মাটির নিচে মিলল ৪ টনের সোনার মুখোশ

ঠিকানা ডেস্ক : কলম্বিয়ার ককা উপত্যকায় একটি আখের খেতে ট্রাক্টর চালাচ্ছিলেন এক কৃষক। আচমকাই ধাতব এক শব্দ। মাটির নিচ থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৪ টনের আস্ত সোনার মুখোশ। ফলে প্রকাশ্যে আসে মালাগানা সংস্কৃতির বেশকিছু অজানা কথা। শুধু একটা সোনার মুখোশকে কেন্দ্র করে খুন, লুঠপাট; একের পর এক ঘটনায় সরগরম হয়ে ওঠে ওই এলাকা। ককা উপত্যকায় পাওয়া এ সোনার মুখোশ প্রথম লুকিয়ে রেখেছিলেন ওই কৃষক। কিন্তু এ খবর চাপা থাকেনি। প্রায় ৫০০ বর্গমিটার বিস্তৃত ছিল এ চাষের জমি, যা পরে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের তকমা পায়। এ মুখোশের জন্য খুনোখুনিও হয়। ১৯৯২ সালে ওই একই এলাকা থেকে মালাগানা সংস্কৃতির বেশকিছু
প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী উদ্ধার হয়। এর মধ্যে অন্যতম একটা সোনার চিমটে, যা ভ্রু ঠিক করতে ব্যবহার করতেন প্রাচীনকালের অভিজাত ব্যক্তিরা।

প্রত্নস্থল থেকে সোনা লুটর সময়ই ১৯৯৩ সালে এক ব্যক্তি এখানে খুন হন। ৪ টনের মুখোশ মেলায় শত শত সমাধি ধ্বংস করা হয়। আরও বেশি সোনা খুঁজে পাওয়ার লোভে লুট হতে থাকে। ধীরে ধীরে প্রত্নতাত্ত্ববিদদের কাছে ওই সংস্কৃতির নানা অজানা তথ্য সামনে আসে। স্থানীয় লুটেরাদের হাত থেকে ওই স্থানটি রক্ষা করতে সচেষ্ট হন তারা। বহু গবেষণার পর সম্প্রতি জানা যায়, ৩০০ খ্রিষ্টপূর্ব থেকে ৩০০ খ্রিষ্টাব্দ অর্থাৎ প্রায় ৬০০ বছর পর্যন্ত স্থায়িত্ব ছিল এখানকার সভ্যতার। এ সংস্কৃতিকে বলা হতো কালিমা সংস্কৃতি। মাটির নিচে সন্ধান মিলেছিল এ সভ্যতারই নানা সামগ্রীর। ইয়ামাস, ইয়োতোকো, সোনসো ও মালাগানা এ চার ভাগে বিভক্ত ছিল এ সংস্কৃতি। প্রাপ্ত প্রতসামগ্রী থেকে সেই চার রকম সংস্কৃতিরও আভাস মিলেছে। তার মধ্যেই সবচেয়ে নজরকাড়া ছিল সোনার মুখোশটি।

সোনার বিভিন্ন সামগ্রী ছাড়াও রহস্যময় সমাধি ও সেরামিকের মডেলও পাওয়া গেছে বেশ কয়েকটি। কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতার মুসেও দেল ওরো, অর্থাৎ সোনার সংগ্রহশালায় রাখা রয়েছে এ প্রতসামগ্রীগুলো। প্রায় ১৫০টি মুখোশ ও গহনা মিলেছিল এ খননের ফলে। মিলেছিল প্রায় তৎকালীন আড়াই কোটি টাকা মূল্যের মুদ্রাও। ইতিহাসবিদরা জানিয়েছেন, মৃত্যুর পর সমাধিস্থ করার সময় এ মারাত্মক বড় মুখোশ পরানো হতো সেই সময়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের।