছলে কেবল একটু ছুঁতে পারি, কিন্তু ধরে থাকার, ধরে রাখার অধিকার কি আর আছে?’

দেব : ‘কী সব আবোলতাবোল বকছ? এত তোড়জোড় করে, এতটা ত্যাগ স্বীকার করে শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়ে দেবে?’
কলি : ‘কান দিয়ে যাচ্ছে না, কী বলছি? এটা হলো একটা শুভংকরের ফাঁকি। এতে নেট লাভ কিছু নেই। সুখ গেল, শান্তি গেল। কদিন পরে বয়সটাও যাবে। বুড়ি থুবড়ি হয়ে তখন সোশ্যাল লেডি বনে সভা-সমিতিতে ফিতে কাটাতে যেতে হবে।
দেব : ‘দেখো, আমেরিকান খবরের কাগজের এডিটরিয়াল কলামের মতো করো না। পুরো এক কলাম পড়েও কী যে বলতে চাচ্ছে, তা বোঝা যাবে না। মোদ্দা কথা, এটা হবে, ওটা হবে, আগডুম বাগডুম বাদ দিয়ে এখন তুমি কী চাও তা তো পরিষ্কার করে বললে না।’
কলি : ‘শুনে কী করবে শুনি? চাইলে তুমিই কি দেবে, না আমার চাইবার মতো মুখ আছে?’
দেব : ‘না চেয়েই বৃষ্টি? চেয়েও তো দেখতে পারো। ওয়ার্স্ট কাম ওয়ার্স্ট, না হয় একটা “না” পাবে। চেষ্টা করতে দোষ কী?’
কলি উৎসাহিত হয়ে বলে, ‘রাখবে তুমি? সিরিয়াসলি? আমি, আমি…’
দেব : ‘থাক, আজ আর নয়, সোমবার এসো।’
কলি : ‘সোমবার? সোমবার কেন? সোমবার কী?’
দেব : ‘আমেরিকার গ্রিন কার্ডের জন্য যে আবেদন করেছিলাম, তিন সপ্তাহ আগে সেই ডিপার্টমেন্ট থেকে একটা চিঠি এসেছিল। খুলে দেখতে আর ইচ্ছা হয়নি। উইকেন্ডে সেটা তাহলে খুলে দেখব।’

-শিকাগো