মাটি পরীক্ষা করতে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পেছনে ব্যয় হচ্ছে ৬৩ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিনিধি : উন্নয়ন সহযোগীদের প্রদত্ত আর্থিক সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য অংশই যে বিদেশে চলে যায়, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের নামে ব্যয় করতে হয়, তার সর্বশেষ প্রমাণ পাওয়া যায় বিশ্বব্যাংকের একটি ঋণ প্রকল্পে।
ঢাকা শহরে ‘কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস ফর ডেভেলপমেন্ট অব রিস্ক সেনসেটিভ ল্যান্ড ইউস প্ল্যানিং প্র্যাকটিস ফর আরবান রেসিলিয়েন্স ইউনিট’ শীর্ষক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ঢাকা শহরের মাটির ধরন, প্রকৃতি, কোন কোন জায়গা বহুতল ভবন ও স্থাপনা নির্মাণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তা পরীক্ষা করা হবে। বাণিজ্যিক, আবাসিক ভবন, উপশহর গড়ে তোলার জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত ঢাকা শহর ও সংলগ্ন কোন কোন এলাকা ঝুঁকিমুক্ত এবং উপযোগী, তা বিস্তারিত পরীক্ষা করতে বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হবে। রাজউক কর্তৃপক্ষ এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এতে আপত্তি জানিয়েছিল। তাদের মতে, দেশীয় বিশেষজ্ঞরা, বিশেষ করে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের দিয়েই এ কাজ করা সম্ভব। বিভিন্ন সময়ে তাদের দিয়ে এ ধরনের কাজ করানোও হয়েছে। কিন্তু তাদের আপত্তি টেকেনি।
এ কাজের জন্য কনসালট্যান্ট নিয়োগ করতে হয়েছে। এ জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। যুক্তরাজ্য, ইতালি, স্পেন, তুরস্ক, ইরান ও জাপানের প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে এনকেওয়াই আর্কিটেক্টস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স নামের তুরস্কের একটি ফার্মকে বেছে নেওয়া হয়। এতে ব্যয় হবে স্থানীয় মুদ্রায় ৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রায় ৫৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। স্থানীয় মুদ্রার সংস্থান করবে সরকার। বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দেবে বিশ্বব্যাংক। ২০২০ সাল পর্যন্ত ৪০ জন বিদেশি বিশেষজ্ঞ এখানে অবস্থান করবেন। বেতন-ভাতা, বাড়িভাড়া, গাড়ি ক্রয় ছাড়াও কিছু যন্ত্রপাতি কেনা বাবদ এ অর্থ ব্যয় হবে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এর বিপক্ষে মত দিয়েছিলেন যে স্থানীয় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের দিয়ে এ কাজ সম্পাদন করা হলে মোট ব্যয় হবে বড়জোর ৫ কোটি টাকা। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা সম্ভব হয়নি। বিশ্বব্যাংক ঢাকা শহরের সংলগ্ন এলাকায় চারটি উপশহর গড়ে তুলতে চার হাজার কোটি টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। কয়েক শ বহুতল ভবন নির্মাণে তারা অর্থায়ন করবে। এই লোভেই সরকার জরুরি নয় জেনেও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পেছনে এ অর্থ ব্যয় করছে।